online content blocking, Ministry of Home Affairs India | সহযোগ পোর্টালের দৌলতে অনলাইন কনটেন্টে কড়া নজর, এক বছরে ২,৩১২টি ব্লক আদেশ, সবচেয়ে বেশি নির্দেশ মেটা-কে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : অনলাইন দুনিয়ায় অবৈধ কনটেন্টের রাশ টানতে কেন্দ্রীয় সরকার যে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল সাম্প্রতিক তথ্যেই। গত বছরের অক্টোবরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs) ‘সহযোগ’ (Sahojog Portal) নামের যে বিশেষ পোর্টালটি চালু করেছিল, তার মাধ্যমে মাত্র এক বছরের মধ্যেই ২,৩১২টি ‘ব্লক’ আদেশ জারি হয়েছে। এই তথ্য উঠে এসেছে তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের উত্তরে। আবেদনটি করেছিল সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ (The Indian Express)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) -এর দফতরের অধীন এই পোর্টালের দায়িত্বে রয়েছে ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ বা আইফোরসি (Indian Cyber Crime Coordination Centre – I4C)। মূল লক্ষ্য ছিল, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অবৈধ, বিভ্রান্তিকর কিংবা অপরাধমূলক বিষয়বস্তু দ্রুত চিহ্নিত করে তা সরিয়ে ফেলা। পাশাপাশি, সাইবার অপরাধ দমনকারী তদন্তকারী সংস্থা ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলাও এই পোর্টালের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আরটিআই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৯টি অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে এই ‘ব্লক’ আদেশ পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্দেশ গিয়েছে মেটা (Meta)-র কাছে। হোয়াট্‌সঅ্যাপ (WhatsApp), ফেসবুক (Facebook) এবং ইনস্টাগ্রাম (Instagram), এই তিনটি প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে মোট ব্লক আদেশের ৭৮ শতাংশেরও বেশি পাঠানো হয়েছে মেটা-কে। সংখ্যার হিসেবে যা দাঁড়াচ্ছে ১,৮১৬টি আদেশ। পরিসংখ্যান আরও বলছে, শুধুমাত্র হোয়াট্‌সঅ্যাপই পেয়েছে ১,৩৯২টি ব্লক আদেশ। ফেসবুকের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা ২৫৫ এবং ইনস্টাগ্রামের ক্ষেত্রে ১৬৯। অর্থাৎ, ভারতের অনলাইন যোগাযোগ ও সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় অংশ জুড়েই সরকারি নজরদারি ও হস্তক্ষেপের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। মেটা ছাড়াও অন্যান্য বড় প্রযুক্তি সংস্থার দিকেও গিয়েছে ব্লক নির্দেশ। ইউটিউব (YouTube) পেয়েছে ১৭৬টি আদেশ, টেলিগ্রাম (Telegram) পেয়েছে ১২৩টি। গুগ্‌ল (Google) -এর কাছে পাঠানো হয়েছে ৯৩টি, অ্যাপ্‌ল (Apple) পেয়েছে ৪৩টি এবং অ্যামাজ়ন (Amazon) পেয়েছে ২৩টি ব্লক নির্দেশ। মাইক্রোসফ্‌ট (Microsoft) পেয়েছে ১০টি, লিঙ্কডইন (LinkedIn) দু’টি এবং স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat) পেয়েছে একটি ব্লক আদেশ।

আরও পড়ুন : Aamir Khan New Love | ‘৬০-এ দাঁড়িয়ে জীবনে ফের আলো এনেছে গৌরী’, নতুন প্রেম নিয়ে খোলামেলা আমির খান

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সংখ্যাগুলি প্রকৃত প্রভাবের তুলনায় অনেক কম প্রতিফলন। কারণ, একটি ব্লক আদেশে একটি লিঙ্ক নয়, একাধিক লিঙ্ক বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ থাকতে পারে। তার ইঙ্গিত আগেও মিলেছে। চলতি বছরের শুরুতে কর্নাটক হাই কোর্টে (Karnataka High Court) আইফোরসি জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে তারা বিভিন্ন ডিজিটাল সংস্থাকে ৪২৬টি নোটিস পাঠায়। কিন্তু সেই নোটিসগুলির আওতায় মোট ১ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি লিঙ্ক ও অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আরও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হল, সহযোগ পোর্টাল চালু হওয়ার আগে ও পরে ব্লক আদেশের সংখ্যার তুলনা। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় এক বছরে গড়ে দিনে একটি করে ব্লক আদেশ জারি হত। কিন্তু সহযোগ পোর্টাল চালু হওয়ার পর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে পরবর্তী এক বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দৈনিক গড়ে ছ’টিতে পৌঁছেছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে যে, নতুন পোর্টাল চালু হওয়ায় সরকারি সংস্থাগুলির কাজ অনেক দ্রুত ও সহজ হয়েছে।

এই এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল মে মাসের ‘সিঁদুর অভিযান’ এবং তার আশপাশের সময়কাল। ওই সময়ে ভারতের বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচার চালানো একাধিক কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্র। সন্দেহ করা হয়েছিল, এই অ্যাকাউন্টগুলির একটি বড় অংশ পাকিস্তান (Pakistan) থেকে পরিচালিত। সেই প্রেক্ষিতেই দিল্লি থেকে ব্লক নির্দেশ জারি করা হয়। ইলন মাস্ক (Elon Musk)-এর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X, পূর্বতন টুইটার) তখন দাবি করেছিল, তারা সরকারের কাছ থেকে আট হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ পেয়েছে। এক্স-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই তালিকায় কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বহু বিশিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টও ছিল। যদিও সরকারিভাবে সেই সব অ্যাকাউন্টের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ছবি : প্রতীকী

সরকারি সূত্রে খবর, সহযোগ পোর্টালই একমাত্র মাধ্যম নয়। কোনও কারণে পোর্টালে সমস্যা দেখা দিলে ইমেলের মাধ্যমেও ব্লক নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ফলে গত এক বছরে মোট ব্লক আদেশের প্রকৃত সংখ্যা এই আরটিআই তথ্যের তুলনায় আরও বেশি হতে পারে। উল্লেখ্য, এই পোর্টাল শুধু কেন্দ্রীয় সংস্থার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির তদন্তকারী সংস্থাও প্রয়োজনে সহযোগ পোর্টালের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে ব্লক আদেশ পাঠাতে পারে। এই আরটিআই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, মেটা, গুগ্‌ল, মাইক্রোসফ্‌ট, অ্যাপ্‌ল, অ্যামাজ়ন ও টেলিগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। তবে এই বিষয়ে কোনও সংস্থাই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সব মিলিয়ে, সহযোগ পোর্টালের পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ডিজিটাল দুনিয়ায় নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করতে কেন্দ্রীয় সরকার কোনওভাবেই পিছিয়ে নেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Saba Azad news, Hrithik Roshan girlfriend | সাবা আজাদের কড়া জবাব: ‘তারকার প্রেমিকা মানেই কাজের দরকার নেই’ এই মানসিকতা ভাঙতে হবে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন