সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে রাজনৈতিক উত্তাপ। শাসক ও বিরোধী শিবিরের তর্ক-বিতর্কের পাশাপাশি এখন নজর কেড়েছে প্রার্থীসংখ্যার চিত্র। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ১৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন। এই পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বহু কেন্দ্রে লড়াই হতে চলেছে বহুমুখী এবং জটিল। রাজ্যে এ বার দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ভোট হবে ১৫২টিতে। এই দফাতেই উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলা, দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar), কোচবিহার (Cooch Behar), উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur), দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) এবং মালদহ (Malda) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম (Jhargram), পুরুলিয়া (Purulia), বাঁকুড়া (Bankura) এবং দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম (Birbhum), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad), পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর (Purba & Paschim Medinipur) এবং পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman)-এর একাধিক আসনেও ভোটগ্রহণ হবে এই দফাতেই।
প্রার্থীসংখ্যার বিচারে নজর কেড়েছে কোচবিহার দক্ষিণ (Cooch Behar Dakshin) এবং ইটাহার (Itahar) কেন্দ্র। এই দুই আসনে সর্বাধিক ১৫ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের কেন্দ্রে ভোটের সমীকরণ অনেকটাই জটিল হয়ে ওঠে, কারণ ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি ছোট দল এবং নির্দল প্রার্থীরাও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেন। ১৪ জন প্রার্থী রয়েছে এমন কেন্দ্রের তালিকাও বেশ বড়। মাথাভাঙা (Mathabhanga), ধূপগুড়ি (Dhupguri), ময়নাগুড়ি (Maynaguri), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), দেবগ্রাম-ফুলবাড়ি (Debgram-Phulbari), চাকুলিয়া (Chakulia), রায়গঞ্জ (Raiganj), রতুয়া (Ratua), সুজাপুর (Sujapur), রানিনগর (Raninagar), দুর্গাপুর পশ্চিম (Durgapur Paschim) এবং রামপুরহাট (Rampurhat)-এ এই সংখ্যক প্রার্থী লড়ছেন। ১৩ জন প্রার্থী রয়েছে এমন কেন্দ্রগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাজগঞ্জ (Rajganj), হেমতাবাদ (Hemtabad), কালিয়াগঞ্জ (Kaliaganj), বালুরঘাট (Balurghat), গাজোল (Gazole), চাঁচল (Chanchal), কান্দি (Kandi), বহরমপুর (Berhampore), নওদা (Naoda), পুরুলিয়া (Purulia), রানিবাঁধ (Ranibandh) এবং আসানসোল উত্তর (Asansol Uttar)। শিল্পাঞ্চল আসানসোল উত্তরেও (Asansol North) প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই কেন্দ্রটি আলাদা নজরে রয়েছে।
১২ এবং ১১ জন প্রার্থীর লড়াইও একাধিক কেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে। কোচবিহার উত্তর (Cooch Behar Uttar), ইসলামপুর (Islampur), ইংলিশবাজার (English Bazar), ফরাক্কা (Farakka) প্রভৃতি কেন্দ্রে ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে শিলিগুড়ি (Siliguri), তমলুক (Tamluk), নন্দীগ্রাম (Nandigram), পিংলা (Pingla), বাঘমুণ্ডি (Baghmundi), পাণ্ডবেশ্বর (Pandaveswar)-এর মতো কেন্দ্রে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীসংখ্যা ১০ বা তার কম এমন কেন্দ্রের তালিকাও দীর্ঘ। তুফানগঞ্জ (Tufanganj), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar), মেদিনীপুর (Medinipur), বোলপুর (Bolpur) প্রভৃতি কেন্দ্রে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। আবার ৯, ৮ ও ৭ জন প্রার্থীর লড়াইও বহু কেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুস্তরীয়।
সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছে চন্দ্রকোনা (Chandrakona) কেন্দ্রে, সেখানে মাত্র ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া দার্জিলিং, শালবনি (Salboni), শালতোড়া (Saltora) এবং কুলটিতে (Kulti) ৬ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা ও বাতিলের পরিসংখ্যানও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম দফায় মোট ১৫২৫টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল। যাচাইয়ের পরে বৈধ মনোনয়ন দাঁড়িয়েছে ১৪৭৮টি। অর্থাৎ বেশ কিছু মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। করণদিঘি (Karandighi) কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ১৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ২টি বাতিল হয়েছে। সবচেয়ে কম মনোনয়ন জমা পড়েছে এগরা (Egra), চন্দ্রকোনা (Chandrakona), শালবনি (Salboni) এবং শালতোড়া (Saltora)-য়— প্রতিটি কেন্দ্রে ৬টি করে। অন্যদিকে নাগরাকাটা (Nagrakata), কার্শিয়ং (Kurseong), করণদিঘি (Karandighi), গঙ্গারামপুর (Gangarampur), গাজোল (Gazole), মোথাবাড়ি (Mothabari), সাগরদিঘি (Sagardighi) এবং বান্দোয়ান (Bandwan)-এ সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে ২টি করে।
নির্বাচনের আগে এই প্রার্থীসংখ্যার চিত্র রাজনৈতিক দলগুলির কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। যেখানে প্রার্থী বেশি, সেখানে ভোটের অঙ্ক জটিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে যেখানে প্রার্থী কম, সেখানে লড়াই সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এই সংখ্যার গুরুত্ব বাড়ছে। ভোটারদের সামনে এখন একাধিক বিকল্প, আর সেই কারণেই প্রতিটি কেন্দ্রে প্রচার, সংগঠন এবং সমীকরণের গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলার ভোটমঞ্চে প্রথম দফার এই পরিসংখ্যান ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : food adulteration India NHRC meeting, AI food safety India | খাদ্যে ভেজাল রুখতে বড় পদক্ষেপ, এনএইচআরসি বৈঠকে এআই নজরদারি ও কড়া আইন প্রস্তাব




