সৌভিক দাস ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : সরস্বতীপুজোর ভোগ কিংবা বাড়ির পুজোর মধ্যাহ্নভোজ মানেই একেবারে আলাদা আবেগ। সাদা শাড়ি, হাতে পলাশফুল আর পাতে ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি, এই দৃশ্যটা যেন বাঙালির স্মৃতির অ্যালবামে চিরস্থায়ী। সাধারণত খিচুড়ির সঙ্গে থাকে লাবড়া, আলুর দম, বাঁধাকপির তরকারি, কুলের চাটনি আর অবশ্যই বেগুনি বা বেগুন ভাজা। কিন্তু প্রতি বছর একই স্বাদে একঘেয়েমি এসে যায় অনেকেরই। তাই এ বার সরস্বতীপুজোয় খিচুড়ির সঙ্গে যদি একটু অন্যরকম ভাজাভুজি রাখেন, তা হলে স্বাদে যেমন বৈচিত্র আসবে, তেমনই অতিথিরাও অবাক হবেন।খিচুড়ির সঙ্গে ভাজাভুজি মানেই খুব ভারী কিছু হতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। বরং হালকা, মুচমুচে আর সুগন্ধি ভাজা হলে খিচুড়ির স্বাদ আরও বেড়ে যায়। এই রেসিপিতে থাকছে তিন ধরনের ভাজাভুজি, যেগুলি বেগুনির বিকল্প হিসেবে দুর্দান্ত। বানানোও খুব কঠিন নয়, আবার খিচুড়ির সঙ্গে মানানসই।
প্রথমেই আসা যাক পাতায় মোড়া পুরভরা ভাজা প্রসঙ্গে। এই ভাজাটি বানাতে লাউ পাতা (Bottle Gourd Leaf) বা কুমড়ো পাতা (Pumpkin Leaf) যে কোনওটি ব্যবহার করা যায়। পাতা ভালো করে ধুয়ে নুন-জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে পাতার কষ কমে যায়। জল ঝরিয়ে নেওয়ার পর পাতার মাঝখানে যে পুর দেওয়া হবে, সেটাই এই ভাজাটির প্রাণ। পুরের জন্য একসঙ্গে বেটে নিতে হবে নারকেল কুচি (Coconut), সর্ষে দানা (Mustard Seeds), পোস্ত (Poppy Seeds), কয়েকটি কাজু (Cashew Nuts), কাঁচালঙ্কা (Green Chilli) ও নুন। চাইলে এক ফোঁটা সর্ষের তেল যোগ করা যায় সুগন্ধের জন্য। এই মিশ্রণ পাতার মাঝখানে রেখে পাতাটিকে পুঁটলির মতো মুড়ে নিতে হবে। আলাদা করে বেসন (Gram Flour) -এর সঙ্গে সামান্য চালের গুঁড়ো (Rice Flour), নুন ও জল মিশিয়ে ঘন ব্যাটার বানান। পুঁটলিগুলো সেই ব্যাটারে ডুবিয়ে গরম তেলে ভাজুন। বাইরে মুচমুচে আর ভিতরে নরম পুর, খিচুড়ির সঙ্গে এই ভাজা একেবারে জমে যাবে। এর পরের ভাজাটি একটু চেনা হলেও কৌশলে আলাদা। বেগুন (Brinjal) দিয়ে হলেও এটি সাধারণ বেগুনি নয়। এখানে বেগুনকে চাকা করে কেটে নুন, হলুদ (Turmeric), গুঁড়ো লঙ্কা (Red Chilli Powder) আর সামান্য সর্ষের তেল মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। এতে বেগুনের কাঁচাভাব কমে যায়। একটি পাত্রে বেসন, নুন ও হলুদ দিয়ে পাতলা ব্যাটার বানান। অন্য একটি পাত্রে রাখুন চালের গুঁড়ো। এবার বেগুনের টুকরো প্রথমে বেসনের মিশ্রণে ডুবিয়ে, তার পর চালের গুঁড়োয় ভাল করে গড়িয়ে নিন। গরম তেলে ভাজলে দেখবেন, বাইরে একটা খাস্তা পরত তৈরি হয়েছে। চালের গুঁড়োর জন্য এই ভাজা অনেক বেশি মুচমুচে হয় এবং খিচুড়ির নরম স্বাদের সঙ্গে দারুণ কনট্রাস্ট তৈরি করে।
তৃতীয় ভাজাটি একটু আলাদা, কিন্তু ভীষণ সুগন্ধি। ধনেপাতার ভাজা। অনেকেই ভাবেন ধনেপাতা (Coriander Leaves) শুধু সাজানোর জন্য, কিন্তু ভাজা হলে এর স্বাদ একেবারেই বদলে যায়। ধনেপাতা বেছে নিতে হবে ডাঁটি-সহ, কারণ ডাঁটি থাকলেই ভাজাটা লম্বা ও সুন্দর হবে। একটি পাত্রে বেসন, চালের গুঁড়ো, নুন, হলুদ আর অল্প জল দিয়ে ঘন মিশ্রণ বানান। চাইলে এক চিমটে খাবার সোডা (Baking Soda) দিতে পারেন, এতে ভাজা আরও ফোলাফোলা হবে। ৫-৬টি ধনেপাতা একসঙ্গে ধরে সেই মিশ্রণে ডুবিয়ে গরম তেলে ছাঁকা তেলে ভাজুন। ভাজার সময় ধনেপাতার গন্ধে রান্নাঘর ভরে যাবে। খিচুড়ির সঙ্গে এই ভাজা সত্যিই অন্য মাত্রা যোগ করে। এই তিন ধরনের ভাজাভুজির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এগুলি খিচুড়ির সঙ্গে ভারী লাগে না। কিন্তু, প্রতিটি ভাজাই আলাদা আলাদা স্বাদ এনে দেয়। কোথাও নারকেল-সর্ষের ঝাঁঝ, কোথাও বেগুনের মুচমুচে ভাব, কোথাও আবার ধনেপাতার সতেজ সুগন্ধ। সরস্বতীপুজোর দিনে যখন ভোগ বা নিরামিষ খাবারই প্রধান, তখন এই ভাজাগুলি পাতে রাখলে ঐতিহ্যও বজায় থাকবে, আবার নতুনত্বও আসবে। এবার তাই বেগুনির বদলে একটু সাহস করে এই ভাজাভুজিগুলি ট্রাই করতেই পারেন। সরস্বতীপুজোর খিচুড়ি তখন শুধু পেট ভরাবে না, মনও ভরিয়ে দেবে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Soft Patisapta Recipe Without Rice Flour, Easy Winter Pitha | চালের গুঁড়ো ছাড়াই পাটিসাপটা রেসিপি, ময়দা-সুজির সহজ পিঠে




