সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কানপুর : উত্তর প্রদেশের কানপুরে (Kanpur, Uttar Pradesh) ঘটে গেল হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন যুবক-যুবতী। নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন নিয়ে ভাড়াবাড়িতে সংসার বাঁধলেও বিয়ের মাত্র চার মাসের মধ্যেই সেই সম্পর্কের পরিণতি হল ভয়ঙ্কর। অভিযোগ, স্ত্রীকে দুই যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে মেজাজ হারিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করেন স্বামী। ঘটনার পরদিন নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবকের নাম সচিন সিং (Sachin Singh)। মৃতার নাম শ্বেতা সিং (Shweta Singh)। বেশ কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁদের। তবে দুই পরিবারের আপত্তির মুখে পড়ে সামাজিক সম্মতি না মিললেও নিজেদের সিদ্ধান্তেই শ্বেতা ও সচিন বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর কানপুর শহরের একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন এই দম্পতি।
কিন্তু সুখের সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সচিন সিং জানিয়েছেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রীর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তাঁদের ভাড়াবাড়ির পাশের ঘরে দুই জন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে শ্বেতার ঘনিষ্ঠতা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছিল বলে সন্দেহ হয় সচিনের। যদিও প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রকাশ্য বিবাদ হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দু’দিন আগে সচিন স্ত্রীকে জানান, তিনি গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন এবং রাতে ফিরবেন না। সেই কথা বিশ্বাস করে শ্বেতা ঘরেই ছিলেন। কিন্তু গভীর রাতে আচমকাই বাড়িতে ফিরে আসেন সচিন। ঘরের দরজা খুলতেই তাঁর চোখে পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য। অভিযোগ, সেই সময় স্ত্রীকে দুই যুবকের সঙ্গে বিছানায় ঘনিষ্ঠ অবস্থায় তিনি দেখতে পান। এই দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সচিন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সচিনের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী ওই দুই যুবককে তাঁকে আক্রমণ করার জন্য প্ররোচিত করেন। আতঙ্কিত হয়ে সচিন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে সকলকে থানায় নিয়ে যায়।
থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় সচিন পুলিশ আধিকারিকদের জানান, তিনি বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিটিয়ে নিতে চান। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় এবং পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকায় অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়।কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি ঘটনা। সচিনের দাবি, থানায় থেকে বাড়ি ফেরার পর ফের তীব্র বচসা শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। সেই সময় শ্বেতা নাকি বারবার দাবি করেন, ওই দুই যুবককেও যেন ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। তা না হলে তিনি স্বামীকে ছেড়ে তাঁদের সঙ্গেই থাকবেন বলে হুমকি দেন।পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সচিন বলেন, ঝগড়ার একটা পর্যায়ে তাঁর স্ত্রী তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলো।’ এই কথাই তাঁর মাথা আরও গরম করে তোলে। তীব্র মানসিক উত্তেজনার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্বেতার শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করেন সচিন।
খুনের পর মৃতদেহ একটি কম্বলে মুড়ে ঘরের মধ্যেই রেখে দেন তিনি। এরপর গভীর রাতে ভাড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরদিন সকালে স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সচিন সিং এবং নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। সচিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্বেতা সিংয়ের দেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে শ্বাসরোধে মৃত্যুর ইঙ্গিত মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশ অভিযুক্ত সচিন সিংকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা দুই যুবকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে উল্লেখ।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ঘটনার রাতে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর যদি সচিনকে ছেড়ে না দেওয়া হত, তাহলে হয়ত এই ভয়াবহ খুনের ঘটনা ঘটত না। পুলিশি ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, ঘটনার সময় পর্যাপ্ত আইনি অভিযোগ না থাকায় এবং পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত থাকায় অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কোনও গাফিলতি হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের একবার সম্পর্কের টানাপোড়েন, সন্দেহ, রাগ ও তাৎক্ষণিক আবেগের ভয়াবহ পরিণতির দিকটি সামনে এনে দিয়েছে। কয়েক মুহূর্তের উত্তেজনায় ভেঙে পড়েছে দু’টি তরতাজা জীবন, যার রেশ সমাজে দীর্ঘদিন থেকে যাবে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Purulia rape case, POCSO arrest Purulia | পুরুলিয়ায় গণধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য, দ্রুত অভিযানে ৭ জনকে গ্রেফতার করল জেলা পুলিশ




