সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : চলতি আর্থিক বছর ২০২৫-২৬-এর তৃতীয় ত্রৈমাসিকের জিডিপি (GDP বা Domestic Product) বৃদ্ধির হার প্রকাশ করল কেন্দ্র। শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্বে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। পাশাপাশি প্রকৃত বা স্থির মূল্যে জিডিপি বৃদ্ধির হারও প্রত্যাশার তুলনায় উঁচুতে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ভারতের আর্থিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, তৃতীয় ত্রৈমাসিকের তথ্য দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করছে। চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকেই জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে ইতিবাচক বার্তা মিলেছিল। জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যায়ে যে ধারা দেখা গিয়েছিল, তা অক্টোবর-ডিসেম্বরে আরও সুসংহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্বাভাস ছিল সূচক ৭ থেকে ৮.১ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বাস্তবে ঘোষিত হার সেই প্রত্যাশার মধ্যেই অবস্থান করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত জিডিপি বা রিয়েল জিডিপি জানুয়ারি মাসে ৭.৪ শতাংশের আশেপাশে থাকবে বলে আগে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, তা বেড়ে ৭.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। তুলনামূলক বিচারে গত অর্থবর্ষ ২০২৪-’২৫-এ প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.১ শতাংশ। সেই নিরিখে চলতি অর্থবছরে বৃদ্ধির হার বেশি। জিডিপি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিবৃতি দেয় জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (National Statistical Office)। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে স্থির মূল্যে জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪.৫৪ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭৮.৪১ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ পরিমাণগত দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। এবার জিডিপি হিসাব প্রকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এত দিন ২০১১-১২ অর্থবর্ষকে ভিত্তিবর্ষ ধরে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হিসাব কষা হত। কিন্তু গত এক দশকে বাজারের কাঠামো, ভোক্তাদের ক্রয়াভ্যাস এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। পুরনো ভিত্তিবর্ষ ধরে হিসাব করলে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সাযুজ্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। সেই কারণে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক ২০২২-২৩ অর্থবর্ষকে নতুন ভিত্তিবর্ষ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষ ধরে জিডিপি হিসাব করলে বর্তমান অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র আরও যথাযথভাবে ধরা পড়বে। প্রযুক্তি, পরিষেবা খাত, ডিজিটাল লেনদেন ও ভোক্তা ব্যয়ের পরিবর্তিত ধারা এই নতুন পদ্ধতিতে প্রতিফলিত হবে বলে মত কেন্দ্রের। অর্থনীতির আকার, উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতের সম্প্রসারণ বুঝতে এই সংশোধিত পদ্ধতি সহায়ক হবে বলেও জানানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রক সূত্রে বলা হয়েছে, ‘ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল বৃদ্ধির পথে রয়েছে।’ উৎপাদন, অবকাঠামো এবং পরিষেবা খাতে ধারাবাহিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিই জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আগেই জানিয়েছিল, উন্নয়নশীল অর্থনীতির মধ্যে ভারত দ্রুততম বৃদ্ধির পথে রয়েছে। তৃতীয় ত্রৈমাসিকের এই ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার সেই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের একাংশের।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিল্পোৎপাদন ও পরিষেবা খাতে উন্নতি জিডিপি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। কৃষিক্ষেত্রেও তুলনামূলক স্থিতিশীল প্রবণতা বজায় রয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতি, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলিও সামগ্রিক বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। অর্থনৈতিক সূচক বৃদ্ধির এই ধারা বজায় থাকলে চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক বৃদ্ধির হারও শক্তিশালী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে আরও দুটি ত্রৈমাসিকের তথ্য বিবেচনায় আসবে। পাশাপাশি জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে পৌঁছনোর পর কেন্দ্রীয় সরকার আত্মবিশ্বাসী। নতুন ভিত্তিবর্ষে প্রকাশিত তথ্য দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন বলেই দাবি প্রশাসনের। এখন নজর থাকবে আগামী ত্রৈমাসিকের পরিসংখ্যানের দিকে, যা থেকে চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক আর্থিক গতিপ্রকৃতি আরও পরিষ্কার হবে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Survey 2026, India GDP growth-employment growth India | ইকোনমিক সার্ভে রিপোর্টে : কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রিজার্ভে রেকর্ড শক্তি, বৈশ্বিক টালমাটালেও ভারতের অর্থনীতি অটল




