সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) আবহাওয়ায় আপাতত স্বস্তির কোনও ইঙ্গিত নেই দক্ষিণের জেলাগুলিতে। কলকাতা (Kolkata) সহ বিস্তীর্ণ দক্ষিণবঙ্গে গরম ও আর্দ্রতার অস্বস্তি আগামী কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে বলে আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Meteorological Department) সূত্রে খবর। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি থাকায় সেখানে আবহাওয়ার চরিত্র ভিন্ন চেহারা নিচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে শুষ্ক উত্তর-পশ্চিমি বায়ুর প্রভাবে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়বে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে দিনের বেলায় রোদ ও গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে, আর রাতেও অস্বস্তি কমার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া (Howrah), হুগলি (Hooghly), উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas), পূর্ব মেদিনীপুর (East Medinipur), পূর্ব বর্ধমান (East Burdwan) এবং নদিয়া (Nadia) জেলায় শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৭
হাওয়া অফিসের এক আধিকারিকের কথায়, ‘দক্ষিণবঙ্গে আপাতত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই সীমিত, ফলে গরমের অস্বস্তি থেকে তেমন মুক্তি মিলবে না।’ এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকছে, বিশেষত যাঁরা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যার মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই একই আবহাওয়া থাকবে না। পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর (West Medinipur), ঝাড়গ্রাম (Jhargram), পুরুলিয়া (Purulia), বাঁকুড়া (Bankura), পশ্চিম বর্ধমান (West Burdwan), বীরভূম (Birbhum) এবং মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বৃষ্টি বিস্তৃত আকার নেবে না, এবং কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেই উল্লেখ।
আবহাওয়া দফতরের মতে, ‘এই বৃষ্টিপাত মূলত বিচ্ছিন্ন এলাকাভিত্তিক হবে, যার প্রভাব তাপমাত্রার উপর খুব বেশি পড়বে না।’ ফলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও সামগ্রিক গরম পরিস্থিতিতে তেমন পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে আবহাওয়ার চিত্র ভিন্ন। সেখানে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং (Darjeeling), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), কালিম্পং (Kalimpong), কোচবিহার (Cooch Behar) এবং আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
রবিবারের জন্য জারি করা সতর্কতায় বলা হয়েছিল যে, এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড় ও ডুয়ার্স এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোমবারও উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আবারও ঝড়বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসের গতিবেগ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের পেছনে শুধু মৌসুমি বায়ু নয়, স্থানীয় বায়ুচাপের পার্থক্য এবং আর্দ্রতার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে পাহাড়ি ও অরণ্যঘেরা এলাকার কারণে আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত হয়, যা বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এদিকে দক্ষিণবঙ্গে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে হিট ইনডেক্স বা অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হতে পারে। ফলে শরীরে ক্লান্তি, জলশূন্যতা বা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই সময়ে পর্যাপ্ত জলপান, রোদে কম বের হওয়া এবং হালকা পোশাক পরা প্রয়োজন। পাশাপাশি আবহাওয়ার এই দুই ভিন্ন চিত্র রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে বেশ বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। একদিকে দক্ষিণবঙ্গে তীব্র গরম ও শুষ্কতা, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝড়, দু’টি বিপরীত আবহাওয়ার অভিজ্ঞতা একই সময়ে পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। কিন্তু, আগামী কয়েকদিন এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে আপাতত দক্ষিণবঙ্গের মানুষের গরমের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, আর উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের প্রস্তুত থাকতে হবে বৃষ্টি ও ঝড়ের জন্য।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Zaheer Marriage | সোনাক্ষী-জাহির বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শত্রুঘ্ন সিন্হা, জল্পনায় ইতি




