Prince Andrew arrested news, Andrew Mountbatten Windsor investigation | ১২ ঘণ্টার জেরা শেষে মুক্তি তবু স্বস্তি নেই, এপস্টিন বিতর্কে আবারও চাপে প্রিন্স অ্যান্ড্রু

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লন্ডন: দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর মুক্তি পেলেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু (Prince Andrew), বর্তমান পরিচয়ে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর (Andrew Mountbatten-Windsor)। তবে এই মুক্তি তাঁর জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনেনি বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তদন্তকারীদের নজরদারির আওতায় তাঁকে এখনও থাকতে হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসনিক সূত্র। বৃহস্পতিবার সকালে নরফকের স্যান্ড্রিংহাম প্যালেস (Sandringham Palace) থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। যদিও গ্রেফতারির পর টেম্‌স ভ্যালি পুলিশ (Thames Valley Police) যে বিবৃতি প্রকাশ করে, সেখানে সরাসরি অ্যান্ড্রুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ষাটোর্ধ্ব একজন ব্যক্তিকে সরকারি দায়িত্বে থেকে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ পুলিশি ভাষ্য সংযত হলেও ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম বহু বছর ধরেই মার্কিন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন (Jeffrey Epstein) -এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আসছে। এপস্টিন কেলেঙ্কারির পর থেকেই অ্যান্ড্রুর জনসম্মুখে অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়ে। মার্কিন তদন্ত নথির একাধিক অংশে তাঁদের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’-এর উল্লেখ রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, সংবেদনশীল কিছু সরকারি তথ্য এপস্টিনের কাছে পৌঁছেছিল, যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক গ্রেফতারি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নরফক এবং বার্কশায়ারের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা না হলেও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ‘তদন্তের পরিধি বিস্তৃত এবং একাধিক নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ অ্যান্ড্রুর মুক্তির পরও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ‘এটি কেবল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ। প্রয়োজন হলে আবারও তাঁকে ডাকা হতে পারে।’ অর্থাৎ আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়। ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী, প্রাথমিক জেরা শেষে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও তদন্ত চলতে পারে।

আরও পড়ুন : Epstein Girlfriend Revealed | জেফ্রি এপস্টিনের প্রেমিকা কারিয়ানা শুলিয়াক, তাঁকেই মৃত্যুর আগে শেষ ফোন করেছিলেন এপস্টিন

এপস্টিন বিতর্কে নাম জড়ানোর পর থেকেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর দূরত্ব তৈরি হয়। গত অক্টোবর মাসে রাজপরিবারের তরফে তাঁর একাধিক সামরিক খেতাব ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়। তখন এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, ‘যাঁরা যে কোনও ধরনের নিগ্রহের শিকার, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানায় রাজপরিবার।’ এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয় যে, রাজপরিবার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজা চার্লস তৃতীয় (King Charles III) প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্য, ‘আইন আইনের পথেই চলবে।’ একই সঙ্গে তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। রাজা চার্লসের এই মন্তব্যকে অনেকেই দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তবে অ্যান্ড্রু নিজে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিতে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজপরিবার একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিতর্কিত সদস্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে, তবু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বারবার এপস্টিন প্রসঙ্গ উঠে আসায় অস্বস্তি থেকেই যাচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ‘গ্রেফতার মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়।’ তদন্তের স্বচ্ছতা ও প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। অন্য দিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলির বক্তব্য, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে আইন প্রয়োগ হওয়া জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, ‘আইনের চোখে সবাই সমান হওয়া উচিত।’ আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এত দিন পরে কেন এই পদক্ষেপ?’ তবে পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও এতে জড়িত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যুর পরও তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্ত থামেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন উভয় দেশেই সংশ্লিষ্ট নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগের ছায়া এখনও কাটেনি। প্রসঙ্গত, ১২ ঘণ্টার টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রিন্স অ্যান্ড্রু আপাতত মুক্ত হলেও তাঁর সামনে আইনি লড়াইয়ের পথ দীর্ঘ। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত বিতর্ক থামার সম্ভাবনা কম। ব্রিটিশ রাজনীতি ও রাজতন্ত্র, উভয় ক্ষেত্রেই এই ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shodh: A Stirring Stage Tribute to Taslima Nasreen’s Unflinching Voice

Sasraya News
Author: Sasraya News