শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে মটনের আলাদা স্থান আছে। অনুষ্ঠান হোক বা পিকনিক, মেন্যুতে মটন না থাকলে অনেকের আনন্দের রং খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে সেই মজার সঙ্গে যুক্ত আছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রশ্নও। বিশেষ করে খাসির নির্দিষ্ট অঙ্গ যেমন হার্ট (Goat Heart) নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন: এটি কী সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী, নাকি অতিরিক্ত খেলে বিপদ ডেকে আনবে?মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের USDA (United States Department of Agriculture) -এর নিউট্রিশন ডাটাবেস অনুযায়ী, খাসির হার্টে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, যা শরীরের পেশি গঠন ও টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে। প্রোটিনের এই ঘনত্ব বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সের মানুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানেই শেষ নয়। খাসির হার্টে আছে ভিটামিন B12, যা স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা রক্ষা করে এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে অপরিহার্য।
তাছাড়া, মটনের হার্টে আয়রন, জিঙ্ক ও ফসফরাসও আছে। আয়রন রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে, জিঙ্ক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, আর ফসফরাস হাড়ের গঠন শক্তিশালী করে। কিছু গবেষণায় দেখা যায়, প্রাণিজ হার্টে অল্প পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকে, যা হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাই বলা যায়, সঠিক পরিমাণে খাসির হার্ট খাওয়া অনেক উপকারের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও American Heart Association (AHA) -এর পরামর্শও প্রমাণ করে, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আয়রন হৃদ্যন্ত্রের পেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন: ‘যতটা উপকার, তার চেয়ে বেশি খেলে বিপদ হতে পারে’। খাসির হার্টে যেমন পুষ্টি উপাদান আছে, তেমনি উচ্চ কোলেস্টেরল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটও রয়েছে। AHA -এর গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাহলে কারা বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন? চিকিৎসকরা বলেন, যাঁদের কোলেস্টেরল বেশি, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে, যাঁদের হজমে সমস্যা, বা যাঁদের হার্টের সমস্যা আছে, তাঁদের অবশ্যই খাসির হার্ট খাওয়ার আগে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনি যদি এই শারীরিক সমস্যাগুলির মধ্যে পড়েন, তবে খাসির হার্ট আপনার জন্য নয়- এটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ। কিন্তু উপকার পাওয়ার উপায়ও আছে। বাজার থেকে আনা খাসির হার্ট ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। রান্নার সময় সম্পূর্ণ সেদ্ধ করা জরুরি। অতিরিক্ত তেল, মশলা বা ফ্রাই করা হলে হার্টের পুষ্টিগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে একদিনের জন্য খাসির হার্ট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট। এতে প্রোটিন, ভিটামিন B12, আয়রন এবং ওমেগা ৩ -এর সুবিধা নেওয়া সম্ভব।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘খাসির হার্টে যে ধরনের প্রোটিন এবং ভিটামিন আছে, তা অনেকেই মেনে চলা খাবারে পান না। তবে সঠিক রান্না ও সীমিত পরিমাণে খেলে এটি সত্যিই হৃদ্যন্ত্রকে ভাল থাকতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত খেলে বিপদ ডেকে আনে, তাই সবকিছুরই পরিমিতি জরুরি।’ খাসির হার্টের এই পুষ্টিগুণ শুধু হৃদ্যন্ত্রের জন্য নয়, সমগ্র শরীরের জন্য সহায়ক। স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা, পেশি গঠন, রক্তাল্পতা প্রতিরোধ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এসবই নিয়মিত এবং পরিমিতভাবে খাওয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে : পুষ্টির সঙ্গে সতর্কতাও রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বলা যায়, মটন প্রেমীদের জন্য খাসির হার্ট একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবার হতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া বা ভুলভাবে রান্না করলে বিপদ ডেকে আনতে পারে। পরিমিতি ও সঠিক প্রণালী এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই খাসির হার্ট আপনার হৃদয়কে সুস্থ রাখতে পারে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Soft Patisapta Recipe Without Rice Flour, Easy Winter Pitha | চালের গুঁড়ো ছাড়াই পাটিসাপটা রেসিপি, ময়দা-সুজির সহজ পিঠে




