Dense fog in Uttar Pradesh | ঘন কুয়াশায় ঢাকা উত্তরপ্রদেশ, আগ্রা থেকে গাজিয়াবাদ- দৃষ্টিসীমা প্রায় শূন্য, ঠাণ্ডায় নাজেহাল জনজীবন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ: শীতের দাপটে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বিস্তীর্ণ এলাকা বৃহস্পতিবার ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। আগ্রা (Agra), গাজিয়াবাদ (Ghaziabad), মথুরা (Mathura) এবং বাহরাইচ (Bahraich) সহ একাধিক শহরে ভোররাতে ও ভোরবেলায় দৃষ্টিসীমা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এর জেরে সড়ক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে দূরপাল্লার যাত্রী, সবাই পড়েন চরম ভোগান্তিতে। ঠাণ্ডা আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় রাজ্যজুড়ে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক। বিশেষ করে জাতীয় সড়কগুলিতে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনে কয়েক মিটার ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়াতে একাধিক এলাকায় পুলিশ ও ট্রাফিক কর্মীরা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নামেন। তবে তাতেও যাত্রীদের দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যায়নি।

আগ্রায় (Agra) তাজমহলের (Taj Mahal) আশপাশের এলাকাতেও ঘন কুয়াশার প্রভাব স্পষ্ট ছিল। ভোরে পর্যটকদের আনাগোনা তুলনামূলক কম দেখা যায়। স্থানীয় এক বাসচালক বলেন, ‘রাস্তায় নামলেই সামনে কিছু দেখা যাচ্ছে না। ধীরে চালানো ছাড়া উপায় নেই।’ একই চিত্র গাজিয়াবাদে (Ghaziabad) দেখা যায়, যেখানে দিল্লি-সংলগ্ন এলাকায় অফিসযাত্রীদের বড় অংশ সকাল সকাল বেরোলেও কুয়াশার কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। মথুরা (Mathura) ও বাহরাইচ (Bahraich) -এর মতো শহরগুলিতেও পরিস্থিতি প্রায় একই। গ্রামীণ এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেশি হওয়ায় কৃষিকাজে যুক্ত মানুষদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। মাঠে কাজ করতে গিয়ে দৃশ্যমানতার অভাবের কথা জানিয়েছেন একাধিক কৃষক। তাঁদের বক্তব্য, ভোরের দিকে কাজ শুরু করা গেলেও কুয়াশা কাটতে দেরি হওয়ায় স্বাভাবিক রুটিনে ব্যাঘাত ঘটছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরপ্রদেশে এই সময়ে ঘন কুয়াশা নতুন কিছু নয়। তবে চলতি শীতে কুয়াশার স্থায়িত্ব ও ঘনত্ব কিছুটা বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। ঠাণ্ডা বাতাস, আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে ভোরের দিকে কুয়াশা জমে উঠছে। এক আবহাওয়া বিশ্লেষকের কথায়, ‘রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং বাতাসের গতি কম থাকায় কুয়াশা ঘন হচ্ছে। সকাল গড়ালেও অনেক জায়গায় তা সহজে কাটছে না।’ এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহণ ব্যবস্থার উপর। রাজ্য সড়ক পরিবহণ নিগমের (State Road Transport Corporation) এক আধিকারিক জানান, ভোরের দিকে বহু বাস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ছেড়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকেও সতর্কতার সঙ্গে চলতে বলা হয়েছে। রেল চলাচলেও কিছু ক্ষেত্রে ধীরগতির খবর মিলেছে, যদিও বড় কোনও বিপর্যয়ের তথ্য নেই।

শীতের সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা জনস্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলছে বলে মত সাধারণ মানুষের। ঠাণ্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ভোরের দিকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলাই ভাল।প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, কুয়াশার সময় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে গতি কম রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে ফগ লাইট ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি, জরুরি না হলে ভোরের দিকে দীর্ঘ যাত্রা এড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এক জেলা প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, ‘নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কুয়াশা কাটলেই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে।’ প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ঘন কুয়াশা ও শীতের যুগলবন্দিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আপাতত ব্যাহত। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনেও ভোরের দিকে কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে যাত্রীদের সতর্ক থেকে চলাফেরা করার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই এখন একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Delhi NCR dense fog | ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকল দিল্লি-এনসিআর, দৃষ্টিসীমা কমে ব্যাহত সড়ক ও রেল চলাচল, সতর্ক প্রশাসন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন