সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা: ব্যস্ত মহানগরের রাস্তায় আচমকা দুর্ঘটনা। বাম্পারের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক থেকে ছিটকে পড়লেন এক দম্পতি। আশপাশে মুহূর্তের মধ্যে ভিড় জমলেও, ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি নজরে পড়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-এর। গাড়ি থামিয়ে নিজে নেমে তিনি উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে নিজের গাড়িতেই আহতদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠান। তাঁর এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসার সুর শোনা গিয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে খিদিরপুর থেকে গার্ডেনরিচমুখী রাস্তায়। জানা গিয়েছে, ওই দম্পতি মোটরবাইকে করে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ সামনের একটি বাম্পারে ব্রেক সঠিকভাবে কাজ না করায় বাইকটির ভারসাম্য নষ্ট হয়। মুহূর্তের মধ্যে দু’জনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাক্কা এতটাই জোরাল ছিল যে দু’জনেই কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকেন। ঠিক সেই সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এলাকার বিধায়ক ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। দুর্ঘটনা চোখে পড়তেই তিনি তাঁর গাড়ি থামাতে বলেন। নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের খোঁজখবর নেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়া তদারক করেন।
দুর্ঘটনায় আহত গৃহবধূর মাথায় আঘাত লাগে বলে জানা যায়। তিনি রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথা ঘুরে যাওয়ার অভিযোগ করেন। স্বামী কোনও রকমে উঠে দাঁড়ালেও স্ত্রীকে উঠিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ‘মহিলা মাঝেমধ্যেই ঢলে পড়ছিলেন।’ এই পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র।ফিরহাদ হাকিম নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দেন আহত দম্পতিকে তাঁর সরকারি গাড়িতে তুলে নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে। দ্রুত তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সময়মতো সাহায্য না পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘এর মধ্যে বড় কিছু নয়। যে কোনও সাধারণ মানুষই রাস্তায় জখম হয়ে থাকা মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার চোখের সামনে ঘটনাটা ঘটেছে, তাই আমি নিজের গাড়িতে করে পাঠালাম।’ তাঁর এই বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই তুলে ধরেছেন। স্থানীয়দের মতে, ব্যস্ত সড়কে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটলেও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় সমস্যা বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধির সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবি রাখে। খিদিরপুর-গার্ডেনরিচ এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) প্রধান হিসেবে ফিরহাদ হাকিম দীর্ঘদিন ধরেই শহরের নাগরিক পরিষেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। তবে এদিনের ঘটনায় প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত মানবিক উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। পথচলতি সাধারণ মানুষও বলেন, ‘নেতারা যদি এভাবে পাশে থাকেন, মানুষের ভরসা বাড়ে।’ দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাইকটি রাস্তার একপাশে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দম্পতির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে। যদিও বিস্তারিত স্বাস্থ্য-রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি, পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মহানগরের ব্যস্ত সড়কে বাম্পার বা স্পিড ব্রেকার নিয়ে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ উচ্চতা বা পর্যাপ্ত চিহ্ন না থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এই ঘটনাও সেই প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।
রাজনৈতিক মহলেও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী ও শাসক দুই পক্ষেরই অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে ফিরহাদ হাকিম নিজে বিষয়টিকে বড় করে দেখতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘মানুষ হিসেবে যা করা উচিত, তাই করেছি।’ উল্লেখ্য, রাস্তার দুর্ঘটনা প্রতিদিনের বাস্তবতা হলেও সময় মতো সাহায্য জীবন বাঁচাতে পারে, এই বার্তাই যেন সামনে এল এদিনের ঘটনায়। জনপ্রতিনিধির তৎপরতা একদিকে যেমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, অন্যদিকে নাগরিকদের মধ্যেও সহমর্মিতার গুরুত্ব তুলে ধরল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee statement, Kerala renamed Keralam | ‘কেরলম’ অনুমোদনের পর তীব্র সুর মমতার, ‘বিজেপি-সিপিএম যোগ এখন লিখিত’ : পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করেই ছাড়বেন দাবি মুখ্যমন্ত্রীর




