প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি করল International Cricket Council (ICC)। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল মহিলা টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ সূচি। ১২ জুন থেকে শুরু হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত টুর্নামেন্ট, আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুলাই। এবারের আসর বসছে ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র England-এ। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় খবর, ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই হাইভোল্টেজ ভারত-পাক দ্বৈরথ দেখতে চলেছে বিশ্ব। অধিনায়ক Harmanpreet Kaur (হরমনপ্রীত কৌর)-এর নেতৃত্বে ভারতীয় মহিলা দল কঠিন গ্রুপে পড়েছে, যেখানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মতো প্রতিপক্ষ।

এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে মোট ১২টি দল। তাদের দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস। গ্রুপ ‘বি’-তে খেলবে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, নিউ জিল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড। উল্লেখ্য যে, ১২ জুন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আয়োজক ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। বার্মিংহামের ঐতিহাসিক Edgbaston Cricket Ground-এ অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ। আয়োজক দেশ ঘরের মাঠে অভিযান শুরু করবে, যা স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে।
টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু ১৪ জুন, আর প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। সেই ম্যাচও হবে এজবাস্টনেই। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ভারত-পাকিস্তান মহারণ। ক্রিকেটবিশ্বে এই দ্বৈরথ বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একজন ক্রিকেট বিশ্লেষকের কথায়, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা আবেগ, আলাদা চাপ। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই লড়াই সব সময়ই বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।’ পাকিস্তান ম্যাচের পর ১৭ জুন লিডসের Headingley Cricket Ground-এ নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে ভারত। ২১ জুন ও ২৫ জুন ম্যানচেস্টারের Old Trafford Cricket Ground-এ যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলবে হরমনপ্রীতদের দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৮ জুন লন্ডনের ঐতিহাসিক Lord’s Cricket Ground-এ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। এই ম্যাচই নির্ধারণ করতে পারে সেমিফাইনালের ভাগ্য।
গ্রুপ পর্ব থেকে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল মোট চারটি সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে জায়গা করে নেবে শেষ চারে। ৩০ জুন ও ২ জুলাই দুটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনের The Oval-এ। আর ৫ জুলাই লর্ডসে অনুষ্ঠিত হবে মহিলাদের টি২০ বিশ্বকাপের মহারণ, ফাইনাল।ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই মহিলা ক্রিকেটে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে ভারতকে।
গত বছর দেশের মাটিতে একদিনের বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিল ভারতীয় মহিলা দল। প্রথমবারের মতো আইসিসি ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিল তারা। সেই সাফল্যের রেশ এখনও সতেজ। এখন লক্ষ্য টি২০ ফরম্যাটে বিশ্বজয়। ছোট ফরম্যাটে আগ্রাসী ক্রিকেট ও দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মিশেলে গড়া ভারতীয় দল কি ইংল্যান্ডের মাটিতে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে, সেটাই এখন দেখার।অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের সূচিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন সমান সংখ্যক ম্যাচ রাখা হয়নি। কোনও দিন একটি, কোনও দিন দু’টি, আবার কোনও দিন তিনটি ম্যাচও রয়েছে। ফলে দর্শকদের জন্য একাধিক ‘ডাবল হেডার’ ও ‘ট্রিপল হেডার’ উপভোগের সুযোগ থাকছে। ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বড় ভূমিকা নিতে পারে। জুন-জুলাই মাসে সিম ও সুইং সহায়ক পরিবেশে পেসারদের গুরুত্ব বাড়বে। পাশাপাশি বড় মাঠে ফিল্ডিং দক্ষতাও হয়ে উঠবে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা তুঙ্গে। এক প্রাক্তন ক্রিকেটার মন্তব্য করেছেন, ‘বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ম্যাচ খেললে দল দ্রুত ছন্দে ঢুকে যেতে পারে। তবে চাপ সামলানোই হবে আসল পরীক্ষা।’ উল্লেখ্য, মহিলা টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বমঞ্চে মহিলা ক্রিকেটের আরও এক মহোৎসব। ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ভেন্যুগুলিতে এক মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্ট ক্রিকেটপ্রেমীদের উপহার দেবে রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা ও আবেগের অসংখ্য মুহূর্ত। এখন অপেক্ষা ১৪ জুনের, যেদিন এজবাস্টনের সবুজ মাঠে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। সেদিনই শুরু হবে হরমনপ্রীতদের বিশ্বজয়ের স্বপ্নযাত্রা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Brass Band Zimbabwe India World Cup | টাকা নেই, তবু স্বপ্ন অটুট! ভারতে বিশ্বকাপ দেখতে ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ জিম্বাবোয়ের ‘ব্রাস ব্যান্ড’ ও ‘ক্যাসল কর্নার’ সমর্থকরা




