সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি: অসমের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক পরিকাঠামোয় নতুন দিশা দেখাতে বৃহস্পতিবার একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত তাঁর বার্তা থেকে জানা যায়, শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার, এই চার স্তম্ভকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে অসম সরকার। এদিন অনুষ্ঠিত রাজ্য ক্যাবিনেটের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোয় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট অনুযায়ী, নামরূপ অ্যামোনিয়া-ইউরিয়া প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পমহল মনে করছিল, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সার উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। কেবিনেটের অনুমোদনের পর সেই সম্ভাবনা বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। প্রশাসনের এক শীর্ষ সূত্রের কথায়, ‘নামরূপ প্রকল্প চালু হলে কৃষিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা বাড়বে, পাশাপাশি হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও (Himanta Biswa Sarma) ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্রকল্প রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে নতুন অধ্যায় যোগ করবে। একই সঙ্গে কেবিনেট বৈঠকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ছিমু দাস (Simu Das) -এর সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক স্তরে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের মতে, এই ধরনের স্বীকৃতি সমাজে প্রতিভাকে উৎসাহিত করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘যোগ্যতা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।’
খিলঞ্জিয়া বা স্থানীয় পরিবারগুলির জন্য জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্তকেও রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। দীর্ঘদিন ধরেই অসমে জমি অধিকার নিয়ে বিতর্ক চলেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বার্তা দিল রাজ্য সরকার। একজন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনিক আধিকারিকের মতে, ‘এই উদ্যোগে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা বাড়বে।’ অন্যদিকে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সিআরপিএফ গ্রুপ সেন্টার স্থাপনের জন্য জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও এদিনের কেবিনেট বৈঠকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে উত্তর-পূর্বাঞ্চল বরাবরই সংবেদনশীল। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়বে এবং সন্ত্রাস দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের হাত আরও শক্ত হবে বলে মনে করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
এই সব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, বৃহস্পতিবারই আরেকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) রাজ্যের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বড়সড় পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর ঘোষণায় জানা যায়, অসম সরকার প্রদত্ত মোট নিয়োগের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪২,০২৯ জনে। লোকসেবা ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের গৃহ নির্মাণ ও নগর পরিক্রমা দপ্তরের অধীন ৪৩ জন নগর কারিগরি আধিকারিককে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে এই নিয়োগপত্র তুলে দেন এবং নবনিযুক্ত আধিকারিকদের শুভেচ্ছা জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে জানা যায়, প্রশাসনিক নৈতিকতার বার্তা। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, সকলেই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের কর্মজীবন এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং দেশ ও জনগণের প্রতি নিঃস্বার্থ সেবা প্রদান করবেন।’ এই মন্তব্যকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়, বরং প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ব্যাপক হারে নিয়োগের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘোষণাগুলির মাধ্যমে রাজ্য সরকার একদিকে যেমন উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরছে, অন্যদিকে তেমনই ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থানও শক্ত করতে চাইছে। শিল্প, কৃষি, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান, এই চারটি ক্ষেত্রেই একযোগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তা ভোটারদের কাছে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অসম ক্যাবিবিনেটের এই সিদ্ধান্তগুলি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের রূপরেখা স্পষ্ট করছে। নামরূপ প্রকল্প থেকে শুরু করে নিয়োগ বৃদ্ধি, সবকিছুই দেখাচ্ছে যে প্রশাসন দীর্ঘ পরিকল্পনার পথে হাঁটছে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তগুলির বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi West Bengal rally | আবহাওয়ার ধাক্কায় তাহেরপুরে পৌঁছতে পারলেন না, কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই ১৬ মিনিট বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী



