সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গান্ধীনগর : গুজরাতের (Gujarat) রাজধানী গান্ধীনগর (Gandhinagar) -এ দূষিত পানীয় জল সরবরাহের ফলে টাইফয়েডে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন, NHRC। বিষয়টিকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে কমিশন গুজরাত সরকারের মুখ্যসচিবের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।
মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিশন জানিয়েছে, যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। দূষিত জল পান করে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা বাড়া প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করে বলে মনে করছে মানবাধিকার সংস্থা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গান্ধীনগরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় টাইফয়েডে আক্রান্ত সক্রিয় রোগীর সংখ্যা অন্তত ৭০ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর (Health Department, Gujarat) ইতিমধ্যেই এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বসানো একটি নতুন পানীয় জলের পাইপলাইন নেটওয়ার্কে একাধিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। ওই পাইপলাইনের অন্তত সাতটি স্থানে লিকেজের সন্ধান মিলেছে, যার ফলে নর্দমার জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য বিপন্ন হয়, যা সরাসরি মানবাধিকারের পরিপন্থী। কমিশনের মতে, জলবাহিত রোগের বিস্তার কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির ফল। এই প্রেক্ষিতে কমিশন গুজরাতের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট জমা দিতে। সেই রিপোর্টে টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, বাড়িতে চিকিৎসাধীন ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা, চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখের একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে জলবাহিত রোগের সংক্রমণ। দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, আক্রান্তদের চিকিৎসায় কোনও রকম ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। উল্লেখ্য, গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতাল-এ (Gandhinagar Civil Hospital) টাইফয়েড রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ৩০ শয্যার আলাদা পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ড চালু করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ রোগীই তীব্র জ্বর, পেটের ব্যথা, বমি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসছেন।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পানীয় জলের পাইপলাইনে নর্দমার জল মিশে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ধরনের দূষণ দীর্ঘদিন নজরে না এলে বড় আকারের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে। তাঁদের পরামর্শ, অবিলম্বে পুরো জল সরবরাহ ব্যবস্থার অডিট করা, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন বদলানো এবং পানীয় জলের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
মানবাধিকার কমিশন তাদের পর্যবেক্ষণে আরও বলেছে, এই ঘটনা শুধু একটি এলাকারই সমস্যা নয়, তা ভবিষ্যতে অন্য এলাকাতেও একই ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই প্রশাসনের উচিত দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া। এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে এই ধরনের গুরুতর অবহেলা সম্ভব হল। অনেকেই দাবি তুলেছেন, দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রসঙ্গত, গান্ধীনগরের দূষিত পানীয় জল ও টাইফয়েড সংক্রমণের ঘটনা রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। এখন মুখ্যসচিবের রিপোর্ট এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে মানবাধিকার কমিশন ও সাধারণ মানুষ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Birsa Harit Gram Yojana Jharkhand | গোশালার সারেই বদলাচ্ছে গ্রামবাংলার অর্থনীতি, ঝাড়খণ্ডে বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা




