সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন: আমেরিকার (United States of America বা USA) লুইজিয়ানা (Louisiana) প্রদেশে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত আট শিশুর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার ভোরে শ্রিভপোর্ট (Shreveport) শহরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। নিহতদের বয়স এক থেকে ১৪ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বন্দুকধারীও পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। শ্রিভপোর্ট পুলিশ (Shreveport Police Department) -এর প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৬টা নাগাদ প্রথম গুলির শব্দ শোনা যায়। একাধিক জায়গায় ছড়িয়ে থাকা এই হামলায় মোট ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে আট জন শিশুর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। বাকি আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশপ্রধান ওয়েন স্মিথ (Wayne Smith) জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনাটি আমাদের শহরের জন্য এক গভীর আঘাত। এত কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে।’ কী কারণে এই হামলা, তা এখনও নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও, প্রাথমিক ভাবে পারিবারিক বিবাদের সম্ভাবনার দিকেই নজর দিচ্ছে পুলিশ। ঘটনাস্থলগুলি নিয়ে উঠে এসেছে একাধিক তথ্য। শ্রিভপোর্ট পুলিশের মুখপাত্র ক্রিস্টোফার বোর্ডেলন (Christopher Bordelon) জানিয়েছেন, ‘মোট তিনটি জায়গায় গুলির ঘটনা ঘটেছে এবং সব ক্ষেত্রেই একই ব্যক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’ ৭৯ ওয়েস্ট স্ট্রিট (79 West Street) -এর দু’টি বাড়িতে প্রথমে গুলি চালানো হয়। পরে কাছাকাছি হ্যারিসন স্ট্রিট (Harrison Street) -এর একটি বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।এই ধারাবাহিক হামলার পর অভিযুক্ত একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। সেই সময় পুলিশের টহলদারি দল তাকে ধাওয়া করে। পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ‘অভিযুক্তকে আটকানোর চেষ্টা চলাকালীনই এই ঘটনা ঘটে।’
অভিযুক্তের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নিহত শিশুদের নামও গোপন রাখা হয়েছে পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, নিহতদের মধ্যে কয়েক জন অভিযুক্তের নিজের সন্তান হতে পারে। এই তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি আরও শোকাবহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘হঠাৎ ভোরে একের পর এক গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আমরা প্রথমে কিছুই বুঝতে পারিনি, পরে পুলিশ এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।’ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
এই ধরনের ঘটনা আমেরিকায় নতুন নয়, তবে শিশুদের লক্ষ্য করে এমন হামলা বারবার প্রশ্ন তুলছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। বন্দুক ব্যবহারের নিয়ম এবং তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক স্তরে এমন সহিংসতা কীভাবে চরম পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। শ্রিভপোর্ট শহরে শোকের আবহ নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই শোকসভা আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ‘আমরা প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখছি এবং এই ঘটনার পেছনের কারণ জানার চেষ্টা করছি।’ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না। তবে এই ঘটনায় যে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব পড়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে শিশুদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। লুইজিয়ানার এই মর্মান্তিক ঘটনা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একাধিক নিরীহ শিশুর প্রাণহানি মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে। এখন নজর তদন্তের দিকে, কেন এমন ঘটনা ঘটল এবং কীভাবে ভবিষ্যতে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব, সেই উত্তর খুঁজছে প্রশাসন ও সমাজ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : US Visa new rules 2026 | সোশ্যাল মিডিয়া না দেখালে মিলবে না আমেরিকার ভিসা! ৩০ মার্চ থেকে নতুন নিয়ম



