সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: নতুন সরকারের শপথের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ সামনে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) শীর্ষ কর্তৃপক্ষ। কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দা (Ajay Kumar Nanda) শহরের সমস্ত জয়েন্ট সিপি, ডিসি এবং থানার ওসিদের নিয়ে বৈঠকে একাধিক বিষয়ে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে ধর্মীয় ক্ষেত্রেও লাউড স্পিকার ব্যবহারে নিয়ম মানার নির্দেশ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ‘সরকারি নিয়মের বাইরে কোথাও লাউড স্পিকার বাজানো যাবে না, ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও সেই নিয়মই প্রযোজ্য।’ এই নির্দেশ কার্যকর করতে সমস্ত থানাকে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।
এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কমিশনার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে এফআইআর নথিভুক্ত করতে দেরি করা যাবে না।’ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, শহরে বেআইনি অস্ত্র, বোমা এবং বিস্ফোরক মজুত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই ধরনের অবৈধ সামগ্রী খুঁজে বের করে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। পাচার রোধেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে পুলিশকে। মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে শোনা যাচ্ছে, ‘নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।’
একই সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহারের উপর নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিদিনের রিপোর্ট জমা দিতে হবে থানাগুলিকে। পাশাপাশি সপ্তাহে একবার শীর্ষ স্তরেও সেই রিপোর্ট জমা পড়বে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক স্তরে আগেই কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন, ‘সরকারি কাজ নিয়ম মেনে করতে হবে। ভয় পেয়ে কাজ করার কোনও প্রয়োজন নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাথা উঁচু করে দায়িত্ব পালন করুন, কোনও সমস্যা হলে সরাসরি জানাবেন।’ মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) একই সুরে প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন দৃঢ়ভাবে। কাজ করলে মাথা নত করার প্রয়োজন হয় না।’ এই ধারাবাহিক বার্তার পরই পুলিশ প্রশাসনের তরফে এমন কড়া পদক্ষেপ সামনে এল।
লাউড স্পিকার নিয়ে এই নির্দেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ শহরের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা বা সামাজিক অনুষ্ঠানে শব্দবর্ধক যন্ত্রের ব্যবহার বহুদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। আদালতের নির্দেশিকা থাকলেও অনেক সময় তা মানা হয় না, এমন অভিযোগও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশের নতুন নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। শহরবাসীর একাংশ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, শব্দদূষণ কমাতে এবং নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। অন্য দিকে, কিছু মানুষের মতে, ধর্মীয় ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রয়োগ করতে গেলে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা, শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক নিরাপত্তা, এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই কলকাতা পুলিশ নতুনভাবে নিজেদের কাজের রূপরেখা তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। শহরের প্রতিটি থানাকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়। আগামী কয়েক সপ্তাহে এই নির্দেশ কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা নজরে থাকবে। তবে নতুন সরকারের শুরুর দিকেই প্রশাসনের এমন সক্রিয়তা শহরের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : CCTV municipal Bengal, Suvendu Adhikari urban monitoring | পুরসভায় ‘ডিজিটাল নজরদারি’ শুরু! সিসি ক্যামেরায় ঢেকে যাবে শহর-শিল্পাঞ্চল, শুভেন্দু সরকারের নতুন পদক্ষেপে বাড়ছে কড়াকড়ি




