সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে বড়সড় বার্তা দিল রাজ্য সরকার সদর দফতর নবান্ন। রাজ্যের মুখ্যসচিবের জারি করা এক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে কোনও রকম অশান্তি, ভয়ভীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বিজ্ঞপ্তিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। গত ২২ মার্চ প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে, ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্ব।’ সেই লক্ষ্যেই একাধিক দিক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া ঘিরে কোনও বিতর্ক বা অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
নির্দেশিকায় প্রথমেই জোর দেওয়া হয়েছে হিংসামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার উপর। প্রশাসনের কাছে বার্তা, নির্বাচনের সময় কোনও ধরনের হিংসা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটারদের উপর কোনও রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উপর বর্তেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘কোনও ভোটার যাতে ভয় পেয়ে ভোটদান থেকে বিরত না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ এছাড়াও ভোটে প্রভাব বিস্তারের জন্য অর্থ বা উপঢৌকনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটারদের প্রলোভন দেখানোর যে কোনও প্রচেষ্টা আইনত দণ্ডনীয় বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনের সততা রক্ষার জন্য এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হল জাল ভোট বা ‘ছাপ্পা ভোট’ রুখতে বিশেষ কড়াকড়ি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে বুথ দখল বা বুথ জ্যামিং রোধ করতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটদান কেন্দ্রগুলিতে অবৈধ জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ‘বুথের আশপাশে অস্বাভাবিক ভিড় বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হল ‘সোর্স জ্যামিং’ বন্ধ করা। অর্থাৎ, কোনও ভোটারকে বাড়ি থেকে বেরতে বাধা দেওয়া বা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি যাতে কোনওভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে সব স্তরের কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি আধিকারিকদের ব্যক্তিগত আচরণও নজরদারির আওতায় থাকবে।
নবান্নের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকা শুধু দফতরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দফতর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত এই নির্দেশ পৌঁছে দিতে হবে। এমনকি, এই নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না, তার প্রমাণ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে কনফার্মেশন রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে নির্দেশিকা প্রতিটি স্তরে পৌঁছেছে এবং তা মানা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে প্রশাসন। ভোট প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বিতর্ক বা অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ বা আশঙ্কা তৈরি হয়, তা দূর করাই প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্যই এই কড়া পদক্ষেপ। বিজ্ঞপ্তিতে এটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এই নির্দেশিকার গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ন বান্নের এই পদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : CPIM candidates West Bengal election | বামফ্রন্টের প্রথম প্রার্থী তালিকায় হেভিওয়েট চমক! বিকাশ থেকে মীনাক্ষী, কোন কেন্দ্রে লড়ছেন বাম নেতারা




