সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের নগর প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। পুরসভা এলাকা ও শিল্পাঞ্চলগুলিতে কাজকর্মের উপর কড়া নজরদারি চালাতে সিসি ক্যামেরার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর সরকার। রাজ্যের সাতটি পুরনিগম, ১২১টি পুরসভা এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলকে এই নজরদারির আওতায় আনা হবে বলে বিধানসভায় জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। বুধবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা জানান, ‘পুরসভা এলাকায় কী কাজ হচ্ছে, কোথায় কী সমস্যা, তা সরাসরি দেখার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হচ্ছে।’ প্রশাসনিক স্তরে এই উদ্যোগকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এত বড় পরিসরে কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থা এর আগে চালু হয়নি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের রাস্তা, বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে শুরু করে পুরসভার অফিস, সব জায়গাতেই বসানো হবে সিসি ক্যামেরা। এই ক্যামেরাগুলির ফুটেজ একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে কোনও পুর এলাকায় কী ধরনের কাজ চলছে, তা রিয়েল-টাইমে দেখা সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের দাবি। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুধুমাত্র নাগরিক পরিষেবার কাজ নয়, পুরসভার দফতরগুলির অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপও এই নজরদারির আওতায় আসবে। কখন কর্মীরা অফিসে ঢুকছেন, কখন বেরোচ্ছেন, কাজের সময়ানুবর্তিতা কতটা বজায় থাকছে, এই সমস্ত বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ‘এই ব্যবস্থার ফলে দায়িত্ববোধ বাড়বে এবং কাজের গতি উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলেও অধিকাংশ পুরসভা ও পুরনিগম এখনও তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে নগর প্রশাসনের কাজকর্মের উপর সরাসরি নজর রাখা সরকারের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে পুর এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থা, আলো পরিষেবা, সব কিছুর উপর নজর রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। পাশাপাশি কোনও এলাকায় কাজের গাফিলতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হবে। এদিকে, আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) -এর নির্বাচন হতে পারে। এরপর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাকি পুরসভা ও পুরনিগমগুলির ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক কার্যকলাপের উপর নজরদারি বাড়ানোকে অনেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থার প্রভাব নির্বাচনে কতটা পড়তে পারে। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পুরসভাগুলির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। কোন দল কতগুলি পুরসভা ধরে রাখতে পারবে বা নতুন করে দখল করতে পারবে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। নগর প্রশাসনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার যে ক্রমশ বাড়ছে, এই উদ্যোগ তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, এই নজরদারি কতটা কার্যকর হবে এবং তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি কী ভাবে সামলানো হবে। অগ্নিমিত্রা পাল এ বিষয়ে বলেন, ‘নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করতে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর কথায়, প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।
রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। কোথায় কোথায় ক্যামেরা বসানো হবে, কী ভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা হবে, এই সমস্ত বিষয়ে পরিকল্পনা চলছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের নগর প্রশাসনের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নাগরিক পরিষেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের উপর সরাসরি নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। তবে এর প্রকৃত ফলাফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতির উপর। রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল এখন নজর রাখছে এই প্রকল্পের অগ্রগতির দিকে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির এই পদক্ষেপ আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে সর্বত্র।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi speech economy | ওয়ার্ক ফ্রম হোম থেকে সোনা কেনা বন্ধ, দেশবাসীর কাছে বড় আহ্বান নরেন্দ্র মোদীর




