সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা ২৭ এপ্রিল ২০২৬: উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর-এ ফের প্রকাশ্যে গুলিচালনার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের অধীন এলাকায় দিনের আলোয় এক যুবককে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই যুবক, রাজা মল্লিককে (Raja Mallik) দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষত ভোটের আবহে এমন ঘটনা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বালিভাড়া অঞ্চলে হঠাৎ করেই মোটরবাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা রাজা মল্লিককে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে স্থানান্তরিত করা হয় Jawaharlal Nehru Memorial Hospital-এ। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক এবং চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, “দিনের আলোয় এমনভাবে গুলি চালানো হবে, সেটা কেউ ভাবতেও পারেনি। নিরাপত্তা নিয়ে ভয় তৈরি হয়েছে।” স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে দুষ্কৃতীরা এত সহজে এসে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যেতে পারল।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় Barrackpore Police Commissionerate-এর অধীনে Bijpur Police Station-এর পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই হামলার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পূর্ব বিবাদের যোগ থাকতে পারে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, “ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। টার্গেট করেই গুলি চালানো হয়েছে।” যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
ভোটের আবহে এই ধরনের সহিংস ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ায় এবং জনমনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে শহর ও শহরতলির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হোক এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে,আসল কারণ কী এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা স্পষ্ট হবে পরবর্তী তদন্তেই।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী



