Early warning system for floods and cyclones India | বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে আগাম সতর্কতা জোরদার, এসএমএস থেকে NAVIC, দেশজুড়ে নতুন প্রযুক্তিতে সতর্কবার্তা ব্যবস্থার বিস্তার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে প্রতি বছরই বিভিন্ন রাজ্যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি সংসদে দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের জন্য উন্নত ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ বা আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত মানুষের কাছে বিপদের খবর পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। লোকসভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘পৃথ্বী বিজ্ঞান মন্ত্রক (Ministry of Earth Sciences)’ -এর প্রতিমন্ত্রী ‘ড. জিতেন্দ্র সিং (Dr. Jitendra Singh)’। তিনি জানান, ‘বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষকে দ্রুত সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ও প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন : Quantum research in India | কোয়ান্টাম কম্পিউটিং থেকে ৬জি প্রযুক্তি, ভারতে উচ্চপ্রভাব গবেষণায় বড় জোর, সংসদে জানালেন ড. জিতেন্দ্র সিং

সরকারি সূত্রে উল্লেখ, দুর্যোগের সম্ভাবনা দেখা দিলেই সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মোবাইল ফোনে সরাসরি এসএমএস সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। যেমন ‘ফেসবুক (Facebook)’, ‘এক্স (X)’ এবং ‘হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)’ গ্রুপের মাধ্যমে আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা এবং জরুরি নির্দেশিকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। সরকারি সংস্থাগুলি শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর করছে না, বরং প্রচলিত গণমাধ্যমকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতীয় ও রাজ্য স্তরে নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং মিডিয়া ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়। এর ফলে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা নিয়মিতভাবে ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও (All India Radio)’ -এর মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এছাড়া সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের মোবাইল ফোনে সরাসরি এসএমএসের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (Indian National Centre for Ocean Information Services বা INCOIS)’। এই সংস্থার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমুদ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে মৎস্যজীবীদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে গভীর সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের জন্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রে থাকা নৌকাগুলিতে সতর্কবার্তা পাঠাতে ‘ন্যাভিক (NAVIC)’ স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এমন এলাকাতেও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না।

আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাস এবং সতর্কবার্তা জারির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ‘ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department বা IMD)’। ঘূর্ণিঝড়ের মরসুম শুরু হওয়ার আগে আইএমডি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে। এই বৈঠকগুলিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি, উদ্ধার পরিকল্পনা এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হলে আইএমডির কর্তৃপক্ষ সরাসরি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এর ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হয়। রাজ্য স্তরেও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ‘স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (State Disaster Management Authority বা SDMA)’ এবং ‘স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (State Emergency Operation Centre বা SEOC)’। এই সংস্থাগুলি নিজেদের রাজ্য পর্যায়ের সতর্কবার্তা যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে আগাম সতর্কতা পৌঁছে দেয়। তবে সূত্রের খবর, এখনও কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দূরবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল এবং ডিজিটাল সংযোগ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে সাইরেন বসানো, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং মৎস্যজীবীদের জন্য স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্যগুলিকে এই ধরনের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ‘স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (State Disaster Response Fund বা SDRF)’ এবং ‘স্টেট ডিজাস্টার মিটিগেশন ফান্ড (State Disaster Mitigation Fund বা SDMF)’ -এর মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। এই অর্থ ব্যবহার করে রাজ্য সরকারগুলি স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কবার্তা প্রচার ব্যবস্থা উন্নত করতে পারে। এছাড়া যদি কোনও রাজ্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা চায়, তাহলে কেন্দ্র সরকার ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (National Disaster Response Fund বা NDRF)’ এবং ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন ফান্ড (National Disaster Mitigation Fund – NDMF)’ -এর নির্দেশিকা অনুযায়ী সেই আবেদন বিবেচনা করে।

লোকসভায় ‘ড. জিতেন্দ্র সিং (Dr. Jitendra Singh)’ বলেন, ‘দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত এবং নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে আগাম সতর্কতা আরও কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kolkata weather update today | বৃষ্টি বিদায়, ফিরছে রোদ, কলকাতায় বাড়বে তাপমাত্রা, ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তির আশঙ্কা

Sasraya News
Author: Sasraya News