Narendra Modi West Bengal rally | আবহাওয়ার ধাক্কায় তাহেরপুরে পৌঁছতে পারলেন না, কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই ১৬ মিনিট বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

SHARE:

কলকাতা সফর শেষে রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নমস্কার’ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারি সফরে রাজনৈতিক বৈঠক এড়িয়ে এ বার কৌশলী বার্তা দিলেন তিনি।

শান্তনু পাত্র, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তাহেরপুর : নদীয়ার তাহেরপুরে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাকে ঘিরে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনিক বৈঠক ও রাজনৈতিক জনসভা মিলিয়ে প্রায় ৭৫ মিনিট মাঠে থাকার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। বিধানসভা ভোটের আগে এই সভা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রচারের আনুষ্ঠানিক শিঙা বাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষমেশ সমস্ত পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয় প্রতিকূল আবহাওয়া। ঘন কুয়াশার কারণে তাহেরপুরে নামতে না-পেরে কলকাতা বিমানবন্দরেই ফিরে আসে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। ফলে তাহেরপুরের বিশাল জমায়েত মোদীকে চোখে দেখার সুযোগ পেল না, পেল শুধু তাঁর কণ্ঠস্বর। কলকাতা বিমানবন্দরে বসেই ফোনে মাত্র ১৬ মিনিটের সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তাহেরপুরের সভাস্থলে তখন অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছতে না পারায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ছড়ায়। ভাষণের শুরুতেই এই পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চান নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, আবহাওয়ার জন্য সরাসরি মানুষের সামনে আসতে না পারার কষ্ট তাঁরও রয়েছে। পাশাপাশি, সভাস্থলে যাওয়ার পথে রেল দুর্ঘটনায় যেসব বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, এই সংক্ষিপ্ত ভাষণ রাজ্য বিজেপির অনেক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, তা নেতারাই স্বীকার করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) স্পষ্ট বলেন, ‘আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রধানমন্ত্রী তাহেরপুরে পৌঁছতে পারেননি, এতে আমরা কষ্ট পেয়েছি। আমাদের কর্মীরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।’ তবে একই সঙ্গে তিনি আশার কথাও শোনান। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি আবার নদীয়ায় আসবেন এবং খুব শিগগিরই নদীয়ার মানুষের মাঝেই উপস্থিত হবেন।

আসলে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সফর আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) শিলিগুড়ি পৌঁছতে পারেননি। একবার নিজেও বাগডোগরা থেকে সিকিম যেতে না পেরে মোবাইল ফোনে ভাষণ দিতে হয়েছিল নরেন্দ্র মোদীকে। শনিবারও প্রায় একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উড়ে তাহেরপুরে নামার চেষ্টা করলেও ঘন কুয়াশার কারণে হেলিকপ্টারকে ফিরে আসতে হয়। এরপর জল্পনা তৈরি হয়, প্রধানমন্ত্রী কি সড়কপথে তাহেরপুর যাবেন? কিন্তু সেটিও সম্ভব হয়নি। কারণ এই সফরের পরেই মোদীর গুয়াহাটিতে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে তিনি বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনালের উদ্বোধন করার কথা। সড়কপথে তাহেরপুর গেলে সেই কর্মসূচী পিছিয়ে যেত। সব দিক বিচার করেই শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকেই ফোনে ভাষণের সিদ্ধান্ত।  

সংক্ষিপ্ত ভাষণে মতুয়া সমাজ প্রসঙ্গে মোদী বলেন, ‘সমাজকল্যাণের ভাবনাকে মতুয়া সমাজ চিরকাল এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। হরিচাঁদ ঠাকুর কর্মের মর্ম দেখিয়েছেন, গুরুচাঁদ ঠাকুর কলম ধরিয়েছেন, বড়মা মাতৃত্বের আদর্শ দেখিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেককে আমার প্রণাম।’ পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘যাঁরা নির্যাতিত, যাঁরা শরণার্থী, তৃণমূল তাঁদের উপর অত্যাচার করে। সিএএ-র মাধ্যমে আমরা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিচ্ছি, অথচ তৃণমূল মিথ্যা প্রচার করে তাঁদের ভয় দেখাচ্ছে।’ ভাষণে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আগের একটি বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে (Bankim Chandra Chattopadhyay) ‘বঙ্কিমবাবু’ বলে সম্বোধন করেন এবং ‘বন্দে মাতরম’ -এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, ‘এই মাটি দেশকে দিয়েছে ঋষি বঙ্কিমবাবুর মতো মহাপুরুষকে, যিনি পরাধীন ভারতে বন্দে মাতরমের মাধ্যমে নতুন চেতনার জন্ম দিয়েছিলেন।’

উন্নয়নের প্রসঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, উনিশ শতকে বন্দে মাতরম ছিল দাসত্ব থেকে মুক্তির মন্ত্র, আর একুশ শতকে সেই বন্দে মাতরমকেই বিকশিত ভারতের প্রেরণা করতে হবে। তিনি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও এনডিএ -এর সাফল্যের কথা তুলে ধরে দাবি করেন, উন্নয়নই বিজেপির মূল শক্তি। তাঁর বক্তব্য, ‘বিহার জঙ্গলরাজকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন পশ্চিমবঙ্গেও যে মহাজঙ্গলরাজ চলছে, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় এসেছে।’ ‘একবার সুযোগ দিন’, এই আবেদনও শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সচেতন মানুষের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, একবার বিজেপিকে সুযোগ দিয়ে দেখুন। ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়লে কত দ্রুত উন্নয়ন হয়, নিজের চোখেই দেখবেন।’

ভাষণের শেষ দিকে নদিয়ায় দেখা ‘গো ব্যাক মোদী’ ব্যানার প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া দেন প্রধানমন্ত্রী। গণতন্ত্রে মতভেদের অধিকার স্বীকার করলেও তিনি বলেন, ‘গো ব্যাক মোদী বলা হচ্ছে, কিন্তু গো ব্যাক অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে না। যারা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে, তারাই তৃণমূলের আসল মুখ।’ সবশেষে নদিয়ার বৈষ্ণব ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে ‘জয় নিতাই’ বলে ভাষণ শেষ করেন নরেন্দ্র মোদী। চৈতন্য মহাপ্রভু ও নদিয়ার ভক্তি আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভাবনা আজও এখানকার মাটি, জল ও মানুষের মনে জীবন্ত।

আরও পড়ুন :

নরেন্দ্র মোদী, তাহেরপুর সভা, নদিয়া রাজনীতি, নদীয়া রাজনীতি, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ, মোদী ফোনে ভাষণ, আবহাওয়ার কারণে সভা বাতিল,

Narendra Modi Taherpur rally, West Bengal BJP, Modi phone speech, weather disruption rally, Nadia political meeting,

নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি, নদিয়া, তাহেরপুর, এসআইআর, মতুয়া সমাজ, বিধানসভা ভোটনরেন্দ্র মোদীর তাহেরপুর সভা, Narendra Modi West Bengal rally,

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন