প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ক্রিকেটের ময়দানে বিশ্বজয়ের আনন্দ যেমন বিরল, তেমনই কখনও কখনও সেই সাফল্যের পেছনে থাকা ব্যক্তিগত সম্পর্কও হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে এমনই এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেছেন তারকা ক্রিকেটার সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজের জীবনের অন্যতম বড় সাফল্যের মুহূর্তে তিনি প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানালেন স্ত্রী চারুলতা রমেশকে (Charulatha Ramesh)। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি খোলা প্রেমপত্র পোস্ট করে সঞ্জু লিখেছেন তাঁর জীবনের কঠিন সময়, সংগ্রাম এবং সাফল্যের পথে স্ত্রী কীভাবে তাঁর পাশে থেকেছেন। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে এক সময় অনিশ্চয়তার মুখে ছিলেন সঞ্জু। অনেকের মতে তিনি প্রতিযোগিতার মূল দলে থাকার সম্ভাবনাও কম ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে উঠে এসে শুধু বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই করেননি, বরং দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ভারতের বিশ্বজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, প্রতিযোগিতার শেষে তাঁকেই নির্বাচিত করা হয়েছে সেরা ক্রিকেটার হিসেবে। এমন এক ঐতিহাসিক সাফল্যের পর নিজের জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটির উউদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন একটি আবেগময় চিঠি।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা সেই বার্তায় সঞ্জু তাঁর স্ত্রীকে তামিল শব্দ ‘পন্ডাত্তি’ বলে সম্বোধন করেছেন, যার অর্থ স্ত্রী। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘যে দিন থেকে তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে, সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত তুমি আমার পাশে থেকেছ। আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে সমর্থন করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’ তাঁর কথায়, জীবনের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা, সব সময়ই চারুলতা তাঁর পাশে থেকেছেন। সঞ্জু আরও লিখেছেন, ‘আমি যেমনই হই না কেন, তুমি আমাকে নিঃশর্ত ভাবে ভালোবেসেছ। বাইরের পৃথিবীর কাছে আমি যাই হই, তোমার কাছে আমি সব সময় সৎ থেকেছি। তুমি আমার ভালো দিক যেমন দেখেছ, তেমনই আমার দুর্বলতাও দেখেছ। তবুও তুমি আমার পাশে থেকেছ।’ উল্লেখ্য, ক্রিকেটারদের জীবন অনেক সময়ই কঠিন শৃঙ্খলা এবং অনিশ্চয়তায় ভরা। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা, অনবরত অনুশীলন এবং ম্যাচের চাপ, এসব নিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকে। সঞ্জুর কথায়, তাঁর স্ত্রী সেই বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে বুঝেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার জীবনে ক্রিকেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা তুমি বুঝেছ। সেই অনুযায়ী নিজের জীবনকেও মানিয়ে নিয়েছ।’
চিঠির শেষ অংশে তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তটার জন্য আমি যেমন অপেক্ষা করেছিলাম এবং স্বপ্ন দেখেছিলাম, ঠিক তেমনই তুমিও সেই স্বপ্ন দেখেছ। এই যাত্রায় আমার সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, পন্ডাত্তি।’ এই পোস্টের সঙ্গে দুটি ছবিও শেয়ার করেছেন সঞ্জু। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ জয়ের পর নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের (Narendra Modi Stadium) উইকেটে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। অন্য ছবিটি অনেক পুরনো। সম্ভবত তাঁদের সম্পর্কের শুরুর সময়কার। সেই ছবিতে দু’জনের সহজ, স্বাভাবিক হাসি যেন তাঁদের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাই বলে দেয়। ক্রিকেট ভক্তদের কাছে সঞ্জুর এই পোস্ট দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ সঞ্জুর এই আবেগঘন বার্তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় সাফল্য অর্জনের পরও সঞ্জু যেভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের মানুষকে সম্মান জানিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
ভারতীয় ক্রিকেটে বহু তারকাই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের গল্প প্রকাশ্যে আনেন না। কিন্তু সঞ্জুর এই খোলা চিঠি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে। কারণ, এতে ফুটে উঠেছে সাফল্যের পেছনে থাকা মানবিক কাহিনি, সংগ্রাম, ভালবাসা এবং পারস্পরিক সমর্থনের কথা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খেলাধুলার জগতে মানসিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন খেলোয়াড় যখন মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন তাঁর পরিবারের সমর্থন তাঁকে অনেকটাই শক্তি দেয়। সঞ্জুর চিঠি সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মতে, বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মাঝেও এমন আবেগঘন বার্তা দেখায় যে সঞ্জু শুধু একজন সফল ক্রিকেটার নন, তিনি একজন সংবেদনশীল মানুষও। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এই মুহূর্ত তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফি হাতে সঞ্জুর ছবি যেমন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনই তাঁর লেখা এই ছোট্ট প্রেমপত্রও হয়তো ভক্তদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে। কারণ, এই চিঠিতে লুকিয়ে রয়েছে সাফল্যের আড়ালের কথা, একজন ক্রিকেটারের পাশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর জীবনের সঙ্গীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sanju Samson World Cup performance | ‘দু’বছর আগেই দেখেছিলাম এই স্বপ্ন’ : বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হয়ে আবেগঘন স্বীকারোক্তি সঞ্জু স্যামসনের



