সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: কৃষি উৎপাদনকে স্থিতিশীল রাখতে এবং দেশের কৃষকদের পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় সাফল্যের দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে মোট ১৬৩ লক্ষ মেট্রিক টন সারের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। সংসদে দেওয়া এই তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সারের মজুত প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। লোকসভায় বাজেট সংক্রান্ত আলোচনার সময় এই তথ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে দেশের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। শুধু খরিফ মরশুমের জন্যই নয়, আগাম পরিকল্পনা করে রবি মরশুমের প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’ তাঁর কথায়, কৃষিক্ষেত্রে ধারাবাহিক উৎপাদন বজায় রাখতে সরকার আগেভাগেই সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে। সরকারি সূত্রের খবর, গত বছর এই সময় দেশে মোট সারের মজুত ছিল প্রায় ১২৮.৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন। তার তুলনায় এ বছর ১৬৩ লক্ষ মেট্রিক টন মজুত হওয়া কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, পরিকল্পিত উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যবস্থাপনার ফলে এই মজুত বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষে সারের ভর্তুকির জন্য সরকার অতিরিক্ত প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বাজেটে নির্ধারিত প্রাথমিক বরাদ্দের বাইরে এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য হল কৃষকদের কাছে সার সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি উৎপাদনকে স্থিতিশীল রাখা।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত একটি কৃষিনির্ভর দেশ হওয়ায় সারের পর্যাপ্ত মজুত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময় মতো সার না পেলে কৃষিকাজে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণে সরকার উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি এবং সরবরাহ, এই তিনটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘আমরা শুধু আমদানির উপর নির্ভর করতে চাই না। দেশের ভিতরেই সারের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর মতে, আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারতে ইউরিয়া উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে দেশে মোট ইউরিয়া উৎপাদন ছিল প্রায় ২২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। সেই উৎপাদন ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০৬.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ দশ বছরে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের দাবি, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর উদ্যোগে নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগ নীতির আওতায় দেশে একাধিক নতুন ইউরিয়া উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই নীতির অধীনে ইতিমধ্যেই ছয়টি নতুন সার উৎপাদন ইউনিট চালু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১২.৭ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে এই নতুন প্রকল্পগুলির মাধ্যমে দেশের মোট ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতায় প্রায় ৭৬.২ লক্ষ মেট্রিক টন বৃদ্ধি হয়েছে।
এছাড়াও আরও দুটি নতুন সার কারখানা তৈরি করার কাজ চলছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নতুন কারখানাগুলি স্থাপন করা হচ্ছে Odisha এবং Assam রাজ্যে।সরকারি পরিকল্পনা, এই দুই নতুন প্রকল্প চালু হলে বছরে প্রায় ২৫.৪ লক্ষ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব হবে। এর ফলে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে সারের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।শুধু নতুন কারখানা তৈরি নয়, পুরনো কারখানাগুলির উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে সারের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকা কৃষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। কারণ সময়মতো সার পাওয়া গেলে ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে খরিফ এবং রবি মরশুমে কৃষকদের জন্য সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিদেশ থেকে সার আমদানির উপর নির্ভরশীলতাও কমবে। এতে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ কমবে এবং কৃষিক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হবে। উল্লেখ্য, দেশের সারের মজুত বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী দিনে নতুন কারখানা চালু হওয়া এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে কৃষকদের কাছে পর্যাপ্ত সার পৌঁছানো আরও সহজ হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Budget 2026 India, Nirmala Sitharaman Budget | রেল, আয়কর থেকে স্বাস্থ্য : ভোটের বছরে নির্মলার নবম বাজেটে উন্নয়ন ও স্বস্তির বার্তা




