Viksit Bharat Yuva Neta Samvad 2026 | বিকশিত ভারত ২০৪৭ গড়ার পথে যুবকদের নেতৃত্ব: জাতীয় মঞ্চে ‘বিকশিত ভারত যুব নেতৃত্ব সম্মেলন ২০২৬’ -এ উঠে এল নতুন ভাবনা

SHARE:

বিকশিত ভারত ২০৪৭ লক্ষ্য পূরণে যুব সমাজকে যুক্ত করতে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত যুব নেতৃত্ব সংলাপ ২০২৬’-এ দেশের হাজার হাজার তরুণ তাঁদের উদ্ভাবনী ভাবনা ও নীতিগত প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে যুব নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েই এই জাতীয় উদ্যোগ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরিতে যুবসমাজকে সরাসরি যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ (Viksit Bharat 2047) লক্ষ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত যুব নেতৃত্ব সম্মেলন ২০২৬’ -এ (Viksit Bharat Yuva Neta Samvad 2026) দেশের নানা প্রান্তের তরুণ-তরুণীরা অংশ নিয়ে উন্নত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নানান ধারণা, উদ্ভাবনী পরিকল্পনা ও নীতিগত পরামর্শ তুলে ধরেছে। এই সংলাপ ছিল জাতীয় যুব উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার লক্ষ্য ছিল যুবকদের জাতীয় উন্নয়ন, নীতি প্রণয়ন এবং নেতৃত্বের আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা। সূত্রের খবর, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান যুবকদের একটি সুসংগঠিত ও যোগ্যতা-ভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একত্রিত করা হয়। ‘মাই ভারত’ (MY Bharat) এবং ‘মাইগভ’ (MyGov) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বহুস্তরীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা উদ্ভাবন ও উদ্যোগ, টেকসই উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদনশীলতা, সাংস্কৃতিক কূটনীতি, নারী নেতৃত্বে উন্নয়ন, গণতন্ত্রে যুবদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতের কর্মশক্তি তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আরও পড়ুন : Union Budget 2026 Textile Initiatives | কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় পরামর্শ বৈঠক, শিল্প ও রাজ্যগুলির মতামত নিল কেন্দ্র

কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী ড. মনসুখ মান্ডাভিয়া (Dr. Mansukh Mandaviya) রাজ্যসভায় একটি লিখিত উত্তরে জানিয়েছেন, ‘বিকশিত ভারত যুব নেতৃত্ব সম্মেলন ২০২৬ দেশের যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়নের আলোচনায় যুক্ত করার একটি বড় পদক্ষেপ। এখানে উঠে আসা বহু গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা ও সুপারিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের নীতি ও কর্মসূচিতে তা বিবেচনা করা যায়।’ এই সম্মেলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ। নারী ও পুরুষ যুবকদের প্রায় সমান প্রতিনিধিত্ব দেখা গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ের ‘ভিবিওয়াইএলডি কুইজ’-এ ৫১ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৯ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ করেন। এর পাশাপাশি ‘নারী নেতৃত্বে উন্নয়ন: বিকশিত ভারতের চাবিকাঠি’ বিষয়ক আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পায়, যা নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে আসে।

গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘মাই ভারত’ পোর্টালকে কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC)-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের পাঁচ লক্ষের বেশি গ্রামস্তরের উদ্যোক্তা (VLE) ও গ্রামীণ যুবক-যুবতীরা নিকটবর্তী সিএসসি কেন্দ্রের মাধ্যমে সহজেই নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন। এর ফলে বহু প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও তরুণদের অংশগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। ভাষাগত অন্তর্ভুক্তিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা ২২টি ভারতীয় ভাষার যেকোনো একটিতে প্রবন্ধ জমা দিতে পারেন এবং কুইজটি ১২টি ভাষায় উপলব্ধ ছিল। এর ফলে ভাষার বাধা দূর হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের মতামত সামনে আসে। এই সম্মেলনের নির্বাচন প্রক্রিয়াও ছিল বহুস্তরীয়। প্রথম পর্যায়ে ‘বিকশিত ভারত কুইজ’-এ দেশজুড়ে পাঁচ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘মাই ভারত’ পোর্টালের মাধ্যমে প্রায় ৩৯,৪৬৩ জন যুবক-যুবতী প্রবন্ধ জমা দেন। এরপর রাজ্যস্তরের পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বগুণ, দূরদর্শিতা এবং সহযোগিতামূলক দক্ষতার ভিত্তিতে বাছাই করা হয়। প্রায় ৩,০০০ জন নির্বাচিত যুবক-যুবতীকে ২০২৬ সালের ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত মণ্ডপম-এ (Bharat Mandapam), নতুন দিল্লি আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের সংলাপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এই জাতীয় মঞ্চে অংশগ্রহণকারীরা দলগত উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের ধারণা তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের সামনে নীতিগত পরামর্শ দেন। সংলাপ থেকে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলি পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর (Narendra Modi) কাছেও উপস্থাপন করা হয় বলে সরকারি সূত্রে খবর। এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রবাসী ভারতীয় যুবকদের অংশগ্রহণ। বিদেশ মন্ত্রকের ‘নো ইন্ডিয়া প্রোগ্রাম’ (Know India Programme) -এর মাধ্যমে ২২টি দেশের ৭৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ-তরুণীও এই সংলাপে অংশ নেন। তাঁদের জন্য আলাদা প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁদের নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত প্রবাসী যুবকেরা বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারতের উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের মতামত জানান।

সম্মেলনে আদিবাসী ও ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়ের যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সাংস্কৃতিক ট্র্যাকও রাখা হয়েছিল। এতে তাঁদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় স্তরের আলোচনায় তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের যুবশক্তিকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ। ফলে নীতি প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাঁদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি মহলের মতে, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য অর্জনে উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা অপরিহার্য। এই সংলাপ সেই লক্ষ্য পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এখানেই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিজেদের ভাবনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নত ভারতের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্লেষকদের কথায়, যুব নেতৃত্বকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এই উদ্যোগ নতুন উদ্যোক্তা, নীতি নির্ধারক এবং সামাজিক উদ্ভাবকদের সামনে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে। ফলে আগামী দিনে ভারতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই ধরনের যুব নেতৃত্ব সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Viksit UP@2047, Yogi Adityanath | বিকশিত ইউপি@২০৪৭ : যোগী আদিত্যনাথের লক্ষ্য ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি

Sasraya News
Author: Sasraya News