শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউডে এমন কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলি ভেঙে যাওয়ার বহু বছর পরেও কৌতূহলের কেন্দ্রে থেকে যায়। সইফ আলি খান (Saif Ali Khan) ও অমৃতা সিং (Amrita Singh) -এর সম্পর্ক তেমনই এক অধ্যায়। বিচ্ছেদের পর কেটে গিয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময়, কিন্তু তাঁদের প্রেম, বিয়ে এবং আলাদা হয়ে যাওয়ার গল্প আজও চর্চার শিরোনামে। বয়সের ব্যবধান, ধর্মীয় ভিন্নতা, পরিবারিক প্রেক্ষাপট, সব নিয়ে এই সম্পর্ক ঘিরে বিতর্ক কম হয়নি। এবার সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেন বলিউডের খ্যাতনামা পোশাকশিল্পী আবু জানি (Abu Jani) ও সন্দীপ খোসলা (Sandeep Khosla)। সইফ-অমৃতার বিয়ের দিনের একেবারে অন্দরমহলের গল্প প্রকাশ্যে আনলেন তাঁরা।

সইফ আলি খান ও অমৃতা সিং-এর সম্পর্ক শুরু থেকেই ছিল প্রথাভাঙা। অমৃতা বয়সে সইফের থেকে ১৩ বছরের বড়। সেই সময় বলিউডে বয়সের এই ফারাক নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। তার উপর ধর্মীয় ভিন্নতা বিষয়টিও সামনে আসে। অমৃতার মা রুকসানা সুলতানা (Rukhsana Sultana) ছিলেন মুসলিম পরিবারের মেয়ে, আর বাবা শিবেন্দ্র সিং বির্ক (Shivendra Singh Virk) পাঞ্জাবি শিখ। অন্য দিকে, সইফের মা শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore) ছিলেন হিন্দু, শর্মিলা বিয়ের সময় ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন, আর বাবা মনসুর আলি খান পটৌডী (Mansoor Ali Khan Pataudi) ছিলেন মুসলিম নবাব পরিবারের সদস্য। এত ভিন্নতার মাঝেও সইফ কখনওই অমৃতাকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেননি, এই কথা সইফ নিজেই একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আবু জানি ও সন্দীপ খোসলা করে জানিয়েছেন, সইফ ও অমৃতার বিয়ের সিদ্ধান্ত ছিল হঠাৎ নেওয়া। সাত-আট মাসের সম্পর্কের পরেই বিয়ের কথা ভাবেন তাঁরা। তবে অমৃতা পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না। তবু শেষ পর্যন্ত দু’জনেই সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা একসঙ্গে জীবন শুরু করবেন। সেই বিয়ের দিনটিই আজ নতুন করে আলোচনায়।
আবু ও সন্দীপের কথায়, সইফ ও অমৃতা তাঁদের কাছে এসে একদিন হঠাৎই বলেন, তাঁরা বিয়ে করতে চান। সময় ছিল কম, আয়োজনও ছিল একেবারে ঘরোয়া। কিন্তু বিয়েটা যেন দু’জনের বিশ্বাস ও সম্মানের প্রতিফলন হয়ে ওঠে। তাঁরা জানান, নিকাহ্ (Nikah) অনুষ্ঠানের জন্য একজন মৌলবী ও এক জন শিখ পণ্ডিত, দু’জনকেই উপস্থিত রাখা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তই দেখিয়ে দেয়, ধর্মের সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছিলেন সইফ ও অমৃতা।
নিকাহ’র দিন অমৃতা সেজেছিলেন তাঁর মায়ের গয়নায়। কোনও আড়ম্বর ছিল না, ছিল না ঝলমলে আয়োজন। অন্য দিকে, সইফ পরেছিলেন একটি সাদামাটা কিন্তু রাজকীয় গলাবন্ধ শেরওয়ানি। আবু ও সন্দীপ জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেরাও নিকানামা-য় সাক্ষী হিসাবে সই করেছিলেন। সেই নথিই আজ এই বিয়ের একমাত্র লিখিত স্মারক।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি অবশ্য অমৃতার নামকরণ নিয়ে। আবু ও সন্দীপ জানিয়েছেন, নিকাহ্-র সময় মৌলবী অমৃতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তাঁর নাম কী। তার পরেই তিনি জানান, নতুন নামকরণ হবে এবং তা ‘এ’ অক্ষর দিয়েই শুরু হতে হবে। সেই মুহূর্তেই মৌলবী অমৃতার নতুন নাম রাখেন ‘আজিজা’ (Aziza)। এই নামকরণ কোনও ধর্মান্তরের অংশ ছিল না, তা নিকাহ্-র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এমনটাই জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠ সূত্র। এই নামকরণের বিষয়টি এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি। তাই এ কথা সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে সইফ ও অমৃতার সম্পর্ক ছিল সমঝোতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর দাঁড়ানো। কোনও রকম জোর বা চাপ সেখানে ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্কের সমীকরণ বদলায়। দাম্পত্য জীবনের নানা টানাপোড়েনের পরে ২০০৪ সালে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন সইফ ও অমৃতা। তাঁদের দুই সন্তান সারা আলি খান (Sara Ali Khan) ও ইব্রাহিম আলি খান (Ibrahim Ali Khan) মায়ের সঙ্গেই বড় হন। বিচ্ছেদের পরেও সইফ ও অমৃতার সম্পর্ক সৌজন্যপূর্ণ ছিল বলেই জানিয়েছেন তাঁদের ঘনিষ্ঠরা।
বর্তমানে সইফ আলি খান করিনা কাপূর খানের (Kareena Kapoor Khan) সঙ্গে সুখী দাম্পত্যে আবদ্ধ, অন্য দিকে অমৃতা সিংহ নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন পরিবার ও কাজের জগতে। তবু তাঁদের অতীতের সেই সম্পর্ক আজও বলিউডের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। আবু জানি ও সন্দীপ খোসলার কথায়, ‘ওদের বিয়েটা ছিল খুব ব্যক্তিগত, খুব মানবিক। কোনও নাটক ছিল না, ছিল শুধু বিশ্বাস।’ এই অজানা গল্প প্রকাশ্যে আসতেই আবারও প্রমাণ হল সইফ ও অমৃতার সম্পর্ক এক সময়ের সামাজিক ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা সাহসী সিদ্ধান্ত।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sara Ali Khan birthday, Kareena Kapoor message to Sara | ৩০-এ পা দিলেন সারা আলি খান, জন্মদিনে আবেগঘন বার্তা করিনা কপূরের


