সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের রাজধানী দিল্লি (Delhi) বৃহস্পতিবার সকালে সামান্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও বায়ুদূষণের দাপট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (Central Pollution Control Board বা CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকালে দিল্লির বায়ুগুণমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (Air Quality Index বা AQI) নেমে এসেছে ২৭৬ -এ। আগের দিন বুধবার সকালে এই সূচক ছিল ৩৩৬, যা ‘অত্যন্ত দূষিত’ স্তরের মধ্যে পড়ে। যদিও সূচকের এই পতন কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবু বায়ুর মান এখনও ‘দূষিত’ শ্রেণিতেই রয়ে গিয়েছে।
সিপিসিবি-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিল্লির ২৪ ঘণ্টার গড় বায়ুগুণমান সূচক ছিল ২৮৯। অর্থাৎ, সারাদিন ধরেই রাজধানীর বাতাস সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অনুকূল ছিল না। সিপিসিবি-র শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা AQI ‘দূষিত’ হিসেবে চিহ্নিত। এই স্তরে দীর্ঘ সময় থাকলে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা, মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বায়ুদূষণের এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে শীতের দাপট আরও জোরাল হচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department বা IMD) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা মরশুমি স্বাভাবিক তাপমাত্রার থেকে প্রায় ১.১ ডিগ্রি কম। ঠাণ্ডা বাতাস ও কম তাপমাত্রার ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে বলে জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃহস্পতিবার প্রায় ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে পারে। তবে সূর্যের দেখা মিললেও ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে খুব একটা উষ্ণতা অনুভূত হবে না বলেই মত আবহবিদদের। একই সঙ্গে শীত ও দূষণের যুগল প্রভাব রাজধানীর দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
আইএমডি আরও জানিয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘন কুয়াশা সকালের সময় দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে দিতে পারে। ফলে বিমান ও রেল চলাচলে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়তে পারে। আগের অভিজ্ঞতা বলছে, কুয়াশার দিনে দিল্লির বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, কারণ বাতাসে ভাসমান দূষক কণাগুলি আটকে পড়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির বায়ুদূষণের এই সাময়িক উন্নতি মূলত আবহাওয়াজনিত। হালকা বাতাসের গতি এবং কিছুটা তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে দূষক কণার ঘনত্ব সামান্য কমেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কেবল প্রকৃতির উপর নির্ভর করলে চলবে না। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো, শিল্প দূষণ এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর মতো সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দিল্লিবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের AQI স্তরে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের বাইরে বেরোনো সীমিত রাখা উচিত। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার এবং ঘরের ভিতরে বায়ু বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র ব্যবহার উপকারী হতে পারে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জল পান ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP) অনুযায়ী প্রয়োজন হলে নির্মাণকাজে বিধিনিষেধ, ভারী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দূষণকারী শিল্পগুলির উপর কড়া নজরদারি চালানো হতে পারে। যদিও সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা প্রায়ই সাময়িক এবং দূষণ কমলেই তা শিথিল হয়ে যায়।
রাজনৈতিক মহলেও বায়ুদূষণ ইস্যু নিয়ে চাপানউতোর অব্যাহত। বিরোধী দলগুলি দিল্লির বায়ুদূষণের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী করছে। অন্য দিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, দূষণ একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, যার সমাধানে একাধিক রাজ্য ও সংস্থার যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশবিদদের মতে, দিল্লির বায়ুদূষণ এখন আর কেবল শীতকালীন সমস্যা না সারা বছরের সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। শীতকালে কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাস পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে মাত্র। তাঁরা বলছেন, সবুজায়ন বৃদ্ধি, গণপরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির বায়ুগুণমানে সামান্য উন্নতি হলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। ‘দূষিত’ বাতাস, বাড়তে থাকা শীত এবং ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস, এই তিনের যুগলবন্দীতে রাজধানীবাসীর সামনে চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। আগামী দিনে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দূষণের মাত্রা কোন দিকে যায়, সে দিকেই এখন নজর বিশেষজ্ঞদের।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : UP CM Yogi Adityanath Meets PM Narendra Modi in New Delhi | নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ




