সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের বৃহত্তম সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম ভারতীয় রেল (Indian Railways) শুধু পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই নয়, কর্মীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ভারতীয় রেলের বিশাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মাধ্যমে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী এবং তাঁদের নির্ভরশীল পরিবার সদস্যদের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রেলের অধীনে এখন সারা দেশে মোট ৫৮২টি স্বাস্থ্য ইউনিট এবং ১২৮টি রেল হাসপাতাল চালু রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, রেলকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ভারতীয় রেলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার লক্ষ্য হল কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পাশাপাশি তাঁদের নির্ভরশীলদেরও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া।’
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
রেলের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রেলকর্মীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান। এই হাসপাতালগুলিতে আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে রেল পরিবারের লক্ষ লক্ষ মানুষ সরাসরি এই পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে রেল স্বাস্থ্য পরিষেবায় চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে মোট ২,২৭৭ জন চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,১৪০ জনে। অর্থাৎ আগের দশকের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও আগামী দিনেও চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের জন্য আরও ৬২০ জন চিকিৎসক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে Union Public Service Commission-এর কাছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় রেল স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেল মন্ত্রকের দাবি, এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেলের বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হয়। চিকিৎসা কর্মী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত কর্মী, সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিয়োগ করা হচ্ছে।
চাকরির ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় রেল। চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪১,৩৪৩ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি তথ্য জানাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম বৃহৎ নিয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে রেলে নন-গেজেটেড পদে মোট ১,৪৩,০৮৬টি শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগের মধ্যে রয়েছে টেকনিশিয়ান, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের বিভিন্ন পদ। উল্লেখ্য, রেলের নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণত সর্বভারতীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। দেশের বিভিন্ন শহরে পরীক্ষা কেন্দ্র তৈরি করা হয় যাতে দেশের নানা প্রান্তের প্রার্থীরা অংশ নিতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট পদের দ্বিতীয় ধাপের কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষায় প্রায় ২,৬৬,০০০-এর বেশি প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। একইভাবে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত পদের পরীক্ষায়ও লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়াও নন-টেকনিক্যাল জনপ্রিয় বিভাগে গ্র্যাজুয়েট এবং আন্ডার-গ্র্যাজুয়েট স্তরের পদগুলির জন্যও ব্যাপক সংখ্যক প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষেরও বেশি বলে জানা গিয়েছে। রেল মন্ত্রক জানায়, পরীক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার বেসড অ্যাপটিটিউড টেস্ট এবং টাইপিং স্কিল টেস্টের মতো ধাপগুলিও ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলিতে প্রায় দুই লক্ষের কাছাকাছি প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।
রেল মন্ত্রক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে নিয়োগ ব্যবস্থায়। ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন গ্রুপ ‘সি’ পদের জন্য বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে চাকরিপ্রার্থীরা আগেই জানতে পারবেন কখন কোন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একাধিক সুবিধা তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর নতুন করে যোগ্যতা অর্জন করা প্রার্থীরাও সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি পরীক্ষার সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ায় প্রস্তুতি নেওয়াও সহজ হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রেলের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও আরও উন্নতির পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি এবং পুরনো হাসপাতালগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত করার কাজ চলমান রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই পরিষেবা আরও উন্নত করা হচ্ছে। শুধু চিকিৎসা পরিষেবাই নয়, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে ভারতীয় রেল। রেলের হাসপাতালগুলি বর্তমানে National Board of Examinations in Medical Sciences-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখানে ডিপ্লোমা, ডক্টরেট এবং ফেলোশিপ স্তরের চিকিৎসা কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়াও রেল মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল হাসপাতালগুলির সঙ্গে যুক্ত করে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করার। এর ফলে দেশে আরও বেশি সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রথম এই ধরনের প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে নতুন দিল্লির নর্দার্ন রেলওয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে।উল্লেখ যে, ভারতীয় রেল শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। বিশাল স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক, ব্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা শিক্ষায় অংশগ্রহণ, এই নিয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই সংস্থা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Assam Visit 2026 | অসমে উন্নয়নের মেগা ঝড়! ৪৭,৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তর-পূর্বে রেল-সড়ক-গ্যাস অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত




