Mamata Banerjee voter list controversy | ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা, এআই কারচুপির আশঙ্কা

SHARE:

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজি ইন্ডোরে তৃণমূলের কড়া বার্তা।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ছে। সেই উত্তাপ আরও এক ধাপ বাড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোরে দলের বুথস্তরের এজেন্টদের (BLA) নিয়ে দীর্ঘ সভা থেকে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এবং বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চক্রান্ত, বিজেপির এজেন্টদের দাপট, শুধু তা-ই নয়,  কৃত্রিম মেধা বা এআই (AI) ব্যবহার করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কার কথাও প্রকাশ্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : Bhawanipur SIR voter list | ভবানীপুরে ৪৫ হাজার ভোটার নাম ছাঁটাইয়ের ধাক্কা! এসআইআর তালিকা প্রকাশের পর কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে মমতা

রাজ্যে ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে শুরু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-এর দ্বিতীয় অধ্যায়। ভোটারদের শুনানির জন্য নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে দলীয় সংগঠনকে সতর্ক ও সক্রিয় করতে নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকেই আক্রমণাত্মক ভাষায় মমতা অভিযোগ করেন, ‘প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিজেপির অফিস থেকে যা নির্দেশ আসে, নির্বাচন কমিশনের অফিসে সেটাই বদলে দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, কমিশনের দফতরের ভেতরেই বিজেপির এজেন্ট বসে অনলাইনে ইচ্ছেমতো ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছে। প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় মমতার কণ্ঠে ক্ষোভ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘এমন নির্লজ্জ নির্বাচন কমিশন আমি জীবনে দেখিনি, দেখতেও চাই না।’ কমিশনের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে তিনি বার বার বলেন, এই প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ংকর। তাঁর মতে, ভোটার তালিকার সংশোধনের নামে পরিকল্পিত ভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ বছর রাজ্যে এসআইআর -এর কাজে কৃত্রিম মেধা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কিন্তু সেই প্রযুক্তিই যে বিপদের কারণ হতে পারে, তা নিয়েও সভা থেকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। উদাহরণ দিয়ে মমতা বলেন, ‘ধরুন আমার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দিতে গিয়ে দেখলাম, এআই-এ আর একটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে রাখা হয়েছে। আমার ভোটটা আমি দিতে পারলাম না, অন্য কেউ দিয়ে দিল।’ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘বুদ্ধি খরচ করুন।’ উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ তাড়াহুড়োর মধ্যে, অপরিকল্পিত ভাবে করা হচ্ছে, এই অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে সেই অভিযোগ আরও জোরালো করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র বিজেপির কথায় এই এসআইআর করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘তোমরা চক্রান্ত করেও কিচ্ছু করতে পারবে না।’

সম্প্রতি প্রকাশিত খসড়া তালিকায় বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলনেত্রীর। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘আরও দেড় কোটি নাম বাদ দিতে হবে, এটাই নাকি বিজেপির খোকাবাবুদের আবদার।’ বিভিন্ন ধরনের চালাকির মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘চালাকির দ্বারা মহৎ কাজ হয় না।’ নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে বানান বিভ্রান্তি, ঠিকানা পরিবর্তন এবং আসন পুনর্বিন্যাসের সমস্যার কথাও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কলকাতায় আগে ১০০টি ওয়ার্ড ছিল, পরে তা বেড়ে হয়েছে ১৪৪টি। এর ফলে বহু ভোটারের পুরনো ঠিকানা বদলে গিয়েছে। কিন্তু সেই বাস্তবতা বিবেচনা না করেই নাম বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। মমতার প্রশ্ন, ‘বিএলও-দের গালাগালি দেওয়ার আগে তাঁদের ঠিক মতো ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল?’

বাংলা ও ইংরেজিতে নামের বানানের পার্থক্যের কারণে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিয়ের পরে মহিলাদের পদবি পরিবর্তনের কারণেও নাম কাটা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি এই ধরনের হয়রানির জেরে একজন আত্মহত্যা করেছেন বলেও সভা থেকে উল্লেখ করেন মমতা। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘এর দায় কার? নির্বাচন কমিশন ৪৬ জন লোকের প্রাণ নিয়েছে।’ নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির ‘ক্রীতদাস’ বলে কটাক্ষ করে মমতা অভিযোগ করেন, কমিশনের নির্দেশিকা বার বার বদলানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, ২২ থেকে ২৪ বার নির্দেশিকা পরিবর্তনের ফলে বিএলও অ্যাপে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ২০০২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার খুঁজে বার করার কোনও উপযুক্ত অ্যাপ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কথায়, ‘এপিক নম্বরই মিলছে না। এটা কি ক্রিমিনাল অফেন্স নয়?’

কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই কেন্দ্রীয় কর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, ‘কে কোথায় কাজ করছেন, কোথায় থাকেন, সব ডিটেলস চাই।’

উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সিপিএমকেও (CPIM) নিশানা করেন মমতা। তাঁর দাবি, ২০০২ সালে বাম আমলে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই ভুলের মাশুল বামেদের দিতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভা থেকে দলীয় বিএলএ-দের জন্য বিস্তারিত দিকনির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটারদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। নাম বাদ পড়লেও ভোটার বাস্তবে থাকলে ফর্ম ৬ ও অ্যানেক্সচার ৪ পূরণ করে ইআরও-র কাছে জমা দিতে বলেন। পাশাপাশি শুনানির সময় ভোটারদের যেন অহেতুক হয়রানি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন।

এদিন, সভা চলাকালীন হঠাৎ মাইক বিভ্রাট হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এই মাইকে সমস্যা কেন হচ্ছে?’ তিনি প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। বস্তুত, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে ঝড় উঠেছে, নেতাজি ইন্ডোরের সভা তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার এই তীব্র আক্রমণ আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীক্ষ্ণ করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee on JIRAMJI Bill | শীতকালীন অধিবেশনে তীব্র বিতর্কের মাঝেই লোকসভায় পাশ ‘জিরামজি’ বিল, মনরেগা বদলের পথে নতুন গ্রামীণ রোজগার আইন ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন