Uttar Prasanga conference, Bhutanghat literary meet | ভুটানঘাটে উত্তর প্রসঙ্গের সারস্বত সম্মেলন, ডুয়ার্সে সাহিত্য ও প্রকৃতির মিলন

SHARE:

ছবি ধর ★ আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি, সাহিত্যচর্চা এবং সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠল আলিপুরদুয়ারের ভুটানঘাট (Bhutanghat)। গত ৩ ও ৪ এপ্রিল ২০২৬ এই দুই দিন ধরে ‘উত্তর প্রসঙ্গ’ (Uttar Prasanga) আয়োজিত চতুর্থ সারস্বত সম্মেলন এক ভিন্ন মাত্রা এনে দিল সাহিত্যজগতে। রায়ডাক (Raidak) নদীর তীর, বক্সা রিজার্ভ ফরেস্ট (Buxa Reserve Forest) -এর অরণ্যঘেরা পরিবেশ এবং সীমান্তবর্তী গ্রামীণ আবহে এই আয়োজন যেন সাহিত্যকে নতুন প্রেক্ষাপটে তুলে ধরল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শ্রদ্ধা জানানো হয় কবি ও সাহিত্যিক অর্ণব সেনকে (Arnab Sen)। তাঁর স্মৃতিতে নির্মিত মঞ্চে প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন অধ্যাপক সরিৎ কুমার চৌধুরী (Sarit Kumar Choudhury)। সভাপতিত্ব করেন ড. আনন্দ গোপাল ঘোষ (Dr. Ananda Gopal Ghosh)। উপস্থিত ছিলেন ড. দেবকুমার মুখার্জি (Dr. Debkumar Mukherjee), ড. সৌমেন নাগ (Dr. Soumen Nag), রাজীব শ্রাবণ (Rajib Shraban), প্রমোদ নাথ (Pramod Nath), ড. দীপক কুমার রায় (Dr. Dipak Kumar Ray), ড. দিগ্বিজয় দে সরকার (Dr. Digbijoy De Sarkar), অশেষ কুমার দাস (Ashesh Kumar Das), উমেশ শর্মা (Umesh Sharma), ড. আশুতোষ বিশ্বাস (Dr. Ashutosh Biswas), কার্তিক সূত্রধর (Kartik Sutradhar), আশুতোষ সরকার (Ashutosh Sarkar) প্রমুখ।

আরও পড়ুন : রাধামোহন ঠাকুর স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে বাংলা আকাডেমি আগরতলা

স্বাগত ভাষণে ‘উত্তর প্রসঙ্গ’ পত্রিকার সম্পাদক দেবব্রত চাকী (Debabrata Chaki) বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের সাহিত্যচর্চাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরাই এই সম্মেলনের লক্ষ্য।’ উদ্বোধনী সঙ্গীতে ধরিত্রী নান্দনিক (Dharitri Nandanik) -এর সদস্যদের পরিবেশনায় ধ্বনিত হয় ‘বন্দেমাতরম’, যা অনুষ্ঠানে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে। প্রসঙ্গত, প্রকৃতির কোলে বৃক্ষছায়াতলে মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এই সম্মেলন অংশগ্রহণকারীদের কাছে হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ভুটানঘাটের অবস্থানই যেন এই আয়োজনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। ভারত-ভুটান সীমান্তের এই অঞ্চলটি আলিপুরদুয়ার শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে। চারদিকে সবুজ অরণ্য, চা বাগান এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি যেন রূপকথার পরিবেশ। এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। মাঝে মাঝেই দেখা মিলতে পারে হাতি, বাইসন, হরিণ বা চিতার। এই কারণেই এলাকাটি ‘হাতির দেশ’ নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন : Elon Musk children, Elon Musk family | ১৪ সন্তানের বিশাল পরিবার! প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের মাঝেই ব্যতিক্রমী ব্যক্তিগত জীবন: ইলন মাস্কের সন্তান ও সম্পর্কের বিস্ময়কর গল্প

