IPL ticket fraud, DDCA controversy | আইপিএলে টিকিট জালিয়াতির ছায়া! বৈধ টিকিট নিয়েও ঢুকতে পারলেন না ডিডিসিএ কর্তা, দিল্লি স্টেডিয়ামে চাঞ্চল্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সুজয়নীল দাশগুপ্ত, নতুন দিল্লি : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) -এর মতো উচ্চপ্রোফাইল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে টিকিট জালিয়াতির অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার ঘটনাটি ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কারণ অভিযোগ তুলেছেন খোদ দিল্লি ও ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (Delhi and District Cricket Association) -এর এক কর্তা। বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও স্টেডিয়ামে ঢুকতে না পারার অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডিডিসিএ-র ডিরেক্টর আনন্দ বর্মা (Anand Verma)। ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে আইপিএলের নিরাপত্তা ও টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির একটি আইপিএল ম্যাচকে কেন্দ্র করে, যেখানে দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals) মুখোমুখি হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians)-এর। সেই ম্যাচ দেখতে নিজের আত্মীয়দের নিয়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছেছিলেন আনন্দ বর্মা। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের কাছে হসপিটালিটি বক্সের বৈধ টিকিট ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের জানিয়ে দেন, ওই টিকিট ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়ে গিয়েছে।

এই ঘটনার পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আনন্দ বর্মা জানিয়েছেন, ‘আমাদের টিকিটের বারকোড নাকি আগে স্ক্যান হয়ে গিয়েছে। ফলে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’ তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, ‘যে টিকিট আমরা বৈধ ভাবে পেয়েছি, সেটি অন্য কেউ ব্যবহার করে ফেলল কীভাবে, এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারছে না।’ ঘটনার পর ডিডিসিএ-র অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আনন্দ। তাঁর অভিযোগ, সংস্থার যে আধিকারিক আইপিএল টিকিটের দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এমনকি সংস্থার মুখ্য আর্থিক আধিকারিক মনন গুপ্তাw (Manan Gupta) বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি। আনন্দ বর্মার কথায়, ‘এই ঘটনা প্রমাণ করে সিস্টেমের মধ্যে বড় ধরনের ফাঁকফোকর রয়েছে। যদি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকও এই সমস্যার মুখে পড়েন, তা হলে সাধারণ দর্শকদের অবস্থা কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘যাঁরা আসল টিকিটধারী নন, তাঁরা কী ভাবে স্টেডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ঢুকে পড়ছেন?’

এই ঘটনার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। টিকিট জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা আইপিএলের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু ডিডিসিএ-র তরফে এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করা হয়েছে। সংস্থার সচিব অশোক শর্মা (Ashok Sharma) জানিয়েছেন, ‘এটি কোনও জালিয়াতির ঘটনা নয়, বরং প্রযুক্তিগত সমস্যা।’ তাঁর দাবি, স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় মাঝে মাঝে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে এই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অশোক শর্মা বলেন, ‘দিল্লি ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। স্ক্যানার ব্যবহারের সময় কখনও কখনও বারকোড ঠিক মতো কাজ করে না। সেটিই এই ঘটনার কারণ হতে পারে।’ যদিও তাঁর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অভিযোগকারী।

এই ঘটনা নতুন করে আইপিএলের টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয় এই টুর্নামেন্টে। অনলাইন বুকিং, বারকোড স্ক্যানিং, এসমস্তই ডিজিটাল ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেই ব্যবস্থার মধ্যেই যদি ফাঁক থেকে যায়, তা হলে জালিয়াতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মতে, বড় ম্যাচগুলিতে টিকিটের চাহিদা এত বেশি যে কালোবাজারি ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। বিশেষ করে হসপিটালিটি বক্স বা ভিআইপি টিকিটের ক্ষেত্রে এই ধরনের অনিয়ম আরও বড় আকার নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে টিকিট যাচাইয়ের পদ্ধতি আরও কঠোর করা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকে উন্নত করার দাবি উঠছে। দর্শকদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আয়োজকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু আইপিএলের মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে, এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছে। আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IPL new rule 16 players limit, BCCI new IPL rules 2026 | আইপিএলে আচমকা কড়াকড়ি! মাঠে ১৬ জনের সীমা, নতুন নিয়ম ভাঙলে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন ক্রিকেটাররা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন