Nawda TMC Clash, Abhishek Banerjee Warning | নওদায় তৃণমূল সভায় অশান্তি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি থেকে ‘লাল কার্ড’ হুঁশিয়ারি, হুমায়ুনকে নিশানা অভিষেকের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের নওদা (Nawda) বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নির্বাচনের আগেই তীব্র উত্তেজনা তৈরি হল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -এর অন্দরেই। রবিবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর সভার আগে ও পরে যে ঘটনাপ্রবাহ সামনে আসে, তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সভাস্থলে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, মারধরের অভিযোগ, প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ, এসব নিয়ে দলীয় কোন্দলের প্রকাশ্য রূপ দেখল নওদা। স্থানীয় সূত্রে খবর, নওদা এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন মূলত দুই গোষ্ঠীর প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। একদিকে বিদায়ী বিধায়ক তথা এ বারের প্রার্থী সাহিনা মমতাজ (Sahina Mumtaz) -এর অনুগামীরা, অন্যদিকে স্থানীয় সাংসদ আবু তাহের খান (Abu Taher Khan) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবির, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান হাবিব (Safiuzzaman Habib) -এর। এই দুই শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রবিবার সভাস্থলে প্রকাশ্যে চলে আসে।

আরও পড়ুন : TMC Candidate List 2026: ৫২ মহিলা, নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধন, প্রার্থী তালিকায় বড় চমক মমতা-অভিষেকের

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখনও সভায় পৌঁছননি। তার আগেই কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। কে সামনে বসবে, কোন গোষ্ঠীর প্রভাব বেশি, এই বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি এবং চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনায় গড়ায়। এক তৃণমূল সমর্থক অভিযোগ করেন, ‘আমরা বসে ছিলাম, হঠাৎ চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হল। কেন আমাদের উঠিয়ে দেওয়া হল?’ তাঁর দাবি, অন্য পক্ষ জায়গা না পাওয়ায় জোর করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার সময় সভাস্থলের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিছু সময়ের জন্য সভার পরিবেশ উত্তপ্ত থাকলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মঞ্চে উঠে কড়া সুরে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই দলের হয়ে খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে ভোটের পর লাল কার্ড দেখানো হবে। তারপর এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যে আর মাঠে নামার সুযোগ পাবেন না।’ তাঁর এই মন্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানই সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ‘লাল কার্ড’ মন্তব্য কেবল সাধারণ সতর্কবার্তা নয়, তা দলের ভিতরে সম্ভাব্য অন্তর্ঘাতের আশঙ্কাকেই ইঙ্গিত করছে। বিশেষ করে নওদার মতো সংবেদনশীল কেন্দ্রে, যেখানে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েই আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল, সেখানে এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, প্রার্থীতালিকা ঘোষণার আগেই কিছু এলাকায় সফিউজ্জামান হাবিবের নামে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল সাহিনা মমতাজকেই প্রার্থী করে। এর জেরে প্রথমে কিছু জায়গায় ক্ষোভ দেখা গেলেও পরে হাবিব শিবিরও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামে। তবু রবিবারের ঘটনায় বোঝা গেল, অন্দরের দ্বন্দ্ব পুরোপুরি মেটেনি। সভা শেষে সফিউজ্জামান বলেন, ‘দল যাঁকে প্রার্থী করেছে, আমরা তাঁর পক্ষেই কাজ করব। কিছু মানুষ আবেগের বশে আচরণ করছেন, তাঁদের বোঝাতে হবে।’ অন্যদিকে সাহিনা মমতাজের বক্তব্য, ‘যাঁরা পরিকল্পিত ভাবে দলের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই উত্তেজনার মাঝেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে সরাসরি নিশানা করেন হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir)। একসময় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা থাকা হুমায়ুন বর্তমানে দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন এবং নওদা ও রেজিনগর (Rejinagar) দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অভিষেক বলেন, ‘অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) এবং হুমায়ুন কবীর কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা নেন। অথচ সেই সরকার সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দিয়েছে। যদি সত্যিই সংখ্যালঘুদের পাশে থাকেন, তাহলে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ছেড়ে দিন।’

এই মন্তব্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা এমনিতেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা, ফলে ভোটের অঙ্ক এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। হুমায়ুন কবীরের নতুন দল এবং আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-এর (Asaduddin Owaisi) দল মিম (AIMIM) -এর সঙ্গে জোট এই ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফিরে দেখলে দেখা যায়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূল ২২টির মধ্যে ২০টি আসন জিতেছিল। পরে লোকসভা নির্বাচনেও জেলার তিনটি আসনই তাদের দখলে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। বামফ্রন্ট (Left Front) ও কংগ্রেস (Congress) -এর উপস্থিতি এখনও রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি (BJP) হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে। ফলে নওদা-সহ একাধিক কেন্দ্রে এবার জেলার বহু-কোণে লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভোট ভাগাভাগির সমীকরণ যে ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে কোনও ভাঙন যাতে না হয়, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একইভাবে, নওদার সভার ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন অশান্তি নয়, তা বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্রেরই প্রতিফলন। নির্বাচন যত এগোবে, ততই এই ধরনের ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Abhishek Banerjee Barasat rally | অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারাসত গর্জন: ‘কোর্টে হারালাম, ভোটে হারাব, বিজেপির খেলা শেষ’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন