সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যে প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফার ভোটকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) সূত্রে খবর, ভোট প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে নিরাপত্তা, নজরদারি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কোনও ত্রুটি রাখা হয়নি। তবুও রাজনৈতিক মহল, সাধারণ ভোটার এবং প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটে অশান্তির আশঙ্কা আগেই অনুমান করা হয়েছিল, এবং সেই আশঙ্কাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন : Djokovic on Virat Kohli cricket | ভারতে আসার প্রস্তুতি, কোহলির সঙ্গে খেলতে চান জোকোভিচ, উত্তেজনা তুঙ্গে
প্রথম দফার ভোটে তুলনামূলকভাবে বড়সড় অশান্তির ঘটনা সীমিত থাকলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, ইভিএম (EVM) বিভ্রাট, বোমা বিস্ফোরণ এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির খবর সামনে এসেছিল। বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় sporadic violence-এর খবর সামনে আসায় কমিশন দ্বিতীয় দফার আগে আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সংবেদনশীল বুথে বিশেষ নজরদারি চালু করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটকে “violence-free” রাখতে অতিরিক্ত ১১ জন পুলিশ অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, কমিশন ভোটকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি আগেভাগেই বুঝতে পেরেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটে মূল লড়াই আরও তীব্র হওয়ার কারণেই উত্তেজনার পারদ চড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার, পাল্টা অভিযোগ, বুথ দখল, ভোটার প্রভাবিত করার আশঙ্কা এবং অতীতের নির্বাচনী হিংসার অভিজ্ঞতা, এসব মিলিয়ে এই দফাকে অনেকেই “সর্বাধিক স্পর্শকাতর” হিসেবে দেখছেন। বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি কেন্দ্রকে ঘিরে আগে থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশের বক্তব্য, প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও দ্বিতীয় দফায় রাজনৈতিক মেরুকরণ বেশি হওয়ায় ভয় ও আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে। আবার অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং কমিশনের নজরদারির ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি নজরদারি, webcasting, quick response team এবং route march-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অশান্তির সম্ভাবনা শুধুমাত্র নিরাপত্তা দিয়ে পুরোপুরি ঠেকানো যায় না; প্রয়োজন দলগুলির দায়িত্বশীল আচরণও।
এখন নজর দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনের দিকে। রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিয়েই অপেক্ষায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক থেকে সাধারণ ভোটার, সবাই।
ছবি : প্রতীকী



