৭৭ কেন্দ্রে ২৯৩ আসনের গণনা, কোথায় কোন বিধানসভা-বিশদ তালিকা প্রকাশ কমিশনের
সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা : WB Vote Counting Centres 2026 বিধানসভা নির্বাচন এর নতুন পরিসংখ্যানে আলোড়ন সৃষ্টি করতে চলেছে রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গের ভোটগণনা ঘিরে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতেই রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের গণনা কোন কোন কেন্দ্রে হবে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে Election Commission of India–র তরফে। আগে যেখানে মোট ৮৭টি গণনাকেন্দ্র নির্ধারিত ছিল, তা কমিয়ে ৭৭ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO – Chief Electoral Officer) দফতর থেকে। এই পুনর্বিন্যাসের ফলে নিরাপত্তা, নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে বলে দাবি কমিশনের। এক ধাক্কায় এক্কেবারে ১০ টি গণনা কেন্দ্র সরিয়ে দিয়ে নিরাপত্তা আরও জোরালো করেছেন বলেই উল্লেখ।
বলা যায় যে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কলকাতার ১১টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা হবে মোট পাঁচটি কেন্দ্রে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে Netaji Indoor Stadium সংলগ্ন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, যেখানে উত্তর কলকাতার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আসন-চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়ার ভোট গণনা করা হবে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘একাধিক আসনের গণনা একই কমপ্লেক্সে করার ফলে নজরদারি (Centralized Monitoring) আরও কার্যকর হবে।’ কলকাতার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গণনাকেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে Sakhawat Memorial School – এ ভবানীপুর, St. Thomas Boys School – এ কলকাতা বন্দর, Ballygunge Government High School – এ রাসবিহারী এবং Dr. B.R. Ambedkar Education University – এ বালিগঞ্জ কেন্দ্রের ভোটগণনা। এছাড়াও দক্ষিণ কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে APC Roy Polytechnic College, Behala College এবং Hastings House Complex – এ একাধিক আসনের গণনা করা হবে।

জেলাভিত্তিক হিসাব বলছে, উত্তর ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৭টি গণনাকেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে, কারণ এই জেলায় রয়েছে সর্বাধিক ৩৩টি বিধানসভা আসন। এখানে গণনা হবে Barasat Government College, Basirhat High School, Basirhat Polytechnic College, Bidhannagar College, Dinabandhu Mahavidyalaya, Guru Nanak College Campus এবং Rashtraguru Surendranath College – এ। এছাড়া অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে কোচবিহারে ৫টি, হুগলিতে ৫টি, মুর্শিদাবাদে ৫টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৬টি, নদিয়ায় ৪টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪টি, পূর্ব মেদিনীপুরে ৪টি এবং হাওড়ায় ৪টি গণনাকেন্দ্র রাখা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ছোট জেলাগুলিতে যেমন আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম ও কালিম্পং—প্রতিটি জেলায় একটি করে কেন্দ্র রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকেও এবার বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় (Three-tier Security System), সিসিটিভি নজরদারি (CCTV Surveillance) এবং লাইভ ওয়েবকাস্টিং (Live Webcasting) চালু থাকবে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘প্রতিটি ধাপেই স্বচ্ছতা (Transparency in Counting Process) বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, গণনাকেন্দ্র সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও ব্যবস্থাপনাকে আরও কেন্দ্রীয়করণ (Centralized Counting System) করার ফলে ফলাফল প্রকাশ দ্রুত ও নির্ভুল হবে। একইসঙ্গে অননুমোদিত প্রবেশ রুখতে ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই তালিকা প্রকাশের পর জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ কোন কেন্দ্রে কোন আসনের গণনা হবে, তা অনেক সময় রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে এজেন্ট মোতায়েন, নজরদারি এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা পরিচালনা করার এই পরিকল্পনাকে নির্বাচন কমিশনের একটি বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর ৪ মে-র দিকে, যখন এই সমস্ত কেন্দ্র থেকেই বেরিয়ে আসবে বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের চূড়ান্ত চিত্র।



