সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তে শুধু ক্রিকেটাররাই নন, আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন একজন রহস্যময়ী তরুণীও। ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে বসে তিনি বারবার ক্যামেরায় ধরা পড়ছিলেন। লাল রঙের পোশাকে উচ্ছ্বসিত সমর্থন জানাচ্ছিলেন ভারতীয় দলকে। ভারত যখন ধীরে ধীরে বিশ্বকাপ জয়ের দিকে এগোচ্ছে, তখন প্রায়ই সম্প্রচারকারীদের ক্যামেরা গিয়ে থামছিল তাঁর মুখে। এরপর ভারতীয় দলের জয়ের পর মাঠে যখন উল্লাসে মেতে ওঠেন ক্রিকেটারেরা, তখনও দেখা যায় তাঁকে। গ্যালারি থেকে নেমে সরাসরি মাঠে এসে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায় ওই তরুণীকে। আর সেই দৃশ্যই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে। বিশ্বকাপ জয়ের পরের উদ্যাপনের সময় ভারতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা যায়। কখনও তিনি কথা বলছেন সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) -এর সঙ্গে, আবার কখনও দেখা যায় তিনি আলিঙ্গন করছেন ঈশান কিশনকে (Ishan Kishan)। এমনকী দলের উল্লাসের সময় হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) ও ঈশানের নাচের মুহূর্তেও তাঁকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মাঠে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন হার্দিকের বান্ধবী মাহিকা শর্মাও (Mahika Sharma)। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কে এই রহস্যময়ী নারী, যিনি এত স্বাভাবিক ভাবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিশ্বজয়ের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন?

মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর ছবি ও ভিডিও। ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় জল্পনা। অনেকেই জানতে চান, এই তরুণী কী দলের কোনও সদস্যের আত্মীয়া, না কি বিশেষ অতিথি? কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামনে আসে তাঁর পরিচয়। জানা যায়, ওই তরুণীর নাম অদিতি হুন্ডিয়া (Aditi Hundia)। তিনি ভারতীয় ক্রিকেটার ঈশান কিশান (Ishan Kishan) -এর প্রেমিকা। ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখতে তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন। আর দল বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্রিকেটারদের সঙ্গে আনন্দে সামিল হওয়াতেই তাঁর উপস্থিতি সবার নজরে আসে। ঈশান কিশনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত খুব বেশি আলোচনা শোনা যায় না। তবে বিশ্বকাপের মাঝেই তাঁর পারিবারিক সূত্রে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঈশানের দাদু অনুরাগ পাণ্ডে (Anurag Pandey) একটি সাক্ষাৎকারে জানান যে দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঈশান কাকে এবং কবে বিয়ে করতে চায়, সেটা আমরা জানি। ও যার সঙ্গে সুখে থাকতে চায়, আমরা সেটাকেই সমর্থন করি। পরিবারের তরফে কোনও আপত্তি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেছে। তাই ঈশানের ক্ষেত্রেও আমরা একই ভাবে বিষয়টিকে দেখছি।’ ঈশানের দাদুর কথায়, ‘ঈশানের বান্ধবীর নাম অদিতি। তিনি একজন মডেল। আমরা তাঁর সম্পর্কে জানি এবং এই সম্পর্ক নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’ যদিও বিয়ের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে দুই পরিবারের সম্মতি রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

অদিতি হুন্ডিয়ার পরিচয়ও বেশ চমকপ্রদ। তিনি রাজস্থানের জয়পুর (Jaipur) শহরের একটি ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে। মডেলিং জগতে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি মিস ডিভা (Miss Diva) প্রতিযোগিতায় খেতাব জিতে প্রথমবার আলোচনায় আসেন। এরপর তিনি মিস ইন্ডিয়া (Miss India) প্রতিযোগিতার ফাইনালেও জায়গা করে নেন। সেই সময় থেকেই ফ্যাশন ও মডেলিং দুনিয়ায় তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রও নতুন নয়। ২০১৯ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (Indian Premier League) -এর একাধিক ম্যাচে গ্যালারিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে জানা যায়, সেই সময় থেকেই ঈশান কিশানের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব তৈরি হয়।
প্রথম দিকে তাঁদের যোগাযোগ মূলত সমাজমাধ্যমের মাধ্যমেই ছিল বলে জানা যায়। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়। যদিও দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পর্ক খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্তে মাঠে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। বিশ্বকাপ জয়ের মতো ঐতিহাসিক মুহূর্তে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঝলকও সামনে আসে। ভারতের এই সাফল্যের রাতে যেমন মাঠে ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনই দেখা গেছে তাঁদের কাছের মানুষদের উপস্থিতিও। সেই আবেগঘন মুহূর্তে ঈশান কিশনের পাশে ছিলেন অদিতি হুন্ডিয়া, এটাই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার নতুন বিষয়। বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে ভারতীয় দল যখন ইতিহাস গড়েছে, তখন মাঠের সেই এক ঝলক ছবিই যেন বলছে, এই সাফল্যের আনন্দ শুধু ক্রিকেটারদের নয়, তাঁদের জীবনের বিশেষ মানুষদের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্ত।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Tarashankar Bandopadhyay history, Saraswati Puja tradition | নীল সরস্বতীর আশীর্বাদেই জন্ম কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্করের! হুগলির এই গ্রামে আজও অক্ষুণ্ণ বিরল সাধনা ও পূজার ঐতিহ্য



