সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছল। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) জানিয়ে দিয়েছে, ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলা দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এই বিপুল নিরাপত্তা বন্দোবস্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সমান গুরুত্ব দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হলেও সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas) জেলায়। একই সঙ্গে কলকাতা (Kolkata) শহরেও জোরদার নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় মোট ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলও রাজ্যে আসছে। বুধবার, অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের আগের দিন তারা পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছবে এবং পরের দিন ভোট পরিচালনার প্রক্রিয়া সরেজমিনে খতিয়ে দেখবে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও (Tamil Nadu) ওই দল সফর করবে বলে জানা গিয়েছে।
দ্বিতীয় দফার নিরাপত্তা চিত্রে উত্তর ২৪ পরগনা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এই জেলায় মোট ৫০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন পুলিশ প্রশাসনিক অংশে আলাদা করে বাহিনী ভাগ করা হয়েছে। বারাসত (Barasat) পুলিশ জেলায় থাকবে ১১২ কোম্পানি, বনগাঁ (Bongaon) এলাকায় ৬২ কোম্পানি, বসিরহাট (Basirhat)-এ ১২৩ কোম্পানি, বিধাননগরে (Bidhannagar) ৫০ কোম্পানি এবং ব্যারাকপুর (Barrackpore) কমিশনারেট এলাকায় সর্বাধিক ১৬০ কোম্পানি বাহিনী দায়িত্বে থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও (South 24 Parganas) মোতায়েন করা হচ্ছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাহিনী। সুন্দরবন (Sundarbans) অঞ্চলে থাকবে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে (Baruipur) ১৬১ কোম্পানি এবং ডায়মন্ড হারবারে (Diamond Harbour) ১৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দায়িত্বে থাকবে। এই জেলাগুলিতে অতীতে ভোটের সময় উত্তেজনার ইতিহাস থাকায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। হাওড়া (Howrah) জেলাতেও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, অন্যদিকে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদীয়া (Nadia) জেলায় কৃষ্ণনগর (Krishnanagar) পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি এবং রানাঘাট (Ranaghat) এলাকায় ১২৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হুগলি (Hooghly) জেলায়ও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চন্দননগর (Chandannagar) পুলিশ কমিশনারেটে থাকবে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী এবং হুগলি গ্রামীণ এলাকায় মোতায়েন করা হচ্ছে ২৩৪ কোম্পানি। পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলায় মোট ৪৪৬৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে ২৬০ কোম্পানি বাহিনী দায়িত্বে থাকবে। পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman)-এর আসানসোল-দুর্গাপুর (Asansol-Durgapur) পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় তুলনামূলক কম বাহিনী, মোট ১৩ কোম্পানি রাখা হয়েছে। রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় মোট ৫,১৭২টি বুথে ভোট হবে। এখানে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। শহরের সংবেদনশীল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং ব্যস্ত অঞ্চলগুলিতে বাড়তি নজরদারি চালানো হবে বলে উল্লেখ।
একইভাবে, প্রথম দফার ভোটেও বিপুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেই পর্যায়ে ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সবচেয়ে বেশি বাহিনী মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলায় ৩১৬ কোম্পানি। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২৪০ কোম্পানি এবং জঙ্গিপুর (Jangipur) এলাকায় ৭৬ কোম্পানি দায়িত্বে ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs) আগেই নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন জওয়ান থাকতে হবে। সেই অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে মোতায়েন হওয়া বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা কয়েক লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিটি কোম্পানির জওয়ানদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বুথ নিরাপত্তা, টহলদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের কাজে। নির্বাচন কমিশনের এই ব্যাপক প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখা। বিভিন্ন জেলায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুথের আশেপাশে কড়া নজরদারি চালানো হবে।
রাজনৈতিক মহলে এই বিপুল বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি, অন্যদিকে ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দুই দিক থেকেই প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে। তবে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। আসন্ন দ্বিতীয় দফার ভোটে এই বিপুল বাহিনী মোতায়েন যে নির্বাচনের গুরুত্ব এবং উত্তেজনার মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ভোটের দিন কীভাবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Election 2026 Exit Poll : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬, বুথ ফেরত সমীক্ষার সার্বিক বিশ্লেষণ



