সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ মুম্বাই : দীর্ঘ অপেক্ষা, বারবার ব্যর্থতা আর অগণিত চাপে ভরা পথ পেরিয়ে অবশেষে স্বপ্নপূরণ হয়েছিল তাঁর। বিরাট কোহলি (Virat Kohli) -এর কেরিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল আইপিএল ট্রফি জয়। কিন্তু সেই জয় আসার আগে শেষ কয়েকটি মুহূর্ত কতটা কঠিন ছিল, তা এবার নিজেই জানালেন তিনি। আইপিএল ফাইনালের শেষ তিন বলের অপেক্ষা যে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় মানসিক পরীক্ষা ছিল, সেটাই তুলে ধরলেন খোলামেলা ভাবে। গত আইপিএল ফাইনালে Royal Challengers Bengaluru মুখোমুখি হয়েছিল Punjab Kings-এর। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে মাত্র ৭ রানে জয় পায় বেঙ্গালুরু, আর সেই সঙ্গে ইতিহাস গড়ে বহু প্রতীক্ষিত ট্রফি জেতে দলটি। কিন্তু স্কোরবোর্ডে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও কোহলির মনে তখনও দুশ্চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘শেষ ওভার শুরু হওয়ার আগেই আমরা জানতাম ম্যাচ আমাদের দিকেই যাচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মাথা থেকে চাপ কাটছিল না। শুধু মনে হচ্ছিল জশ (Hazlewood) যেন নো-বল না করে। জানতাম ও অভিজ্ঞ বোলার, তবুও চিন্তা ছিল।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছি বুঝে যাওয়ার পরেও শেষ তিন বলের অপেক্ষা, সেটাই ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়।’
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
এই স্বীকারোক্তিতে ফুটে উঠেছে বড় ম্যাচের মানসিক চাপ। ১৮ বছরের দীর্ঘ আইপিএল যাত্রায় কোহলি বহুবার ফাইনালে পৌঁছেছেন, কিন্তু সাফল্য অধরাই ছিল। ২০০৯, ২০১১ এবং ২০১৬ তিনটি ফাইনালেই হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতাই চতুর্থবারের লড়াইয়ে তাঁকে আরও দৃঢ় করেছিল। কোহলি বলেন, ‘এর আগে যতবার ফাইনালে উঠেছি, হারতে হয়েছে। সেই ব্যর্থতাই আমাদের ভিতর বাড়তি তাগিদ তৈরি করেছিল। জানতাম, জিততে হলে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। ভাগ্যের উপর নির্ভর করলে চলবে না।’ তাঁর কথায়, দলের প্রতিটি সদস্যই সেই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এই দীর্ঘ যাত্রায় বিরাট কোহলির একটি বিশেষ রেকর্ডও রয়েছে, তিনি আইপিএলের ইতিহাসে একমাত্র ক্রিকেটার যিনি শুরু থেকে একই দলে খেলছেন। Royal Challengers Bengaluru -এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধুমাত্র একজন ক্রিকেটারের নয়, বরং এক আবেগের বন্ধন। কোহলি বলেন, ‘শুরুর দিন থেকে আমি এই দলের সঙ্গে আছি। দলের সাপোর্ট স্টাফ রমেশও (Ramesh) অনেক দিন ধরে রয়েছে। আমরা দু’জনই সবচেয়ে পুরনো সদস্য। শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি, সেটাই বড় প্রাপ্তি।’ এই বক্তব্যে উঠে এসেছে দলের ভিতরের সম্পর্ক এবং দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামের গল্প।
ফাইনালের আগে নিজের মানসিক অবস্থার কথাও শেয়ার করেছেন তিনি। কোহলি জানান, ‘ফাইনালে ওঠার পর মনটা অনেকটাই শান্ত ছিল। জানতাম, সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ। সহজে ম্যাচ জেতা যাবে না। কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল।’ তাঁর মতে, এত বছরের অভিজ্ঞতা তাঁকে চাপ সামলাতে সাহায্য করেছে। ম্যাচ জয়ের পরের মুহূর্তটি ছিল আবেগে ভরা। কোহলি তখন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন, টুপিতে মুখ ঢেকে ফেলেন। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ‘১৮ বছরের এত স্মৃতি একসঙ্গে মাথায় ভিড় করছিল। কত উত্থান-পতন, কত কঠিন সময়, সব মনে পড়ছিল। ওই অনুভূতি ভাষায় বোঝানো কঠিন।’
এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে ভবিষ্যতের জন্য। নতুন মরসুমেও একই উদ্যম নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কোহলি। তাঁর লক্ষ্য, দলের প্রতিটি সদস্য যেন নিজেদের সেরাটা দিতে পারে। তিনি সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই আড়াই মাস সবাইকে ১২০ শতাংশ দিতে হবে। আমরা জানি, সাফল্য সহজে আসে না। তাই প্রতিটা ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।’ উল্লেখ যে, আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে এই ধরনের মানসিক দৃঢ়তা এবং অভিজ্ঞতা দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কোহলির এই স্বীকারোক্তি শুধু একটি ম্যাচের গল্প নয়, বরং একজন ক্রিকেটারের দীর্ঘ পথচলার প্রতিফলন। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই কাহিনি নতুন করে মনে করিয়ে দেয় সাফল্যের পেছনে থাকে অসংখ্য ব্যর্থতা, চাপ আর ধৈর্যের পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই ইতিহাস গড়ে ওঠে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : RCB playing XI IPL 2026 | আইপিএল ২০২৬ শুরুর আগেই কোহলির দলের একাদশ বেছে দিলেন আশ্বিন, চমকে ভরা আরসিবি পরিকল্পনা




