Mamata Banerjee Republic Day Speech | ‘চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র’ : সাধারণতন্ত্র দিবসে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজ্যবাসী ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সংবিধান রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখার দৃঢ় বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন এক প্রাচীন ও চিরন্তন প্রবাদ, ‘চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র’। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা শুধু উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার এক স্পষ্ট রাজনৈতিক ও নৈতিক আহ্বান বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। সোমবার সকাল থেকেই রেড রোড এলাকায় ছিল সাজো সাজো রব। জাতীয় পতাকা, বর্ণিল সাজসজ্জা ও কুচকাওয়াজের প্রস্তুতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (C. V. Ananda Bose), বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় -সহ (Biman Banerjee) রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব।

আরও পড়ুন : Netaji Subhas Chandra Bose, Mamata Banerjee | নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীতে এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্র ও কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ মমতার

কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে ভারতীয় সেনার একাধিক ব্যাটালিয়ন, যা অনুষ্ঠানে যোগ করে গাম্ভীর্য ও শৌর্যের আবহ। চলতি বছরের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সেনার ভৈরব ব্যাটালিয়নের অংশগ্রহণ। তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পদচারণা ও সামরিক কসরত দর্শকদের নজর কাড়ে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের সার্জেন্টদের বাইক র‌্যালি কুচকাওয়াজে নতুন মাত্রা যোগ করে। আধুনিকতা ও দক্ষতার প্রতীক হিসেবে এই বাইক কন্টিনজেন্ট সাধারণ মানুষের কাছেও বিশেষ প্রশংসা পায়। কুচকাওয়াজে ‘অপারেশন সিঁদুর’ -এর সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে সেনার অত্যাধুনিক রকেট লঞ্চার সিস্টেম ‘সূর্যাস্ত্র’ প্রদর্শন করা হয়। প্রতিরক্ষা শক্তির এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের সামরিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারাও কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। তাদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার বিশেষ বার্তা বহন করে।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের আগেই সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানান। সেই বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে সংবিধান রক্ষার শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মমতা লেখেন, ‘দেশের সংবিধানের মূল মূল্যবোধ- ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্বের প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে’। পাশাপাশি তিনি বহুত্ববাদ, বৈচিত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘আজ আমার এক পুরোনো প্রবাদ মনে পড়েছে- চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। সাধারণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার স্বার্থে আজ সমষ্টিগত সতর্কতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এক স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই রেড রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে দেশের ইতিহাস ও সংবিধানকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেই অনুষ্ঠানে মমতা বলেছিলেন, ‘ভারতের ইতিহাস গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে।’ তিনি নেতাজির অবদান স্মরণ করিয়ে বলেন, নেতাজী পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেছিলেন, যা পরে তুলে দিয়ে নীতি আয়োগ গঠন করা হয়েছে। ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাধারণতন্ত্র দিবসে তাঁর বক্তব্যে সেই একই সুর আরও একবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সাধারণতন্ত্র দিবসে একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর গলাতেও। তিনি বলেন, ‘বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এগুলো শুধুমাত্র শব্দ নয়, বরং আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত প্রতিশ্রুতি।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদানের ইতিহাস। অভিষেকের দাবি, আজ সংবিধানের উপর একের পর এক আঘাত নেমে আসছে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়কে প্রান্তিক করে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ভাষা, খাদ্য, বিশ্বাস, ভালবাসা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগও তিনি করেন। সাধারণতন্ত্র দিবসে সংবিধান রক্ষার সঙ্কল্প নেওয়ার আহ্বান জানান অভিষেকও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান রাজ্যের রাজনৈতিক বার্তা ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের প্রকাশ হিসেবে উঠে এসেছে। রেড রোডের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার্তা দিয়েছেন, তা রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ‘চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র’ এই বাক্যটি যেন এ দিনের অনুষ্ঠানের সারকথা হয়ে উঠেছে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Narendra Modi Republic Day | সাধারণতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথে নতুন ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশি অতিথিদের জন্য নিজেই ধারাভাষ্যকার হয়ে উঠলেন ভারতের কণ্ঠ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন