সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আবারও আবহাওয়ার পালাবদলের মুখে কলকাতা (Kolkata Rain)। সপ্তাহের শেষ দিকেই নতুন করে ঝড়বৃষ্টি ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। শহর কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস জারি হয়েছে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত টানা তিন দিন আবহাওয়ার এই পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়বে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার থেকেই শুরু হবে এই বৃষ্টির পর্ব। প্রথম দিনে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। শনিবার এবং রবিবার সেই বেগ বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শহরাঞ্চল থেকে গ্রামাঞ্চল, সব জায়গাতেই সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে Hooghly, Jhargram, Nadia, Paschim Bardhaman, Purba Bardhaman, Bankura এবং Purulia জেলাগুলিতে শুক্রবার তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ এই ঝড়বৃষ্টি স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা।
এছাড়াও আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সপ্তাহের মাঝামাঝি অর্থাৎ মঙ্গলবারও ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং দুই বর্ধমানে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার অস্থিরতা আরও কিছু দিন বজায় থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিও খুব একটা স্থিতিশীল নয়। Darjeeling, Jalpaiguri এবং Kalimpong-এ মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই Alipurduar এবং Cooch Behar-এ ঝড়বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, শুক্রবার থেকে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই নতুন করে ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং অক্ষরেখার সক্রিয়তা। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতিই ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। গত কয়েক দিন উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকায় প্রবল দমকা হাওয়া বইছিল এবং সাগর উত্তাল ছিল। তবে বর্তমানে সেই তীব্রতা কিছুটা কমেছে বলে জানা যাচ্ছে।
মৎস্যজীবীদের জন্যও আপাতত কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেকটাই শান্ত থাকায় তাঁদের উপর কোনও নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তবে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিনে কলকাতার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। রবিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৭ ডিগ্রি কম, মাত্র ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে দাঁড়ায় ২০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। এই অস্বাভাবিক ঠান্ডা ভাব অনেকটাই আরামদায়ক হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই পূর্বাভাস। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি আবার ফিরে আসবে। বৃষ্টির সঙ্গে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মিলিয়ে এক ধরনের আর্দ্র আবহাওয়া তৈরি হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, শহরের বাসিন্দাদের জন্য এই সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বজ্রবিদ্যুৎ চলাকালীন খোলা জায়গায় না থাকা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যান চলাচলের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির সময়। আসন্ন সপ্তাহান্তে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন অনেক পরিকল্পনাকেই প্রভাবিত করতে পারে। তবে আগাম সতর্কতা এবং প্রস্তুতি থাকলে ঝড়বৃষ্টির প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। এখন নজর আকাশের দিকে, শুক্রবার থেকেই শুরু হতে চলা এই নতুন পর্ব কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই দেখার।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার




