শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : অভিনয়ের আলো ঝলমলে জগৎ থেকে রাজনীতির কঠিন ময়দান, কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut) বরাবরই নিজের পথ নিজে বেছে নিতে ভালবাসেন। কখনও স্পষ্টবাদী মন্তব্যে, কখনও সাহসী সিদ্ধান্তে তিনি বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন। তবে গত কয়েক দিন ধরে তাঁর জীবনের আর এক দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, আধ্যাত্মিকতা। একের পর এক শিবমন্দিরে ঘুরে অবশেষে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন সম্পূর্ণ করলেন কঙ্গনা। রবিবার মহারাষ্ট্রের ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরে (Bhimashankar Jyotirlinga) শেষ গন্তব্যে পৌঁছে নিজের এই দীর্ঘ যাত্রার কথা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী-সাংসদ।

বর্তমানে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি (Mandi) লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরে এসে রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও, হঠাৎ তাঁর এই তীর্থযাত্রা অনেকের কাছেই কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। কেন রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেই এমন এক আধ্যাত্মিক সফর? সেই প্রশ্নের উত্তর কঙ্গনাই দিয়েছেন নিজের ভাষায়। তাঁর দাবি, এই যাত্রা কোনও হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়, তা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক অন্তর্গত আহ্বানের ফল। উল্লেখ্য, সমাজমাধ্যমে একাধিক ছবি ও দীর্ঘ লেখার মাধ্যমে কঙ্গনা জানিয়েছেন, তাঁর ১২ জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের সফর আসলে শুরু হয়েছিল প্রায় দশ বছর আগে। তখন কোনও পরিকল্পনা বা সংকল্প ছিল না। পরিস্থিতির টানেই একের পর এক শিবমন্দিরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘প্রথম দিকে এই দর্শন ছিল কাকতালীয়। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারি, এটা শুধু ভ্রমণ নয়, এর পিছনে অন্য কোনও শক্তি কাজ করছে।’
রবিবার ভীমাশঙ্কর মন্দিরে পৌঁছে তিনি লেখেন, ‘মহাদেবের কৃপায় এবং আমার পূর্বপুরুষদের পুণ্যের ফলে আজ আমার ১২ জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন সম্পূর্ণ হল।’ কঙ্গনার মতে, শেষ কয়েকটি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের ক্ষেত্রে তিনি সচেতন ভাবেই পরিকল্পনা করেছিলেন। যেন নিজের মন থেকেই একটি অদৃশ্য ডাক পাচ্ছিলেন। ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ সম্পর্কে কঙ্গনা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, এই মন্দিরে শিব ও শক্তি একত্রে বিরাজমান, অর্ধনারীশ্বর রূপে। এখানকার শিবলিঙ্গ দিনের বেশির ভাগ সময় ঢাকা থাকে এবং মাত্র ১০ মিনিটের জন্য দর্শনের সুযোগ মেলে। সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শন করতে পেরেছেন, যা তাঁর কাছে একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। পোস্টের শেষে কঙ্গনা লেখেন, ‘হর হর মহাদেব’, যা তাঁর আবেগের গভীরতাকেই প্রকাশ করে।
এর আগেও কঙ্গনা বিভিন্ন জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি মহারাষ্ট্রেরই গিরীশনেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ (Grishneshwar Jyotirlinga) দর্শনে গিয়েছিলেন।

সেই সময় তিনি লিখেছিলেন, ‘অনেক জ্যোতির্লিঙ্গ আমি দু’-চার বার দর্শন করেছি। কিন্তু মহারাষ্ট্রে এই একটিই জ্যোতির্লিঙ্গ রয়েছে। এখানে আসতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শিবদর্শন মানুষের ইচ্ছায় নয়, ‘মহাদেবের ডাক’ এলেই সম্ভব। বস্তুত, কঙ্গনার এই বক্তব্য নতুন করে আধ্যাত্মিকতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি কি জীবনের অন্য অর্থ খুঁজছেন? নাকি এই তীর্থযাত্রার মাধ্যমে নিজের ভিতরের শক্তিকে আরও দৃঢ় করছেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের চাপ, লাগাতার বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের মধ্যেই কঙ্গনা আধ্যাত্মিকতায় আশ্রয় খুঁজছেন।
উল্লেখ্য, কঙ্গনা রানাওয়াত বরাবরই নিজেকে একজন স্পষ্ট ধর্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ধর্ম এবং আধ্যাত্মিক চর্চার কথা বলেছেন। ১২ জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন সেই বিশ্বাসেরই বাস্তব রূপ বলে মনে করছেন তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের মতে, এই যাত্রা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং আত্মশুদ্ধির এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। উল্লেখ্য, ভারতের সনাতন সংস্কৃতিতে ১২ জ্যোতির্লিঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বাস করা হয়, এই ১২টি স্থানে শিব নিজে জ্যোতিরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তাই জীবনে একবার হলেও এই ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করলে পূর্ণতা আসে, এমনটাই ধর্মীয় ধারণা। কঙ্গনা সেই পূর্ণতার পথেই হাঁটলেন কি না, তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। মিলিয়ে, কঙ্গনা রানাওয়াতের এই আধ্যাত্মিক সফর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত যাত্রা নয়, তা রাজনীতি, ধর্ম ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের এক অনন্য সংমিশ্রণ। অভিনয় জগতের তারকা থেকে সাংসদ হয়ে ওঠা এই নারীর জীবনের আর এক অধ্যায় যেন লেখা হল শিবভক্তির পথে। আর সেই অধ্যায়ের শেষে তাঁর নিজের কথাতেই স্পষ্ট, ‘মহাদেবের ডাক এসেছিল, তাই পৌঁছতে পেরেছি।’
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha pregnancy news, Sonakshi Sinha Dabangg Tour exit | অন্তঃসত্ত্বা সোনাক্ষী সিনহা? সলমনের ‘দাবাং ট্যুর’ থেকে বাদ পড়তেই বলিউডে তুঙ্গে জল্পনা




