Vrindavan boat accident, Yamuna boat capsized | বৃন্দাবনে যমুনায় মর্মান্তিক নৌকাডুবি: পন্টুন সেতুতে ধাক্কার পর উল্টে গেল নৌকা, মৃত্যু অন্তত ১০, নিখোঁজ আরও; শোকপ্রকাশ মোদী-যোগী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মথুরা : উত্তরপ্রদেশের মথুরার বৃন্দাবন (Vrindavan, Mathura)-এ যমুনা নদীতে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা সকলেই পাঞ্জাবের লুধিয়ানা (Ludhiana, Punjab)-এর বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পর্যটক মহলে। এখনও কয়েক জন নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের খোঁজে জোরকদমে চলছে উদ্ধার অভিযান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর প্রায় ৩টে নাগাদ বৃন্দাবনের কেসি ঘাট (Kesi Ghat) -এর কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। লুধিয়ানা থেকে প্রায় ৩০ জনের একটি পর্যটকদল ধর্মীয় সফরে বৃন্দাবনে এসেছিল। যমুনায় নৌবিহারের জন্য তারা দু’টি নৌকা ভাড়া করে। নদীর উপর তৈরি পন্টুন সেতুর কাছে পৌঁছতেই একটি নৌকা আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। তার পরই সেটি উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা জলে পড়ে যান।

আরও পড়ুন : food adulteration India NHRC meeting, AI food safety India | খাদ্যে ভেজাল রুখতে বড় পদক্ষেপ, এনএইচআরসি বৈঠকে এআই নজরদারি ও কড়া আইন প্রস্তাব

ছবি : সংগৃহীত

ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মানুষজন এবং প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (State Disaster Response Force)-এর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করে। জলে তলিয়ে যাওয়া যাত্রীদের খোঁজে ডুবুরিরা নদীতে নামে। আগরা রেঞ্জের ডিআইজি শৈলেশ পাণ্ডে (Shailesh Pandey) জানান, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রায় ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।’ এখনও কয়েক জনের খোঁজ মেলেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের দ্রুত বৃন্দাবনের রামকৃষ্ণ মিশন হাসপাতাল (Ramakrishna Mission Hospital)-এ ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

মথুরার জেলাশাসক চন্দ্রপ্রকাশ সিংহ (Chandra Prakash Singh) জানিয়েছেন, ‘নিখোঁজদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে। ডুবুরি এবং উদ্ধারকারী দল নদীর বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই প্রশাসন সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, পন্টুন সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণেই নৌকাটি ভারসাম্য হারায়। তবে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কি না, বা নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে এবং দায় নির্ধারণ করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি শোকবার্তায় বলেন, ‘বৃন্দাবনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’ পাশাপাশি মৃতদের পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)ও ঘটনার পরপরই শোকপ্রকাশ করেন। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করার কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বৃন্দাবন দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র। সারা দেশ থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। বিশেষ করে যমুনা নদীতে নৌবিহার পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। তবে এই দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, নদীতে নৌচালনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম থাকা প্রয়োজন। পন্টুন সেতুর কাছাকাছি এলাকায় নৌকা চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া উচিত বলেও মত তাঁদের। এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে নৌকাডুবির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। আপাতত মৃতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jayant Chaudhary NCVET workshop | এনসিভিইটি কর্মশালার উদ্বোধন করবেন জয়ন্ত চৌধুরী, দক্ষতা উন্নয়নে নতুন জোর

Sasraya News
Author: Sasraya News