GSI Mineral Exploration India | ১৭৫ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়! খনিজ অনুসন্ধানে রেকর্ড সাফল্য, অ্যান্ডামানে মিলল প্রাকৃতিক হাইড্রোজেন, জিএসআইয়ের বড় ঘোষণা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও ভূ-বিজ্ঞান গবেষণায় এক ঐতিহাসিক বছর পার করল জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (Geological Survey of India বা GSI)। ফিল্ড সিজন ২০২৫-২৬ (Field Season 2025-26) সফলভাবে শেষ করে সংস্থাটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কথা সামনে এনেছে। খনিজ অনুসন্ধান, গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মূল্যায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা এবং ভূ-ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বছরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে খনি মন্ত্রক (Ministry of Mines)। এই বছরটি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, GSI তাদের ১৭৫ বছরের পথচলা পূর্ণ করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে সংস্থাটি দেশের ভূতাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Aatmanirbhar Bharat) এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ (Viksit Bharat 2047) -এর লক্ষ্যে এগোতে এই সাফল্যকে একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড সিজন চলাকালীন GSI মোট ৪৫৮টি খনিজ অনুসন্ধান প্রকল্প হাতে নেয়। এর মধ্যে ২৩০টি প্রকল্প ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উপর কেন্দ্রীভূত। বিশেষ করে ৯২টি প্রকল্প বিরল মাটি উপাদান (Rare Earth Elements) -এর অনুসন্ধানে পরিচালিত হয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এক আধিকারিকের কথায়, ‘ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতিতে এই ধরনের খনিজের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে’।

আরও পড়ুন : India Canada energy partnership | ভারত-কানাডা সম্পর্কে নতুন গতি: জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা ও নিরাপত্তায় বিস্তৃত রূপরেখা ঘোষণা

সংস্থাটি এই সময়কালে ৮০টি ভূতাত্ত্বিক রিপোর্টও (Geological Reports) হস্তান্তর করেছে, যা খনিজ ব্লক নিলামের জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে ৩৯টি রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি ৪টি কয়লা ব্লক এবং ১১টি এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স ব্লক উন্নয়নের জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়াতে ৭টি রিজিওনাল মিনারেল টার্গেটিং ব্লক এবং রাজস্থানের (Rajasthan) সিওয়ানা (Siwana) অঞ্চলে ১৫টি ব্লক ন্যাশনাল মিনারেল এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্ট (NMET)-এর মাধ্যমে অনুসন্ধানের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বছরের অন্যতম বড় আবিষ্কার হল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে (Andaman & Nicobar Islands) প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হাইড্রোজেনের সন্ধান। এই আবিষ্কার ভারতের শক্তি সম্পদের মানচিত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। পরিষ্কার শক্তির উৎস হিসেবে হাইড্রোজেনের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে, ফলে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের শক্তি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ভূ-বৈজ্ঞানিক তথ্যভাণ্ডার শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ২২,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় উচ্চ-রেজোলিউশনের ম্যাপিং করা হয়েছে। ডেকান ট্র্যাপস (Deccan Traps) অঞ্চলে ২৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ভূ-রাসায়নিক সমীক্ষা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ৩.৮ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় গ্রাউন্ড জিওফিজিক্যাল সার্ভে এবং ৯৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় এয়ারবোর্ন সার্ভে করা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে GSI আরও এক ধাপ এগিয়েছে। রাজস্থান এবং ওডিশা (Odisha)-তে ড্রোন-ভিত্তিক ম্যাগনেটিক সার্ভে চালু করা হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর খনিজ চিহ্নিতকরণ মডেল তৈরির জন্য সংস্থাটি ‘ইন্ডিয়া এআই হ্যাকাথন ২০২৫’ -এ জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে।

ন্যাশনাল জিওসায়েন্স ডেটা রিপোজিটরিতেও (NGDR বা National Geoscience Data Repository) বড় উন্নতি হয়েছে। এখানে এখন ১৮,০০০-র বেশি রিপোর্ট রয়েছে এবং প্রতি মাসে প্রায় ৯,০০০ বার ডাউনলোড হচ্ছে। ‘ভূনিধি’ (Bhoonidhi) প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় তথ্যের সহজলভ্যতা বেড়েছে। পাশাপাশি বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) একটি ন্যাশনাল জিওসায়েন্স হাব তৈরির কাজ চলছে। ভূ-ঝুঁকি মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ল্যান্ডস্লাইড ফোরকাস্টিং সেন্টার (NLFC বা National Landslide Forecasting Centre) -এর পরিধি ৬টি রাজ্যের ১৬টি জেলা থেকে বাড়িয়ে ৮টি রাজ্যের ২১টি জেলায় করা হয়েছে। ‘ভূসঙ্কেত’ (Bhusanket) পোর্টাল এবং ‘ভূস্কলন’ (Bhooskhalan) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। ইতালির (Italy) CNR-IRPI সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নেও GSI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১০,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পের মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং আরও ১৭টি প্রকল্প পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। জলবিদ্যুৎ, সড়ক, রেল এবং জলসম্পদ সংক্রান্ত ২৮টি প্রকল্পে ভূ-প্রযুক্তিগত সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ভূ-ঐতিহ্য সংরক্ষণেও জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের অগস্টে ভারতের ৭টি জিওহেরিটেজ সাইট ইউনেস্কো (UNESCO) -এর বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আরও ৬টি সাইটকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী ফিল্ড সিজন ২০২৬-২৭-এর জন্য GSI আরও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করেছে। প্রায় ৫০০টি খনিজ অনুসন্ধান প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৩০০টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উপর কেন্দ্রীভূত হবে। দ্রুত খনিজ ব্লক নিলামের জন্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করা হবে। ১৭৫ বছরের ঐতিহ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে GSI দেশের খনিজ নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সংস্থা যে আরও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনায় রয়েছে।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Beach Sand Minerals India | ভারতের উপকূলেই লুকিয়ে ১,৩০৯ মিলিয়ন টন মূল্যবান খনিজ! রেয়ার আর্থ করিডোর গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের

Sasraya News
Author: Sasraya News