সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : টেষ্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা, নিখুঁত লাইন-লেন্থ আর চাপের মুহূর্তে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা, সব মিলিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিশ্বের সেরা পেসারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি (ICC) প্রকাশিত সর্বশেষ টেস্ট বোলারদের ক্রমতালিকাতেও এক নম্বর জায়গা ধরে রেখেছেন ভারতের এই তারকা জোরে বোলার। তবে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াই যে সহজ নয়, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কারণ, ভারতের আগামী কয়েক মাসের টেষ্ট সূচী কার্যত ফাঁকা। সেই সুযোগেই ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছেন অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের দুই বোলার।
উল্লেখ্য, বুধবার প্রকাশিত আইসিসির টেস্ট বোলারদের ক্রমতালিকায় বুমরাহ রয়েছেন শীর্ষে। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৮৭৯। বর্তমান সময়ে এটি বিশ্বের যে কোনও বোলারের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে তালিকার দিকে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে, ব্যবধান খুব বেশি নয়। যুগ্ম ভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc) এবং পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলি (Noman Ali)। দু’জনেরই রেটিং ৮৪৩। অর্থাৎ, বুমরাহের সঙ্গে তাঁদের ব্যবধান মাত্র ৩৬ রেটিং পয়েন্টের।
এই জায়গাতেই বাড়ছে জল্পনা। কারণ, আগামী অগস্টের আগে ভারতের কোনও টেষ্ট ম্যাচ নেই। তার মানে, এই সময়কালে বুমরাহের রেটিং বাড়ানোর কোনও সুযোগ থাকছে না। অন্য দিকে, স্টার্ক এবং নোমান, দু’জনের সামনেই রয়েছে রেটিং পয়েন্ট বাড়ানোর বাস্তব সুযোগ। অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে অ্যাশেজ় সিরিজ়ে ব্যস্ত। ইতিমধ্যেই সিরিজ়ের প্রথম চারটি টেষ্টে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন স্টার্ক। এই চার টেষ্টে তিনি নিয়েছেন ২৬টি উইকেট। ধারাবাহিক ভাবে নতুন বলে এবং পুরনো বলে উইকেট তুলে নেওয়ার সুবাদে তাঁর রেটিং ক্রমশ উপরের দিকে উঠছে। সামনে অ্যাশেজ়ের পঞ্চম টেষ্টে। সেখানে ভাল পারফরম্যান্স করলে বুমরাহকে ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই রকম। নোমান আলি ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে চারটি টেষ্ট খেলেছেন এবং নিয়েছেন ৩০টি উইকেট। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজ়ে তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। স্পিন সহায়ক উইকেটে যদি তিনি নিজের ছন্দ বজায় রাখতে পারেন, তা হলে রেটিং পয়েন্টে বড় লাফ দিতে পারেন নোমান। ফলে বুমরাহের এক নম্বর স্থান যে পুরোপুরি সুরক্ষিত, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, আইসিসির তালিকায় এই সপ্তাহে কিছু উল্লেখযোগ্য বদলও চোখে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স (Pat Cummins) দু’ধাপ পিছিয়ে নেমে গিয়েছেন চার নম্বরে। তাঁর রেটিং এখন ৮৪১। তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি (Matt Henry), রেটিং ৮৩৬। শীর্ষ পাঁচে এই মুহূর্তে তিন জনই অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড-পাকিস্তানের বোলার, যা আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে এই দলগুলির বোলিং শক্তির ছবিটা আরও স্পষ্ট করে তুলছে। ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ছবিটা একটু উদ্বেগজনক। কারণ, শীর্ষ দশে বুমরাহ ছাড়া আর কোনও ভারতীয় বোলার নেই। অভিজ্ঞ অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin), অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজা (Ravindra Jadeja) কিংবা চায়নাম্যান স্পিনার কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav), সকলেই রয়েছেন শীর্ষ দশের বাইরে। জাডেজার রেটিং ৬৯৮, কুলদীপের ৬৯৪। কুলদীপ এই সপ্তাহে এক ধাপ পিছিয়েছেন বলেও আইসিসির তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও টেস্ট ফরম্যাটে ধারাবাহিক রেটিং ধরে রাখার ক্ষেত্রে বুমরাহ কার্যত একাই ভরসা।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বুমরাহের শীর্ষস্থান হারানো মানেই যে তাঁর ফর্মে ভাটা পড়েছে, তা নয়। তা আইসিসির রেটিং ব্যবস্থায় ম্যাচ না খেললে পয়েন্ট ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। অন্যরা যখন নিয়মিত টেস্ট খেলছেন, তখন তাঁদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পয়েন্ট বাড়ছে। বুমরাহ সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে সূচির এই ফাঁকটাই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট অবশ্য বিষয়টিকে আলাদাভাবে দেখছে। তাঁদের মতে, বুমরাহের শরীরকে দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ফিট রাখা বেশি জরুরি। অতিরিক্ত ম্যাচ খেলে তাঁকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হবে না। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ় রয়েছে, সেগুলির জন্য তাঁকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখতে চাইছে টিম ইন্ডিয়া। রেটিংয়ের ওঠানামা সাময়িক, কিন্তু পারফরম্যান্সই শেষ কথা, এমনটাই মনে করছেন দলের ঘনিষ্ঠ মহল। আপাতত টেস্ট বোলারদের ক্রমতালিকায় এক নম্বরে রয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে সময় ও সূচির বাস্তবতায় তাঁর শীর্ষস্থান যে চ্যালেঞ্জের মুখে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অ্যাশেজ় ও আসন্ন টেষ্ট সিরিজ়গুলির ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেটবিশ্ব।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Eden Test 2025, Jasprit Bumrah Five Wickets | ইডেনে আগুন ঝরালেন বুমরাহ, প্রথম দিনেই গুঁড়িয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা




