সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেঙ্গালুরু: সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুত্ব যে কখনও কখনও ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়াতে পারে, তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ সামনে এল তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) থেকে। ইনস্টাগ্রামে (Instagram) আলাপ, তার পর প্রেমের সম্পর্ক, সব ঠিকঠাক চললেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কই হয়ে উঠল এক গৃহবধূর মৃত্যুর কারণ। প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে দেখা করতে গিয়ে খুন হতে হল বিবাহিত মহিলাকে। শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত যুবক, মৃতার গলা থেকে মঙ্গলসূত্র খুলে তা পার্সেল করে পাঠিয়ে দেন তাঁর স্বামীর ঠিকানায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে।
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya 2026 Election | ২০২৬ ভোটের আগে বিজেপি কর্মীদের ঝাঁপানোর ডাক শমীক ভট্টাচার্যের
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর মারমঙ্গলম (Marmangalam) গ্রামে। মৃত মহিলার নাম সুমতি (Sumathi)। তাঁর স্বামী পেশায় লরি চালক (Lorry Driver)। কাজের সূত্রে তাঁকে প্রায়শই বাড়ির বাইরে থাকতে হত। সেই সুযোগেই ইনস্টাগ্রামে একজন যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় সুমতির। অভিযুক্তের নাম বেঙ্কটেশ (Venkatesh)। ধীরে ধীরে কথাবার্তা থেকে ঘনিষ্ঠতা, আর তার পর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দু’জন।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারে, বেঙ্কটেশের একটি কফিবাগান (Coffee Estate) রয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর বেঙ্কটেশ সুমতিকে নিজের কফিবাগানে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সেখানে যান সুমতি। অভিযোগ, তবে তার পরেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কোনও একটি বিষয় নিয়ে সুমতি ও বেঙ্কটেশের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই বচসার মধ্যেই আচমকা হিংস্র হয়ে ওঠে বেঙ্কটেশ। ওড়না দিয়ে সুমতির গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয় বলে উল্লেখ। খুনের পর আরও নির্মম আচরণ করে অভিযুক্ত। সুমতির গলা থেকে মঙ্গলসূত্র খুলে নেয় সে। তারপর মৃতদেহ একটি বস্তায় ভরে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ি খাদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের অনুমান।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৩ ডিসেম্বরের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন সুমতি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেওয়া হলেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত সুমতির স্বামী থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি (Missing Diary) দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরই মধ্যে ঘটে যায় আরও একটি ভয়ংকর ঘটনা। একটি পার্সেল এসে পৌঁছয় সুমতির স্বামীর হাতে। পার্সেলটি খুলতেই তিনি চমকে ওঠেন। তার ভিতরে ছিল স্ত্রীর মঙ্গলসূত্র। পুলিশ জানায়, বেঙ্কটেশ পরিকল্পিতভাবেই এই কাজ করে। একটি বাসচালকের (Bus Driver) হাত দিয়ে ওই পার্সেলটি সুমতির স্বামীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সন্দেহ হওয়ায় বাসচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সুমতির স্বামী। তখনই জানা যায়, পার্সেলটি পাঠিয়েছেন বেঙ্কটেশ নামে এক ব্যক্তি। আর তারপরেই সবকিছু পরিষ্কার হতে শুরু করে। সুমতির স্বামী দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হন। বেঙ্কটেশকে আটক করে জেরা শুরু করে পুলিশ। প্রথমে নানা অসংলগ্ন কথা বললেও জেরার চাপ বাড়তেই ভেঙে পড়ে অভিযুক্ত। পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সে খুনের কথা মেনে নেয়। তার পরই বেঙ্কটেশকে গ্রেফতার করা হয়।
জেরায় বেঙ্কটেশ দাবি করেছে, সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে তাকে ব্লক করে দিয়েছিলেন সুমতি। শুধু তাই নয়, ফোন করলেও তাঁর কল ধরছিলেন না। এই বিষয়টি নিয়ে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বলে দাবি অভিযুক্তের। এমনকি সুমতির জন্য প্রায় এক লক্ষ টাকা খরচ করেছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছে সে। যদিও এই সমস্ত দাবির সত্যতা যাচাই করে দেখছে তদন্তকারীরা। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এটি একেবারেই পরিকল্পিত খুন। খুনের পর দেহ গোপন করা, মঙ্গলসূত্র খুলে পার্সেল করে পাঠানো, সবকিছুই ঠাণ্ডা মাথায় করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

এই ঘটনায় নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, ভার্চুয়াল পরিচয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। অপরিচিত বা অল্প পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়ানোর আগে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
একটি ভুল সিদ্ধান্ত যে কীভাবে একটি পরিবারকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে, সুমতির ঘটনা তারই করুণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : curd after rice benefits | ভাতের পরে টক দই খাওয়া : স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নাকি বিপদের কারণ? চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা




