সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত যুক্ত হল। সোমবার নতুন দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে (Sheikh Mohammed bin Zayed Al Nahyan) উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রাষ্ট্রপ্রধান স্তরের এই সাক্ষাৎকে ঘিরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

প্রধানমন্ত্রী নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ইউএই (UAE) প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান, যা ভারত-আমিরশাহি সম্পর্কের গুরুত্বকেই স্পষ্ট করে। সাধারণত রাষ্ট্রীয় সফরে এমন অভ্যর্থনা কেবলমাত্র ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এই দৃশ্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবেই ধরা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই সফরকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আমার ভাই, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মহামান্য শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতি তাঁর গুরুত্বকেই তুলে ধরে। আমি তাঁর সঙ্গে আলোচনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে ‘ভাই’ শব্দটির ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ভারত ও ইউএই সম্পর্ক কেবল কূটনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। শক্তি, পরিকাঠামো, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। ভারত বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাক্ষরিত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই সফরে সেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের এই ভারত সফর এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন পশ্চিম এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দুই দেশের সমন্বয় আগামী দিনে আরও বাড়বে।
ভারতে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভারতীয় ইউএই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর আগেও সৌরশক্তি, সবুজ হাইড্রোজেন এবং স্টার্টআপ খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, দিল্লি বিমানবন্দরের অভ্যর্থনার মুহূর্ত থেকেই পরিষ্কার যে, এই সফর নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। বরং এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্ত ভিত দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও এই সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের ‘পশ্চিম এশিয়া নীতি’-তে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্য দিকে, ইউএই-র ‘লুক ইস্ট’ কৌশলেও ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পারস্পরিক স্বার্থের জায়গা থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক কেবল সরকারিভাবেই নয়, জনগণের স্তরেও মজবুত হচ্ছে। কিন্তু, নতুন দিল্লিতে ইউএই প্রেসিডেন্টের এই সফর ভারত-আমিরশাহি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আলোচনার টেবিলে বসে দুই রাষ্ট্রনেতা যে নতুন সিদ্ধান্ত ও পথ ঠিক করবেন, তার প্রভাব কেবল বর্তমানেই নয়, আগামী কয়েক দশকেও দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে, এমনটাই প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক মহলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian AI Startups 2026, PM Narendra Modi AI Roundtable | ভারতের AI উদ্ভাবনে স্টার্টআপদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