প্রথম দিনের আলোচনায় ‘উত্তরের বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য ও আমরা’ বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখেন ড. দিগ্বিজয় দে সরকার, প্রমোদ নাথ, অনির্বাণ নাগ (Anirban Nag), অধ্যাপক জয় দাস (Joy Das), পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় (Partha Bandyopadhyay) প্রমুখ। একটি আলোচনায় উঠে আসে, ‘উত্তরবঙ্গের সাহিত্যধারা তার নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির ভিতের উপর দাঁড়িয়ে।’ দুপুরের পর অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় ডুয়ার্সের বহু ভাষার সাহিত্য, হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্য, এবং বৌদ্ধ ধর্মচর্চার নানা দিক উঠে আসে। এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা অঞ্চলভিত্তিক সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরেন। কবিতা পাঠের আসরে অংশ নেন মৃত্যুঞ্জয় ভাওয়াল (Mrityunjay Bhawal), গৌতম ভাদুড়ী (Gautam Bhaduri), উৎপলেন্দু পাল (Utpalendu Pal), জয়শ্রী সরকার (Jayashree Sarkar), বেনু সরকার (Benu Sarkar) সহ আরও অনেকে। দ্বিতীয় দিনেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। শুভাশিস নাগ (Shubhashis Nag), সঙ্গীতা চন্দ (Sangeeta Chand), ছবি ধর (Chhabi Dhar), সুকান্ত রায় (Sukanta Ray), সুনীল সাহা (Sunil Saha), জয়দীপ ব্যানার্জি (Joydeep Banerjee), অজিত দাস (Ajit Das), দেবাশীষ চক্রবর্তী (Debashis Chakraborty), সোমা দে (Soma De), শান্তিরাম রাভা (Shantiram Rabha), বিমল টোপ্পো (Bimal Toppo), অপরাজিত পান্ডে (Aparajit Pandey) সহ বহু কবি নিজেদের লেখা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন শীলা সরকার (Sheela Sarkar)। তিনি পুরো আয়োজনটিকে সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যান।

সন্ধ্যায় ড. সৌমেন নাগ ‘চিকেন নেক’ (Chicken’s Neck) অঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির নানা দিক। অন্যদিকে ‘উত্তরের বনভূমির বিবর্তন, কোন পথে আমরা?’ শীর্ষক আলোচনায় ড. অমিতাভ চক্রবর্তী (Dr. Amitabh Chakraborty), প্রসাদ দাস (Prasad Das), ড. তপন কুমার দাস (Dr. Tapan Kumar Das) এবং অধ্যাপক প্রজ্ঞা পারমিতা সরকার (Pragya Paramita Sarkar) পরিবেশ ও বনভূমির পরিবর্তন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। দ্বিতীয় দিনের ভোরে অংশগ্রহণকারীরা রায়ডাক নদীর তীরে সূর্যোদয় উপভোগ করেন। কালাপাহাড় (Kalapahad) -এর রঙিন শিলা এবং অরণ্যের শব্দ যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। বনপথে চলার সময় হরিণ, পাখির ডাক এবং অজানা শব্দে তৈরি হয় এক অন্যরকম অনুভূতি। পরবর্তী প্যানেল আলোচনার বিষয় ছিল ‘বীক্ষণে করতোয়া সভ্যতা প্রসঙ্গ উত্তরের প্রকৃতি ও পরিবেশের অতীত ও বর্তমান’। আলোচনায় অংশ নেন ড. দেবকুমার মুখার্জী, কার্তিক সূত্রধর, ড. তপন কুমার দাস, ড. পরিমল দে (Dr. Parimal De), রাজা পাল চৌধুরী (Raja Pal Chowdhury) প্রমুখ। এখানে ইতিহাস ও পরিবেশের সংযোগ নিয়ে নানা দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে। সম্মেলনের শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে দেবব্রত চাকী বলেন, ‘এই সম্মেলন উত্তরবঙ্গের সাহিত্যচর্চাকে আরও প্রসারিত করবে।’ প্রকৃতি, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির এক সেতুবন্ধন হিসেবে এই আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গেল বলেই উল্লেখ। ময়নাবাড়ি (Moynabari) থেকে ফেরার পথে অনেকের মনেই থেকে গেল এই দুই দিনের স্মৃতি।

ছবি : লেখক
আরও পড়ুন : SAMPANN Platform India Digital Governance | ডিজিটাল পেনশন ব্যবস্থা, গোয়া ও কোচিন পোর্টে ‘সাম্পন’ চালু, কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ

Sasraya News
Author: Sasraya News