Magh Mela Protest | মাঘমেলার আগে পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ, প্রয়াগরাজে সাধুদের বিক্ষোভে চাপে প্রশাসন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ প্রয়াগরাগরাজ : প্রয়াগরাজে (Prayagraj) আসন্ন মাঘমেলা (Magh Mela) ঘিরে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন সাধু-সন্ন্যাসীরা। জল, শৌচাগার, অস্থায়ী আশ্রয়-সহ একাধিক মৌলিক ব্যবস্থার বিলম্বিত কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। সাধুদের অভিযোগ, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীকে ঘিরে যে মহাযজ্ঞ আয়োজন করা হয়, তার প্রস্তুতি যদি সময় মতো না হয়, তবে তা শুধু ভক্তদের দুর্ভোগই বাড়াবে না, ধর্মীয় ভাবাবেগেও আঘাত করবে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন (Uttar Pradesh Administration) -এর উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। উল্লেখ্য, প্রয়াগরাজে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে প্রতিবছর মাঘ মাসে অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, সন্ন্যাসী, আখড়া ও সাধারণ ভক্তরা এখানে সমবেত হন। কিন্তু এ বছর মেলার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও এখনও বহু জায়গায় প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ। বিক্ষোভরত সাধুদের একাংশ জানান, ‘মাঘমেলা শুধু উৎসব না, এটি সনাতন সংস্কৃতির অঙ্গ। অথচ জল ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধাও যদি ঠিক সময়ে না পাওয়া যায়, তবে সাধু ও ভক্তরা কোথায় যাবেন?’

আরও পড়ুন : Varanasi Ganga Aarti New Year 2026 | গঙ্গার আরতিতে বিদায় ২০২৫, স্বাগত ২০২৬: কাশীর দাশাশ্বমেধ ঘাটে নববর্ষের মহামিলন

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন সাধু বলেন, তাঁরা প্রশাসনের কাছে বারবার বিষয়টি জানালেও কাজের গতি আশানুরূপ নয়। তাঁদের অভিযোগ, অস্থায়ী তাঁবু, পানীয় জলের লাইন এবং সাফাই ব্যবস্থার কাজ এখনও অনেক জায়গায় শুরুই হয়নি। একজন সাধু মন্তব্য করেন, ‘মেলা শুরু হলে আর সময় থাকবে না। তখন ভিড় সামলাতে গিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’ তাঁদের মতে, প্রশাসনের অবহেলা চলতে থাকলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও তাঁরা হাঁটতে পারেন।
অন্যদিকে, প্রয়াগরাজের এই বিক্ষোভ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের আগে পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মাঘমেলার গুরুত্ব আলাদা। কুম্ভমেলার পরেই এটিকে উত্তর ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে ধরা হয়। লক্ষাধিক মানুষ এখানে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করেন। ফলে পানীয় জল, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক না থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করা হবে। এক আধিকারিক বলেন, ‘মাঘমেলার প্রস্তুতি একটি বৃহৎ প্রক্রিয়া। কিছু জায়গায় কাজ দেরিতে শুরু হলেও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তবে সাধুদের বক্তব্য, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে তাঁরা কাজের অগ্রগতি দেখতে চান। এই বিক্ষোভের প্রভাব রাজনৈতিক মহলেও পড়তে শুরু করেছে। বিরোধী দলগুলি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে সরকার যতটা প্রচার করে, বাস্তবে ততটা গুরুত্ব দেয় না। একজন বিরোধী নেতা বলেন, ‘মাঘমেলা আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত। সেখানে যদি ন্যূনতম সুবিধার অভাব থাকে, তা রাজ্যের ভাবমূর্তির পক্ষেও ক্ষতিকর।’ যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরনের ধর্মীয় সমাবেশে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। শুধু সাধু-সন্ন্যাসীরাই নন, সাধারণ পুণ্যার্থীরাও পরিষ্কার জল ও শৌচাগারের উপর নির্ভরশীল। সামান্য অব্যবস্থাপনাও বড় আকারের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই প্রশাসনের উচিত সাধুদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। মাঘমেলা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও যুক্ত। মেলা ঘিরে হোটেল, দোকান, নৌকা পরিষেবা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ে। যদি আয়োজন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, তবে তার প্রভাব পর্যটন ও স্থানীয় জীবিকাতেও পড়তে পারে। এই কারণেই অনেকেই মনে করছেন, সাধুদের বিক্ষোভকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে, প্রয়াগরাজে সাধুদের এই প্রতিবাদ মাঘমেলার প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল। সময় মতো জল, সাফাই ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে, ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যর্থতার সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে এবং সাধু ও পুণ্যার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Maha Kumbh Mela 2025 The largest congregation of humanity, began in Uttar Pradesh’s Prayagraj

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন