সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ: নির্বাচন যত ঘনাচ্ছে, ততই নতুন নতুন মুখ সামনে আসছে ভোটের প্রচারে। মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) -এর সামশেরগঞ্জ (Samserganj) বিধানসভা কেন্দ্রে এবার আলোচনার কেন্দ্রে দুই নারী, পারুল দাস (Parul Das) ও পিঙ্কি দাস (Pinky Das)। সাম্প্রতিক অতীতে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত হরগোবিন্দ দাস (Hargobind Das) ও চন্দন দাস (Chandan Das) -এর স্ত্রী তাঁরা। এবার তাঁরা সরাসরি বিজেপি (BJP) -এর হয়ে ভোটের প্রচারে নামছেন, যা ঘিরে জেলায় রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। বুধবার ধুলিয়ান (Dhulian) পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। বিজেপির মহিলা মোর্চা (Mahila Morcha) -এর উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ মালদা (South Malda) জেলার মহিলা মোর্চার সভানেত্রী সুতপা মুখোপাধ্যায় (Sutapa Mukhopadhyay) সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সেই মঞ্চেই দেখা যায় পারুল ও পিঙ্কিকে, যাঁরা এতদিন ছিলেন রাজনৈতিক হিংসার শিকার পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত, এখন তাঁরা প্রচারের সক্রিয় মুখ।
সূত্রের খবর, সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ষষ্ঠী চরণ ঘোষ (Sasthi Charan Ghosh) -এর সমর্থনে এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত থেকে পারুল দাস বলেন, ‘আমাদের কঠিন সময়ে বিজেপি পাশে ছিল। অন্য কেউ খোঁজ নেয়নি।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পিঙ্কি দাসও একই সুরে কথা বলেন। তাঁর দাবি, ‘আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা খুব কম লোকই করেছে। কিন্তু যারা পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের কথা ভুলব না।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁরা কার্যত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে নানা মহলে। কারণ, মৃতদের পরিবার আগে বামপন্থী (Left front) সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই পরিবার থেকেই এবার বিজেপির হয়ে প্রচারে নামা, রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও অতীতে বাম নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল বলে জানা যায়। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee) এবং মহম্মদ সেলিম (Mohammad Salim) তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই যোগাযোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, শুরু থেকেই তাঁরা এই পরিবারগুলির পাশে ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছেন। সেই কারণেই পারুল ও পিঙ্কির এই সিদ্ধান্ত। যদিও বিরোধী শিবির এই দাবিকে রাজনৈতিক কৌশল বলেই ব্যাখ্যা করছে।
এই সম্মেলনের পর বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র সভাতেই নয়, আগামী দিনে প্রচারের মাঠেও দেখা যাবে পারুল ও পিঙ্কিকে। এমনকী একই পরিবারের শাশুড়ি ও বৌমা একসঙ্গে প্রচারে অংশ নেবেন বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি ভোটের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের মতো সংবেদনশীল জেলায় রাজনৈতিক হিংসা বহুদিনের বাস্তবতা। সেই প্রেক্ষাপটে হিংসার শিকার পরিবারের সদস্যদের সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামা একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এতে একদিকে যেমন আবেগের দিক রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে পারে।’ আবার অন্যদের মতে, ‘ভোটের সময় এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়।’ তবে যে ভাবেই দেখা হোক, পারুল ও পিঙ্কির প্রচারে নামা ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) বা বাম শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, খুব শীঘ্রই এই ইস্যুতে পাল্টা বক্তব্য সামনে আসতে পারে। সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের লড়াই এমনিতেই ত্রিমুখী। তার মধ্যে এই নতুন অধ্যায় ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের মধ্যে এই ঘটনাটি কতটা সাড়া ফেলবে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। পারুল দাসের কথায়, ‘আমরা যা দেখেছি, তা ভুলব না। যারা পাশে ছিল, তাদের সঙ্গে থাকব।’ এই বক্তব্যেই যেন তাঁদের সিদ্ধান্তের সারবত্তা ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে পিঙ্কি দাস বলেন, ‘আমরা এবার নিজেরাই মানুষের কাছে যাব, আমাদের কথা বলব।’ মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এক নতুন পথচলার গল্পও বটে। ভোটের ময়দানে এই দুই নারীর উপস্থিতি আগামী দিনে কী ফল বয়ে আনবে, এখন সেই দিকেই নজর সবার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BJP West Bengal, Tumpa Koyal | কামদুনি কাণ্ডের প্রতিবাদী টুম্পা কয়াল বিজেপিতে, নারী সুরক্ষা ইস্যুতে তীব্র হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি




