Keshav Prasad Maurya, UP Assembly Elections 2027 | ২০২৭-এ উত্তরপ্রদেশে তৃতীয়বার সরকার গড়বে বিজেপি, সমাজবাদী পার্টির ভবিষ্যৎ শেষ, তোপ কেশব প্রসাদ মৌর্যের

SHARE:

সহারানপুরে কেশব প্রসাদ মৌর্যের দাবি, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তৃতীয়বার সরকার গড়বে, সমাজবাদী পার্টির ভবিষ্যৎ শেষ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে আগাম সুর চড়াতে শুরু করেছে শাসক শিবির। রবিবার সাহারানপুরে (Saharanpur) একটি রাজনৈতিক কর্মসূচীতে উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য (Keshav Prasad Maurya) দাবি করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি (Samajwadi Party) -এর অস্তিত্ব মুছে যাবে এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) টানা তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যে সরকার গঠন করবে। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসকেও (Congress) কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে দলটির আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই।

আরও পড়ুন : India–New Zealand Free Trade Agreement | মাত্র ন’মাসেই ঐতিহাসিক সাফল্য, ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

কেশব প্রসাদ মৌর্যের বক্তব্যে স্পষ্ট, সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের পর বিজেপি ও এনডিএ (NDA) আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর নেতৃত্বেই দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান আরও শক্তিশালী হয়েছে। মৌর্যের কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত আজ বিশ্বে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সংবিধানকে সম্মান জানিয়ে উন্নয়নের রাজনীতি করছে বিজেপি।’ সহারানপুরের সভামঞ্চ থেকে সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ ইতিমধ্যেই সমাজবাদী পার্টির শাসনকাল দেখেছে। দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং পরিবারতন্ত্রই ছিল তাদের পরিচয়। ২০২৭ সালে মানুষ আর সেই অতীতে ফিরতে চাইবে না।’ তাঁর মতে, বিজেপি সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতির ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে দলটি।

কংগ্রেসকে আক্রমণ করে কেশব প্রসাদ মৌর্য বলেন, ‘কংগ্রেস এখন দিশাহীন। দেশ ও রাজ্যের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে তাদের কোনও সংযোগ নেই। জনগণ তাদের বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।’ তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজ্য নির্বাচনে কংগ্রেসের ফলাফলই প্রমাণ করে দিয়েছে যে দলটির রাজনৈতিক ভিত্তি ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। বক্তব্যে বারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মৌর্য। তিনি বলেন, ‘মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপি শুধু নির্বাচন জেতার রাজনীতি করে না, দেশ গঠনের রাজনীতি করে।’ তাঁর মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন, গরিব কল্যাণ, কৃষক সহায়তা এবং যুবকদের কর্মসংস্থান এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে বিজেপি সরকার কাজ করছে। উত্তরপ্রদেশেও এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপি সরকারের সময়ে উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলার যে উন্নতি হয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। ‘এক সময় উত্তরপ্রদেশ মানেই ছিল দাঙ্গা, মাফিয়া আর অপরাধ। আজ সেই জায়গায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরেছে,’ এমন মন্তব্য করেন মোর্য। তাঁর দাবি, এই পরিবর্তনের কারণেই মানুষ আবার বিজেপির উপর ভরসা রাখবে। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি যে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে, মৌর্যের বক্তব্যে তারই ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি বলেন, ‘দলীয় কর্মীরা তৃণমূল স্তরে কাজ করছে। মানুষের কাছে সরকারের সাফল্য তুলে ধরা হচ্ছে।’ তাঁর মতে, সাম্প্রতিক লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও এনডিএ-র জয় এই আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রসঙ্গে কেশব প্রসাদ মৌর্য বলেন, ‘তারা শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে। জাতপাতের অঙ্ক কষে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে।’ বিজেপি এই রাজনীতির বিরুদ্ধে উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদের বার্তা নিয়ে এগোচ্ছে বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশের মানুষ এখন উন্নয়ন বোঝে, তারা আর ভাঁওতা রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।’

আরও পড়ুন : Yogi Adityanath Gomti project | গোমতীর প্রাণ ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ -এর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, শুরু হল ‘রিভাইভাল মিশন’

রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, কেশব প্রসাদ মৌর্যের এই বক্তব্য শুধুমাত্র বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বিজেপির নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ। ২০২৭ সালের নির্বাচন এখনও সময়ের দূরত্বে থাকলেও, বিজেপি যে আগেভাগেই মাঠে নেমে পড়েছে, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির প্রভাব কমাতে বিজেপি সংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

কিন্তু, সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস শিবির এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য বলে কটাক্ষ করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। বিরোধী শিবিরের মতে, বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে শুধু জয়জয়কার করা হচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, উন্নয়নের হিসাব জনগণের সামনে রয়েছে এবং সেই হিসাবের ভিত্তিতেই মানুষ ভোট দেবে।
বস্তুত বলতেই হয়, সহারানপুর থেকে কেশব প্রসাদ মৌর্যের এই বক্তব্য উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াল। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য রাজ্যের রাজনীতিকে আরও তীব্র করে তুলবে। বিজেপির আত্মবিশ্বাস, বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ এবং জনমতের দোলাচল- উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মঞ্চ আগামী দিনে আরও সরগরম হতে চলেছে, তা বলাই অত্যুক্তি হবে না।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Uttar Pradesh parents murder case | মোবাইলের একটি কলেই ফাঁস নৃশংসতা, বৃদ্ধ বাবা-মাকে খুন করে দেহ টুকরো নদীতে ভাসানোর অভিযোগে ইঞ্জিনিয়ার ছেলে গ্রেফতার

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন