National Voters’ Day, Mamata Banerjee | জাতীয় ভোটার দিবসে কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ মমতার, এসআইআর ও বিএলও মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নে অস্বস্তিতে সিইও দফতর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : জাতীয় ভোটার দিবসের দিনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। তাঁর দাবি, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার বদলে কমিশন এখন তা খর্ব করার পথে হাঁটছে। এই আবহেই জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যে আয়োজিত কর্মসূচীতে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief Electoral Officer) দফতর। বিশেষ করে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) মৃত্যু এবং এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত নানা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জাতীয় ভোটার দিবস সেই দিনটিকেই স্মরণ করায়, যেদিন নির্বাচন কমিশনের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। অথচ সেই দিনেই কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এত বড় প্রশ্ন উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছে, যা একটি করুণ প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, কমিশন এখন ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’-এ পরিণত হয়েছে এবং কেন্দ্রের শাসকদলের স্বার্থে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে চাইছে।

আরও পড়ুন : ASHA Workers Movement in West Bengal | স্বাস্থ্যব্যবস্থার নীরব সৈনিকদের বিদ্রোহ, কলকাতা রাজপথে আশাকর্মীদের ক্ষোভ

রবিবারের কর্মসূচীতে এসআইআর প্রসঙ্গও বিশেষভাবে উঠে আসে। অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দিব্যেন্দু দাস (Divyendu Das) তাঁর বক্তৃতায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলওদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কাজটি তাঁরাই করেছেন এবং তাঁরাই এই প্রক্রিয়ার ‘হিরো’। কিন্তু সেই বক্তব্যের মাঝেই সিপিএম প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন, সংবাদমাধ্যমে যেখানে ১২৬ জন বিএলও-এর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে কেন তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হল না। এই প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও সমর্থন জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইক হাতে নেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল (Manoj Kumar Agarwal)। তিনি জানান, বিএলওদের মৃত্যুর বিষয়ে কমিশনের কাছে কোনও সরকারি রিপোর্ট পৌঁছয়নি। এমনকী ময়নাতদন্তের রিপোর্টও জমা পড়েনি। তাঁর কথায়, ‘জেলাশাসক এবং পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমেই এই ধরনের রিপোর্ট আসে। আমাদের নিজস্ব কোনও ফান্ড নেই, ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও আমাদের হাতে নেই।’ তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, ক্ষতিপূরণ না হোক, অন্তত মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ করা যেত কি না।

সিইও পাল্টা যুক্তি দেন, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯২ হাজার বিএলও কাজ করছেন। তাঁদের কারও মৃত্যু হলে তা নথিভুক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে তথ্য না এলে কমিশনের পক্ষে পদক্ষেপ করা সম্ভব নয়। তিনি বিএলওদের পরিবারকে অনুরোধ করেন, এমন কোনও ঘটনা ঘটলে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের (DEO) কাছে তা জানাতে। এই কর্মসূচীতেই তৃণমূলের তরফে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি (Subrata Bakshi) বলেন, ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও দেড় কোটি নাম বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, সাধারণ ভোটারদের নাম কি নির্বিচারে বাদ যাবে? এর উত্তরে সিইও জানান, কমিশন কখনও দু’কোটি নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেনি। ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই। প্রতিটি বুথে বিএলও-রা রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অভিযোগের সংখ্যা এখনও হাতে গোনা, এবং যেহেতু এটি খসড়া তালিকা, তাই সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ নিয়ে সাধারণ মানুষকে শুনানিতে ডেকে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। দিব্যেন্দু দাস বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করতেই ডাকা হচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এক জন ব্যক্তিকে ৩৫০ জন ভোটার নিজের বাবা হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন, এই ধরনের তথ্য যাচাই করাই কমিশনের দায়িত্ব। এইসব বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে লেখেন, কমিশন নিয়ম মেনে ভোটাধিকার রক্ষার বদলে নতুন অজুহাত তৈরি করছে। তাঁর অভিযোগ, এই বেআইনি চাপের ফলেই বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু ও তফসিলি জাতি-জনজাতির মানুষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং এসআইআর কর্যত এনআরসি-এর (NRC) রূপ নিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক সমালোচকদের বক্তব্য, জাতীয় ভোটার দিবসের দিনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক ঝড় উঠল, তা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মানবিকতার প্রশ্নে এই বিতর্ক যে রাজ্য-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Netaji Subhas Chandra Bose, Mamata Banerjee | নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীতে এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্র ও কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ মমতার

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন