Chingrighata Metro Work Stalled | চিংড়িঘাটার জটেই থমকে মেট্রো, হাই কোর্টের নির্দেশ না-মানার অভিযোগে মমতা সরকারের দিকে তোপ রেলমন্ত্রীর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প চিংড়িঘাটা (Chingrighata) মেট্রোর কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে। নিউ গড়িয়া (New Garia) থেকে কলকাতা বিমানবন্দর (Kolkata Airport) পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ আটকে যাওয়ার দায় সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) -এর উপর চাপালেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

তাঁর অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় অনুমতি দিচ্ছে না বলেই কাজ এগোচ্ছে না। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পরদিনই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজ থমকে আছে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার জন্য। হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে কাজ শেষ করতে, কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত মানা হচ্ছে না।’ তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার যে, কেন্দ্রের তরফে এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও রাজ্যের তরফে সহযোগিতার অভাবেই সমস্যা জটিল হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi on India US Trade Deal | ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’, দেশের প্রত্যেকেরই লাভ হবে: এনডিএ বৈঠকে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

চিংড়িঘাটার মোড়ে মেট্রোর কাজ আটকে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরেই। নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইন (Orange Line) মেট্রোর সম্প্রসারণে মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ বাকি। কিন্তু এই সামান্য অংশটাই এখন গোটা প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ, ওই অংশে কাজ করতে হলে ইএম বাইপাস (EM Bypass) -এর একটি অংশ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে হবে। ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হলে শহরের উপর বড় প্রভাব পড়বে, এই যুক্তিতেই রাজ্য সরকার অনুমতি দিতে চাইছে না বলে জানা যাচ্ছে। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকলেও বাস্তবে কাজ এগোনোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) রাজ্য সরকার এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষকে এক টেবিলে বসে সমস্যার সমাধান খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য, কেন্দ্র, মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল (RVNL) -সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে সদর্থক আলোচনা হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি হয়নি। কয়েক সপ্তাহ আগেও বৈঠক হয়েছিল, কিন্তু তার পর রাজ্যের তরফে জানানো হয়, এই মুহূর্তে রাস্তা বন্ধের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। জানুয়ারি মাসেও কাজ শুরু করা যাবে না, এমন ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছিল।

এই অবস্থায় মামলার শেষ শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল (Sujay Paul) এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন (Parthasarathi Sen) -এর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত নির্দেশ দেয়, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু জানুয়ারি পেরিয়ে ফেব্রুয়ারি এলেও এখনও সেই অংশে কাজ শুরু হয়নি। এই প্রেক্ষিতেই রেলমন্ত্রী আবারও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও দাবি করেন, কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকারের আমলে অভূতপূর্ব গতি এসেছে। তাঁর কথায়, ‘গত ৪০ বছরে কলকাতা মেট্রোর মাত্র ২৭ কিলোমিটার কাজ হয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালের পর গত ১১ বছরে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণ হয়েছে।’ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চান, কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা ও আর্থিক সহায়তার অভাব নেই। সমস্যা হচ্ছে রাজ্যের সহযোগিতা না পাওয়া। রেলমন্ত্রী অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দিনে রাজ্য সরকার সহযোগিতার হাত বাড়াবে এবং চিংড়িঘাটার জট দ্রুত কাটবে। কারণ এই অংশের কাজ শেষ হলে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে, যা শহরের যানজট কমাতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

উল্লেখ্য, সদ্য পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতা মেট্রোর তিনটি লাইনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে বরাদ্দের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা। পার্পল লাইন (Purple Line), জোকা (Joka) থেকে মাঝেরহাট (Majerhat) -এর জন্য বরাদ্দ ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। গ্রীন লাইন (Green Line) হাওড়া ময়দান (Howrah Maidan) থেকে সেক্টর ফাইভ (Sector V) -এর বরাদ্দ সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি টাকায়। তবে ব্লু লাইন (Blue Line) দক্ষিণেশ্বর (Dakshineswar) থেকে শহীদ ক্ষুদিরাম (Shahid Khudiram) -এর জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। এক্ষেত্রে যা দেখা যাচ্ছে, চিংড়িঘাটার মেট্রো প্রকল্প এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন, প্রশাসনিক জট এবং আইনি নির্দেশের জালে আটকে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প আরও দীর্ঘ সময় ধরে থমকে থাকবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শহরবাসীর মনে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Molestation Case, Child Abuse Case West Bengal | গোপনাঙ্গে হাত বুলিয়ে নাবালিকাকে নির্যাতন, অভিযুক্তকে আরামবাগ আদালত শোনাল কড়া সাজা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন