Kolkata air pollution winter | বছরের প্রথম দিনেই কলকাতার বাতাস ‘খুব খারাপ’! দিল্লির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাদবপুরে একিউআই ৩৮০, দূষণে নাজেহাল মহানগর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নতুন বছরের শুরুতেই কলকাতাবাসীর জন্য অস্বস্তির খবর। ১ জানুয়ারি সকাল হতেই শহরের বাতাসের গুণমান পৌঁছে গিয়েছে ‘খুব খারাপ’ স্তরে। বর্ষবরণের রাতে দেদার আতশবাজি পোড়ানো, সঙ্গে শীতের মরসুমে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাওয়া দূষণ, সব মিলিয়ে বছরের প্রথম দিনেই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে মহানগরের হাওয়া। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (West Bengal Pollution Control Board) -এর পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার একাধিক এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই (AQI) ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করছে।।দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পিএম ২.৫ (PM 2.5) -এর নিরিখে শহরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে যাদবপুরে (Jadavpur)। সেখানে একিউআই পৌঁছেছে ৩৮০-এ, যা স্পষ্টভাবেই ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। শুধু যাদবপুরই নয়, বিধাননগর (Bidhannagar)-এ সর্বোচ্চ একিউআই রেকর্ড হয়েছে ৩৫৩, বালিগঞ্জ (Ballygunge)-এ ৩৬১। ফোর্ট উইলিয়াম (Fort William)-এ ৩২১, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (Rabindra Bharati University) এলাকায় ৩৪৮, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল (Victoria Memorial)-এর আশপাশে ৩৪৩ এবং রবীন্দ্র সরোবর (Rabindra Sarobar)-এ ৩১০ একিউআই নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শহরের প্রায় সর্বত্রই দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক।

বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটে নাগাদও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। ডব্লিউবিপিসিবি-র পরবর্তী আপডেট অনুযায়ী, যাদবপুরে তখনও একিউআই ছিল ৩১৭, বিধাননগরে ৩০৬, বালিগঞ্জে ২৩৫, ফোর্ট উইলিয়ামে ২৩৫, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ২৮৩, রবীন্দ্র ভারতীতে ২৩৪ এবং রবীন্দ্র সরোবরে ২১৪। অর্থাৎ দিনের বেলায় কিছুটা কমলেও বাতাসের গুণমান ‘খারাপ’ পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘বছরের প্রথম দিনে কলকাতার অধিকাংশ জায়গাতেই একিউআই ‘খারাপ’ থেকে ‘খুব খারাপ’-এর মধ্যে ছিল। এই মাত্রার দূষণ দীর্ঘ সময় শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, চোখ জ্বালা, গলা ব্যথা ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।’ বোর্ডের নিরিখে, একিউআই শূন্য থেকে ৫০ হলে ‘ভাল’, ৫১ থেকে ১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১ থেকে ২০০ ‘মাঝারি’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খারাপ’, ৩০১ থেকে ৪০০ ‘খুব খারাপ’, ৪০১ থেকে ৪৫০ ‘ভয়ানক’ এবং ৪৫০-এর বেশি হলে ‘অতি ভয়ানক’ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে যাদবপুরের ৩৮০ একিউআই যে কতটা বিপজ্জনক, তা সহজেই অনুমেয়।

আরও পড়ুন : home loan rules India, SARFAESI Act limit | ২০ লক্ষের কম গৃহঋণে বাড়ি কেড়ে নেওয়া বেআইনি, বড় রায় কলকাতা হাই কোর্টের, সরফেসি আইনে লাগাম আর্থিক সংস্থার ক্ষমতায়

পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী (Swati Nandi Chakraborty) এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘শীতকালে স্বাভাবিকভাবেই এয়ার ইনভার্শন দেখা যায়। ঠাণ্ডা ভারী বাতাস নিচের দিকে আটকে থাকে এবং উপরের উষ্ণ বাতাসের সঙ্গে মিশতে পারে না। ফলে ধোঁয়া ও দূষণ সৃষ্টিকারী কণাগুলি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি স্তরে জমে থাকে।’ তাঁর মতে, বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ধুলো এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের দূষণকারী উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে ছড়িয়ে থাকে। এর সঙ্গে যদি বর্ষবরণের রাতে ব্যাপক হারে আতশবাজি পোড়ানো হয়, তা হলে পিএম ২.৫ ও পিএম ১০-এর ঘনত্ব দ্রুত বেড়ে যায়। স্বাতীর সতর্কবার্তা, ‘এই ধরনের দূষণে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং যাঁদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা রয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে বাইরে বেরোনো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভাল।’

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী

পরিবেশ পর্যবেক্ষক সংগঠন ‘সবুজ মঞ্চ’ (Sabuj Mancha)-এর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নববর্ষের রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সময়সীমা অমান্য করে আতশবাজি পোড়ানো হয়েছে। সংগঠনের তরফে সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ (Somendramohan Ghosh) সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৩৫ মিনিট আতশবাজি পোড়ানোর অনুমতি ছিল। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ, গড়িয়া, কসবা, যাদবপুর, বেহালা থেকে শুরু করে উত্তর কলকাতার নারকেলডাঙা, বেলেঘাটা, সিঁথি, বাগবাজার, জোড়াসাঁকো, বৌবাজার— প্রায় সর্বত্রই রাত ২টো পর্যন্ত বাজি ফাটানো হয়েছে।’ তাঁর দাবি, এই অনিয়ন্ত্রিত বাজিই দূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের একজন আধিকারিকের দাবি, এ বছর পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তাঁর বক্তব্য, ‘গত বছরের তুলনায় এ বার নববর্ষে আতশবাজির ব্যবহার কিছুটা কমেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদযাপনের ধুমও কমে আসে।’ যদিও বাস্তবে একিউআই-এর পরিসংখ্যান দেখলে পরিস্থিতি যে এখনও উদ্বেগজনক, তা মানছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাই। মনে রাখতে হবে, বছরের প্রথম দিনেই কলকাতার বাতাসের এই হাল নতুন করে ভাবাচ্ছে প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে। পরিবেশবিদদের মতে, শুধু উৎসবের দিন নয়, সার্বিকভাবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে নজরদারি এবং বাজি ব্যবহারে কঠোরতা না বাড়ালে শীতের মরসুমে এই দূষণ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kolkata BJP 20 seats target, BJP West Bengal assembly plan | কলকাতা-কেন্দ্রিক বিজেপিকে কড়া টার্গেট বেঁধে দিলেন অমিত শাহ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন