Yogi Adityanath salary freeze, UP government employees property disclosure | দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ যোগীর, সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ায় ৬৮ হাজারের বেশি সরকারি কর্মীর বেতন স্থগিত উত্তরপ্রদেশে

SHARE:

সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে ৬৮ হাজারের বেশি সরকারি কর্মীর বেতন স্থগিত করল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : উত্তরপ্রদেশে সরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এক কড়া ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) সরকার। ব্যক্তিগত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়ায় রাজ্যের ৬৮ হাজার ২৩৬ জন সরকারি কর্মীর বেতন সাময়িক ভাবে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্পষ্ট সতর্কবার্তাও দিয়েছে প্রশাসন, যত দিন না সম্পত্তির তথ্য আপলোড করা হবে, তত দিন বেতন মিলবে না। প্রয়োজনে নেওয়া হবে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশ সরকারের মানবসম্পদ পোর্টাল (Human Resource Portal) -এ সমস্ত সরকারি কর্মীদের জন্য তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এই নির্দেশিকায় উল্লেখ ছিল, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য না দিলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। মুখ্যসচিব এসপি গয়াল (S. P. Goyal) একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি কর্মীকে এই সম্পত্তির বিবরণ জমা দিতে হবে। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বিপুল সংখ্যক কর্মী সেই নির্দেশ মানেননি।

সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে ৬৮ হাজারের বেশি সরকারি কর্মীর বেতন স্থগিত করল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ছবি : সংগৃহীত

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৬৮ হাজার ২৩৬ জন কর্মী মানবসম্পদ পোর্টালে তাঁদের সম্পত্তির তথ্য আপলোড করেননি। এর ফলেই যোগী সরকার কড়া অবস্থান নেয় এবং একযোগে ওই সমস্ত কর্মীর বেতন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। প্রশাসনের বক্তব্য, এটি কোনও প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নয়, বরং সরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার অংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যাঁদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা। তথ্য বলছে, তৃতীয় শ্রেণির ৩৪ হাজার ৯২৬ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২২ হাজার ৬২৪ জন কর্মী এখনও পর্যন্ত সম্পত্তির হিসাব দেননি। পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির ৭ হাজার ২০৪ জন এবং প্রথম শ্রেণির ২ হাজার ৬২৮ জন আধিকারিকও এই তালিকায় রয়েছেন। অর্থাৎ প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে শুরু করে নিচু স্তর পর্যন্ত এই নির্দেশিকা কার্যত সকলের জন্যই সমান ভাবে প্রযোজ্য হয়েছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে ৬৮ হাজারের বেশি সরকারি কর্মীর বেতন স্থগিত করল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ছবি : সংগৃহীত

কোন কোন দফতরের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় তথ্য জমা দেননি, সে সংক্রান্ত তালিকাও প্রশাসনের হাতে রয়েছে। রাজস্ব দফতর (Revenue Department), শিক্ষা দফতর (Education Department), স্বাস্থ্য দফতর (Health Department), সমাজকল্যাণ দফতর (Social Welfare Department) -সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নাম উঠে এসেছে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘সরকারি কর্মীদের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির সম্ভাবনা কমাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্পত্তির হিসাব গোপন রাখা মানেই প্রশ্ন ওঠে।’ এবিষয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের যুক্তি, সরকারি কর্মীরা জনগণের করের টাকায় বেতন পান। ফলে তাঁদের আর্থিক অবস্থান ও সম্পত্তির তথ্য জনস্বার্থের সঙ্গেই যুক্ত। বিশেষ করে দুর্নীতি, বেআইনি সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে এই ধরনের তথ্যভাণ্ডার অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের দাবি, নিয়মিত ভাবে সম্পত্তির হিসাব নথিভুক্ত থাকলে কর্মীদের কাজের দক্ষতা ও দায়বদ্ধতাও বাড়ে।

এখানেই শেষ নয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ শুধু বেতন স্থগিত রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যদি সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত তাঁদের সম্পত্তির বিবরণ আপলোড না করেন, তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হবে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের ভাষায়, ‘এটি একটি সুযোগ। যাঁরা এখনও তথ্য দেননি, তাঁরা অবিলম্বে পোর্টালে আপডেট করুন।’ এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একদিকে অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ সরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কিছু কর্মী সংগঠন দাবি তুলেছে, প্রযুক্তিগত সমস্যা বা তথ্য সংক্রান্ত জটিলতার কারণেও অনেকে নির্ধারিত সময়ে তথ্য জমা দিতে পারেননি। তবে সরকার সেই যুক্তি মানতে নারাজ। প্রশাসনের বক্তব্য, পর্যাপ্ত সময় ও সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তবু নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সমর্থকদের মতে, যোগী আদিত্যনাথের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব রূপ দিচ্ছে। বিরোধীদের একাংশ যদিও বলছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে নিম্নস্তরের কর্মীরা বেশি চাপের মুখে পড়ছেন। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইন ও নিয়ম সবার জন্য সমান।তবে, উত্তরপ্রদেশে সরকারি কর্মীদের সম্পত্তির হিসাব সংক্রান্ত এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। যোগী সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যের কাছেও মডেল হয়ে উঠবে কি না, এখন সেটাই দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Budget 2026 India, Nirmala Sitharaman Budget | রেল, আয়কর থেকে স্বাস্থ্য : ভোটের বছরে নির্মলার নবম বাজেটে উন্নয়ন ও স্বস্তির বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন